আগামী ৫০ বছরে বর্তমান কৃষিজমিতেই ব্রাজিল উৎপাদন দ্বিগুণ করতে পারে, মূলত ফসলের রোগ ও পোকা জৈব পদ্ধতিতে দমন করে। এমনটাই মনে করেন সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কার্লোস আলবার্তো লাবাতে (Carlos Alberto Labate)।
বিশ্ববিদ্যালয়টি জেনিকা (Genica) নামের একটি কৃষি জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, যা ২০২৫ সালে ১০ বছর পূর্ণ করেছে। জেনিকা এমন ব্যাকটেরিয়ার জাত খুঁজে বের করে, যা ফসলকে রোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং রাসায়নিক বালাইনাশকের বিকল্প হতে পারে। লাবাতে বলেন, ‘জেনিকায় আমরা মাটির স্থানীয় অণুজীবকে কাজে লাগাচ্ছি।’
ক্রান্তীয় অঞ্চলে এর প্রয়োজন বেশি। ব্রাজিলের আবহাওয়ায় একই জমিতে বছরে দুটি ফসল হয়, সাধারণত সয়াবিনের পর দ্বিতীয় মৌসুমের ভুট্টা, তারপর ডাঁটায় গরু চরে। কিন্তু পোকা ও রোগ মেরে ফেলার মতো শীত না থাকায় ফসল সুরক্ষাই বড় দুশ্চিন্তা।
প্রায় ৪০ বছর আগে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া লাবাতে বলেন, তখন বড় যন্ত্রে মাটি তৈরি করতে শেখানো হতো, পরে তারা বুঝেছেন ক্রান্তীয় কৃষিতে তা ভুল। তার ভাষায়, ‘মাটি রক্ষায় ন্যূনতম চাষই করতে হবে।’ ক্রান্তীয় পরিবেশে চাষ শিখতে শিখতেই ব্রাজিলের উৎপাদন বেড়েছে বলে জানান তিনি।
‘বন উজাড় নয়, নিবিড়করণ’ স্লোগানের কথা তুলে তিনি বলেন, ব্রাজিলে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি হেক্টর জমিতে চাষ হয়, আর অন্তত ১৬ কোটি হেক্টর কম উৎপাদনশীল চারণভূমি আছে, যার ৫ থেকে ৭ কোটি হেক্টর নতুন প্রযুক্তিতে উন্নত করা সম্ভব। ‘আমাজনে না গিয়েও ব্রাজিলের উৎপাদন বাড়ানোর সীমা নেই,’ বলেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মেনে নিয়েও লাবাতে মনে করেন, ক্রান্তীয় কৃষির এই জ্ঞান আফ্রিকাকেও দেওয়া যায়, আর উদ্ভিদের রোগ ব্যবস্থাপনার নতুন প্রযুক্তি উৎপাদন সক্ষমতা ‘দ্বিগুণ’ করতে পারে।
প্রতিবেদনটি এগ্রিল্যান্ডের জন্য লিখেছেন ব্রেফনি ও’ব্রায়েন, যিনি ব্রাজিল সফরে বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘুরে দেখেন।
ছবি: Uaequals42 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Agriland




মন্তব্য
(০)