সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৯%বাতাস ১২ কিমি/ঘ

ভেস্তে গেছে হাতি তাড়ানোর বৈদ্যুতিক বেড়া

শেরপুরে বন্যহাতি ঠেকাতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের প্রথম সোলার ফেন্সিং (বৈদ্যুতিক বেড়া) প্রকল্প ভেস্তে গেছে । বাস্তবায়নের মাত্র চার মাসেই প্রকল্পের ব্যাটারি অকেজো এবং দীর্ঘদিন পরিচর্যা ও দেখভাল না থাকায় চুরি হয়ে গেছে বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি।

এগ্রোটেক

শেরপুরে বন্যহাতি ঠেকাতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের প্রথম সোলার ফেন্সিং (বৈদ্যুতিক বেড়া) প্রকল্প ভেস্তে গেছে । বাস্তবায়নের মাত্র চার মাসেই প্রকল্পের ব্যাটারি অকেজো এবং দীর্ঘদিন পরিচর্যা ও দেখভাল না থাকায় চুরি হয়ে গেছে বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি।

বৈদ্যুতিক বেড়া নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে, ব্যাটারি নয় বরং বিভিন্ন সময় বেড়ার তারে গুল্মলতা আঁকড়ে ধরছে, সৃষ্টি হচ্ছে শর্টসার্কিট। এসব কারণেই কাজ করছে না বৈদ্যুতিক বেড়া।

তাদের অভিযোগ, সীমান্তে স্থানীয়দের অসহযোগিতা আর আগ্রহ না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের অল্প দিনেই অকেজো হয়েছে বৈদ্যুতিক বেড়া।

তবে বন বিভাগের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর রক্ষণাবেক্ষণে লোক নিয়োগ না দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

আরো পড়ুন- নানা সংকটে শেরপুরের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো, সেবাবঞ্চিত দরিদ্ররা

হাতির উপদ্রব থেকে বাঁচতে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকার আদলে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী সীমান্তের ১৩ কিলোমিটারজুড়ে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে তার দিয়ে বেড়া নির্মাণ করে বন বিভাগ। ৯১ লাখ টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ঢাকার নিউ ন্যাশন সোলার লিমিটেড নামের এক প্রতিষ্ঠান।

বুয়েটের প্রতিনিধি দল বৈদ্যুতিক বেড়া পরিদর্শন ও প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্টার মামুন অর রশীদ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্পূর্ণ কাজ বুঝে নেন। এর মাত্র চার মাস পরই ত্রুটি দেখা দেয় বৈদ্যুতিক বেড়ায়।

বন বিভাগের তথ্য পেয়ে নিউ ন্যাশন সোলার লিমিটেডের একটি প্রতিনিধি দল পরে পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে স্থানীয়দের অসহযোগিতা, দক্ষ ইলেকট্রেশিয়ান না থাকা, নিয়মিত পরিচর্যার অভাব ও গুল্মজাতীয় গাছের কারণে বৈদ্যুতিক বেড়ার ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় ৩০ বছর সীমান্তবাসী মশাল জ্বালিয়ে ও ঢাকঢোল পিটিয়ে হাতি তাড়াতেন। বিদ্যুতের বেড়া নির্মাণের ফলে প্রথম দিকে এর সুবিধা অনেকে ভোগ করেছেন। কিন্তু বছর না যেতেই বৈদ্যুতিক বেড়া অকেজো হয়ে পড়ে। পাঁচ বছর ধরে এই বেড়া এমনই পড়ে আছে। কোনো কাজেই আসে না। সরকারের কোটি টাকা অযথা নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত এই বেড়া আবার ঠিক করা হোক।

আরো পড়ুন- শেরপুরে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব মিটবে কিসে?

স্থানীয় বিমল কোচ বলেন, সরকার এত টাকার একটা প্রজেক্ট করে দিয়েছে, কিন্তু কোনো দক্ষ লোক রাখেনি। এ জন্য বৈদ্যুতিক বেড়া কোনো কাজে আসছে না। ফলে সীমান্তে বসবাসরত লক্ষাধিক মানুষ আবারও হাতির আক্রমণে জীবন ও ফসল হারানোর শঙ্কায় দিন পার করছে।

রঞ্জিত সাংমা বলেন, বৈদ্যুতিক বেড়ায় ব্যবহৃত ব্যাটারি মেরামত এবং এর রক্ষণাবেক্ষণে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না করলে এটি কোনো কাজে আসবে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করলে সীমান্তের মানুষ বন্যহাতির কবলে পড়ে ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হবে।

ওই সময় দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বৈদ্যুতিক বেড়া নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই দ্রুত ভেস্তে গেছে প্রকল্পটি। তাদের সময়মতো সব বিল পরিশোধের পরও এ বিষয়ে তারা কোনো খোঁজ নেয়নি। তাদের কয়েক দফায় চিঠি দিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকার নিউ ন্যাশন সোলার লিমিটেডের পরিচালক শাহ আহসান হাবিব বাবু বলেন, বৈদ্যুতিক বেড়া এবং এর যন্ত্রাংশ সঠিকভাবে পরিচালনা না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষ লোক নিয়োগ না দেওয়ায় দীর্ঘদিন অকার্যকর ছিল সোলার। পরে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আরো পড়ুন- শেরপুরে দখল হচ্ছে বনভূমি, উজাড় হচ্ছে গারো পাহাড়

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বুয়েট টেস্টের রিপোর্ট, তৎকালীন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র রায় স্বাক্ষরিত সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ কাজ বুঝে পাওয়ায় সন্তোস প্রকাশের চিঠির কপি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বন বিভাগকে চিঠি দিয়ে বৈদ্যুতিক বেড়া রক্ষণাবেক্ষণে স্থায়ীভাবে ইলেকট্রিশিয়ান নিয়োগের মতামতও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বন বিভাগ জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পেড়েছে।

শেরপুর বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তা রক্ষণাবেক্ষণে লোক নিয়োগ না দেওয়ায় প্রকল্পের এমন দুরবস্থা হয়েছে। তবে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মোল্ল্যা রেজাউল করিম।

বন বিভাগের তথ্য মতে, শেরপুর সীমান্তের তিন উপজেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার হাতির বিচরণক্ষেত্র। হাতির আক্রমণে জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে মারা পড়েছে ২৮ হাতি।

এফএ/এএইচ/এমএস

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

ব্রাজিলের Sibium Analytics কিনে আখ ও জৈব জ্বালানিতে পা রাখল xFarm

সুইজারল্যান্ডের খামার ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি কোম্পানি xFarm Technologies ব্রাজিলের Sibium Analytics অধিগ্রহণ করেছে; এর মাধ্যমে আখ ও জৈব জ্বালানি খাতে ঢুকল কোম্পানিটি, আর তার আওতা বাড়ল বিশ্বের ছয় লাখের বেশি খামারের ২ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর জমিতে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফসল

ক্যামেরায় সয়াবিনের রোগ ধরা পড়ে দেরিতে, লক্ষণের আগেই সংকেত চান InnerPlant-এর বিজ্ঞানীরা

InnerPlant-এর দুই বিজ্ঞানীর মত, ড্রোন, ক্যামেরা বা এআই—সবই সয়াবিনের ছত্রাক রোগ ধরে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরে, যখন স্প্রে করার সময় পেরিয়ে গেছে; তাঁদের প্রস্তাব, সংক্রমণের প্রায় ১০ দিন আগেই সংকেত দিতে পারে এমন গাছ।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()