কয়েক মাসের টানা বৃষ্টিতে যশোরের ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ২০০ গ্রাম প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি, জানিয়েছে সমকাল। এমন পরিস্থিতিতে ৫ অক্টোবর ভবদহ দিবসে পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।
যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলার নিম্নাঞ্চল নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। অভয়নগরের ভবানীপুরে শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু পলি পড়ে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্যতা হারিয়েছে; ফলে বৃষ্টির পানিতে বিল উপচে গ্রাম ডুবছে।
বুধবার যশোরে সংবাদ সম্মেলনে কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ বলেন, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কার চললেও জোয়ারাধার বা টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু না হওয়ায় সেই টাকা অপচয় হওয়ার আশঙ্কা আছে, কারণ খননের পর নদী দ্রুত পলিতে ভরে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী চার মাসের মধ্যে, মাঘীপূর্ণিমার আগে একটি বিলে টিআরএম চালু এবং আমডাঙ্গা খাল দ্রুত প্রশস্ত ও খনন না করলে দুর্ভোগ কাটবে না বলে তিনি মনে করেন।
কমিটির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে আছে মাঘীপূর্ণিমার আগে কার্যকর টিআরএম চালু এবং আমডাঙ্গা খালের পুনর্খনন, প্রশস্তকরণ ও জমি অধিগ্রহণের বাধা দূর করা। চলতি মৌসুমে দ্রুত পানি সরিয়ে জমি আবাদের উপযোগী করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর কাছে ১০টি জরুরি পদক্ষেপও চেয়েছে কমিটি; এর মধ্যে আছে কয়েকটি সেতুর পাশের বাঁধ ও নিচের বাধা অপসারণ, ভবদহের ২১ গেটের লোহার বেড়া সরানো এবং টেকা সেতু থেকে বাকি চার কিলোমিটার ভাসমান এক্সকাভেটরে দ্রুত খনন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ছয়টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার পুনর্খননের কাজ চলছে। এবার ভবদহ বিলে পানি প্রায় তিন ফুট বেড়েছিল; ২১ ভেন্টের ভবদহ স্লুইসগেটের সব কপাট খোলা আছে, খুব দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে তিনি জানান।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)