ক্যানসার শব্দটি শুনলেই আতঙ্ক তৈরি হয়, কিন্তু আতঙ্কের বদলে দরকার সঠিক ধারণা, সচেতনতা আর সময়মতো পদক্ষেপ। আমার দেশে প্রকাশিত নিবন্ধে ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ লিখেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৪ লাখ নারী নতুন করে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় সাত লাখ মারা গেছেন। বাংলাদেশে অজ্ঞতা, সামাজিক সংকোচ আর পরীক্ষায় দেরির কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হতে সময় লাগে, অথচ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে নিরাময় সম্ভব।
স্তনের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে গুটি বা টিউমার তৈরি হতে পারে, তবে প্রতিটি গুটিই ক্যানসার নয়। চিকিৎসকের মতে, স্তন ক্যানসারের একক কোনো কারণ নেই; বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, বংশগত জিনের পরিবর্তন, প্রজনন ও হরমোন-সংক্রান্ত বিষয় এবং জীবনযাপনের কিছু উপাদান ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ঝুঁকি থাকলেই ক্যানসার হবে এমন নয়, আবার পরিচিত ঝুঁকি না থাকলেও রোগ হতে পারে।
মা, বোন বা মেয়ের স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে, বিশেষ করে পরিবারে একাধিক জনের অল্প বয়সে স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হলে ঝুঁকি মূল্যায়ন জরুরি। মেনোপজের পর অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এবং অ্যালকোহল ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তাঁর পরামর্শ: স্বাস্থ্যকর ওজন ও নিয়মিত শরীরচর্চা, ভারসাম্যপূর্ণ খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম আর মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন হরমোনভিত্তিক ওষুধ, বিশেষ করে মেনোপজ-সংক্রান্ত হরমোন, ব্যবহার করা উচিত নয়; সম্ভব হলে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় উৎসাহ দিতে হবে। স্তনের আকার, আকৃতি, ত্বক বা স্তনবৃন্তে নতুন পরিবর্তন, গুটি কিংবা অস্বাভাবিক নিঃসরণ দেখা দিলে ভয় না পেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ছবি: Bill Branson, National Cancer Institute / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আমার দেশ




মন্তব্য
(০)