ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় আমন চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এবছর আদৌ আমন আবাদ করতে পারবের কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই তাদের। প্রতিটি ক্ষণ বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন উপজেলার কৃষকরা।
জানা গেছে, বর্ষাকালে মূলত বৃষ্টি পানি দিয়েই কৃষকরা রোপা আমন চাষ করে থাকেন। কবে চলতি বছর জুলাই শেষ হয়ে আগস্ট আসলেও বৃষ্টির দেখা নেই। এতে আমন চাষিরা পড়েছেন মহাবিপাকে। বৃষ্টির অভাবে ধান লাগানো তো দূরের কথা, অধিকাংশ কৃষক জমিই তৈরি করতে পারেননি। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে মৌসুমি বৃষ্টি না হওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের ভূগর্ভের পানি উত্তোলন করে জমি তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের কৃষক মো. মোশারফ হোসেন জানান, প্রতিবছর আমন মৌসুমে প্রায় এক একর জমিতে ধান চাষ করেন তিনি। কিন্তু গত দু-তিন বছর মৌসুমি বৃষ্টি না হওয়ায় রোপা আমন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এখনো জমি তৈরি করতে পারেননি। তার এলাকার অধিকাংশ কৃষকই বৃষ্টি না হওয়ায় চিন্তিত। অথচ এখন রোপা আমনের ভরা মৌসুম চলছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র তাপদাহে খরায় জমি ফেটে চৌচির। ভরা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির দেখা নেই। কিছু কিছু জায়গায় রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়েছে আমনের চারা। জমি চাষ, শ্রমিকের মজুরি, তেল, সার ও কীটনাশকের দামবৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচ। গুটিকয়েক কৃষক মেশিনের সাহায্যে পানি সেচ দিয়ে ধান রোপণ করছেন। কিন্তু জমিতে পানি দেওয়ার সঙ্গেই আবার জমি শুকিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বাবুল ভৌমিক, সাহেরখালী ইউনিয়নের আব্দুস সালামসহ অনেকেই জানান, এবছর বৃষ্টি না হওয়ায় শ্যালো মেশিন ও বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৯ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চার ভাগের এক ভাগ জমিতে ধান লাগানো হয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম বলেন, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমন আবাদ শুরু হয়ে থাকে এবং আগস্টের শেষদিকে ধান লাগানো শেষ হয়। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় জুলাই মাস শেষে হয়ে আগস্ট শুরু হলেও লক্ষ্যমাত্রার চার ভাগের দুই ভাগ জমিতেও আমন আবাদ করা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, আশা করছি, বৃষ্টি শুরু হলে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আমন ধান রোপণ শেষ হয়ে যাবে। কিছু কিছু এলাকায় সেচের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।





মন্তব্য
(০)