বছরের পর বছর বাছাই করে গড়ে তোলা উন্নত জাতের প্রজনন ষাঁড় হঠাৎ মারা গেলে তার বৃদ্ধি, প্রজননক্ষমতা ও পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার গুণও হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পরও ষাঁড়ের দেহ থেকে সজীব শুক্রাণু সংগ্রহ করে হিমায়িত রাখা সম্ভব, লিখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি বিভাগের থাবাং লুথার মাশিলো (Thabang Luther Mashilo) এবং কৃষি গবেষণা পরিষদের মাসিন্দি লটাস এমফাফাথি (Masindi Lottus Mphaphathi)।
পদ্ধতিটির নাম মৃত্যু-পরবর্তী এপিডিডাইমাল শুক্রাণু সংগ্রহ ও হিমায়ন। অণ্ডকোষের সঙ্গে লাগানো যে অংশে পরিপক্ব শুক্রাণু জমা থাকে, সেই এপিডিডাইমিস থেকে সরাসরি শুক্রাণু নেওয়া হয়; জীবিত ষাঁড় থেকে কৃত্রিম যোনি বা বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে বীজ সংগ্রহের দরকার পড়ে না। অণ্ডকোষ ঠিকভাবে সামলালে মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টা, কখনো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত শুক্রাণু সজীব থাকে, যা পরে কৃত্রিম প্রজনন বা টেস্টটিউব পদ্ধতিতে (আইভিএফ) কাজে লাগানো যায়।
লেখকদের মতে, গবেষণা ও মাঠের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে এই শুক্রাণু হিমায়ন ও গলানোর পরও নিষেকক্ষমতা ধরে রাখে, তা থেকে সুস্থ ভ্রূণ ও বাছুর জন্মায়। প্রচলিত পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা বীজের তুলনায় গর্ভধারণের হার কিছুটা কম হতে পারে, তবে পুরো জাত হারানোর বিকল্পের সামনে উন্নত ষাঁড়ের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য সাধারণত মেনে নেওয়ার মতো।
সাফল্য নির্ভর করে গতি ও দক্ষতার ওপর। লেখকেরা মৃত্যুর ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশিক্ষিত লোক দিয়ে শুক্রাণু সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন, আর বিপদের আগেই পশুচিকিৎসক বা প্রজনন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে একটি নিয়মাবলি ঠিক করে রাখতে বলেছেন। দুর্ঘটনা, লড়াই, বজ্রপাত, রোগ বা হঠাৎ বিপাকজনিত সমস্যায় ষাঁড় মারা যায়, প্রায়ই বীজ সংগ্রহের আগেই।
তাঁদের যুক্তি, উপকরণের খরচ বাড়ছে এবং টেকসই গবাদিপশু দরকার, তাই স্থানীয় পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া জাত রক্ষা করা জরুরি; প্রমাণিত ষাঁড় হারালে জাত উন্নয়ন ধীর হয় এবং দামি বদলি ষাঁড় বা আমদানি করা বীজের ওপর নির্ভরতা বাড়ে।
সূত্র: Farmers Weekly South Africa




মন্তব্য
(০)