প্রাচীন বিশ্বের রাজনীতি দীর্ঘকাল নিয়ন্ত্রণ করেছে দুই পরাশক্তি: রোমান বাইজেন্টাইন আর পারস্যের সাসানীয় সাম্রাজ্য। আধুনিক ইরান, ইরাক ও মধ্য এশিয়ার বিশাল অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত সাসানীয় সাম্রাজ্য প্রায় চার শতাব্দী ছিল অপরাজেয়। দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) শাসনামলে দুটি লড়াই সেই সাম্রাজ্যের পতন নিশ্চিত করে, ইরাকের কাদিসিয়া আর ইরানের পাহাড়ি প্রান্তর নাহাওয়ান্দ। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় ইতিহাসগ্রন্থের সূত্র ধরে সেই কাহিনি বলা হয়েছে।
খলিফা আবু বকরের (রা.) সময় শুরু হওয়া ইরাক অভিযানে মুসলিমরা মেসোপটেমিয়ার সমভূমিতে একের পর এক জয় পেলে পারস্যের তরুণ সম্রাট তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ সেনাপতি রুস্তমের নেতৃত্বে প্রায় এক লাখ বিশ হাজার সৈন্য পাঠান। মদিনা থেকে খলিফা ওমর (রা.) সেনাপতির দায়িত্ব দেন সাহাবি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে (রা.)। হিজরি ১৬ সনে কাদিসিয়ায় দুই বাহিনী মুখোমুখি হয়। যুদ্ধের আগে শান্তি আলোচনায় সাহাবি রিবয়ি ইবনে আমির (রা.) পারস্যের রাজকীয় তাঁবুতে গিয়ে ইসলামের দাওয়াতের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন, যা তাবারির ইতিহাসগ্রন্থে বর্ণিত আছে।
চার দিনের লড়াইয়ের শুরুতে পারস্যের হাতির বহর মুসলিম বাহিনীর ঘোড়াগুলোকে বিশৃঙ্খল করে দেয়। পরে মুসলিম যোদ্ধারা কৌশল পাল্টে হাতির চোখ ও শুঁড় লক্ষ্য করেন, আহত হাতি ফিরে গিয়ে নিজেদের বাহিনীকেই পিষ্ট করে। শেষ রাতটি ইতিহাসে ‘লাইলাতুল হারির’ নামে পরিচিত। ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়ার বরাতে লেখায় বলা হয়েছে, ভোরে রুস্তম নিহত হন; ৩০ হাজারের বেশি পারসিক সৈন্য এবং সাড়ে আট হাজার মুসলিম যোদ্ধা প্রাণ হারান।
কাদিসিয়ার পর রাজধানী আল-মাদায়েনের (বর্তমান ইরাকের তিসফুন) পথ খুলে যায়। সাদ (রা.) টাইগ্রিস পার হয়ে শহরটি অবরোধ করলে পারসিকরা শহর ছেড়ে চলে যায়, আর মুসলিমরা বিখ্যাত রাজপ্রাসাদ আইওয়ানে কিসরায় প্রবেশ করেন। সম্রাট ইয়াজদেগার্দ হুলওয়ান, রায়, ইসফাহান, কিরমান হয়ে খোরাসানে পালিয়ে যান।
খোরাসান থেকে তিনি শেষবারের মতো গোত্রপ্রধানদের ডাক দিলে হিজরি ২১ সনে নাহাওয়ান্দে প্রায় দেড় লাখ পারসিক সৈন্য জড়ো হয়। মদিনার শুরা বৈঠকে সেনাপতি নির্বাচিত হন নুমান ইবনে মুকররিন আল-মুজানি (রা.)। পরিখা আর লোহার কাঁটায় সুরক্ষিত শত্রুকে খোলা উপত্যকায় টেনে আনতে মুসলিম অগ্রবর্তী দল পিছু হটার ভান করে। লড়াইয়ে নুমান (রা.) শহীদ হন; হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.) খবর গোপন রেখে নেতৃত্ব দিয়ে লড়াই শেষ করেন।
এর পর পারস্য আর কোনো কেন্দ্রীয় বাহিনী গড়তে পারেনি; মুসলিম ঐতিহাসিকেরা নাহাওয়ান্দকে বলেছেন ‘ফাতহুল ফুতুহ’, বিজয়ের মহাবিজয়। লেখাটিতে তাবারি, ইবনে কাসির ও ইবনুল আসিরের গ্রন্থের খণ্ড ও পৃষ্ঠা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে পাঠক মূল সূত্র মিলিয়ে নিতে পারেন। লেখাটি প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের।
ছবি: অজ্ঞাত আলোকচিত্রী (১৮৬৪) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)