বেলারুশের ৩০ হাজার টন পটাশ সারের একটি চালান ১৪ অক্টোবরের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স বন্দরে পৌঁছানোর কথা। ৫ অক্টোবর নিশ্চিত হওয়া জাহাজ চলাচলের তথ্যের বরাতে বাণিজ্য গণমাধ্যম জানাচ্ছে, চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের প্রথম চালান এটি। দানাদার মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) ১৫ সেপ্টেম্বর সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছের রুশ বন্দর ব্রোনকা থেকে তুলেছে বেলারুস্কালি (Belaruskali) ও বেলারুশিয়ান পটাশ কোম্পানি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞায় লিথুয়ানিয়ার ক্লাইপেদা বন্দর দিয়ে, যা বেলারুশের প্রচলিত পথ, এখনো পটাশ পাঠানো যায় না।
ধাপে ধাপে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর এ চালান। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জেনারেল লাইসেন্স ১৩ জারি করে বেলারুস্কালি, বেলারুশিয়ান পটাশ কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোরোজকভিতের সঙ্গে লেনদেনের অনুমতি দেয়; ২০২৬ সালের ২ মার্চ তা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়। বেলারুশ ১২০ জনের বেশি রাজবন্দি মুক্তি দিতে রাজি হওয়ার পর এ ছাড় আসে।
সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন ছাড়মূল্যে বেলারুশ থেকে বড় পরিমাণ পটাশ কেনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তিনি কানাডার সারের ওপর কঠোর শুল্কের হুমকি দিয়েছেন।
সরবরাহের হিসাবে চালানটি ছোট। যুক্তরাষ্ট্রের পটাশ আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশ আসে কানাডা থেকে, বছরে যার পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন টন। ২০২১ সালের আগে বেলারুশ বছরে গড়ে প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার টন পটাশ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাত। কানাডার পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পটাশ মজুত বেলারুশের, নিষেধাজ্ঞার আগে বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসত সেখান থেকে।
বাণিজ্য গণমাধ্যমে উদ্ধৃত বিশ্লেষকেরা মনে করেন, রুশ বন্দর দিয়ে পাঠানোর বাড়তি ভাড়া আর লেনদেনের ঝুঁকি নিতে রাজি ক্রেতা কম থাকায় বেলারুশ শিগগির কানাডার চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে পারবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের মতো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেনি।
চার বছর ধরে বেলারুশের আংশিক অনুপস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বৈশ্বিক পটাশ বাজারে পশ্চিমা ক্রেতাদের কাছে বেলারুশের পণ্য স্থায়ীভাবে ফিরলে একটি সরবরাহপথ আবার খুলবে, যা কানাডা ও রাশিয়ার উৎপাদকেরা এতদিন ভাগ করে নিয়েছিল।
ছবি: Homoatrox / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার


মন্তব্য
(০)