মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাল্লা গ্রামের একটি বাড়ি এলাকায় ‘পাখিবাড়ি’ নামে পরিচিত। বাড়ির দক্ষিণের রাস্তা লাগোয়া হাকালুকি হাওরের কৈয়ারকোনা বিল। দিনভর বিলে মাছ ধরে কয়েক হাজার পানকৌড়ি ও বক রাতে এসে এই বাড়ির গাছে আশ্রয় নেয়।
প্রায় আড়াই একরের বাড়িটি হিজল, করচ, বরুণ, কড়ই ও কদমগাছে ঢাকা। প্রতিটি ডালে ছানাসহ বাসা। মা-বাবা পাখি বিল থেকে মাছ আনলেই ছানাদের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়। উঠান, ঘরের চাল আর গাছের পাতা পাখির মলে সাদা, বাতাসে তীব্র গন্ধ।
বাড়িটি প্রয়াত মনোহর আলী মাস্টারের। প্রতিবেশীদের আপত্তি সত্ত্বেও তিনি পাখিদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাঁর ছেলে আক্তার আহম্মদ শিবু জানান, ২০০৯ সালে মৃত্যুর আগে বাবা বলে গিয়েছিলেন, ‘তোমাদের সঙ্গে পাখিরাও এ বাড়ির উত্তরাধিকার।’ শিবু ও তাঁর ভাই স্বপন এখন পরিবার নিয়ে এখানেই থাকেন।
২০১৯ সালে পরিবারটি পরিবেশ সংরক্ষণে জাতীয় পদক পায়। তবে তাঁদের অভিযোগ, পুরস্কারের অর্থের একাংশ তাঁরা পেয়েছেন, বাকিটা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হাতে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ২০২৩ সালে পাখিবাড়ির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও কোনো কাজ তাঁরা দেখেননি।
সমস্যা বাড়ছে গাছ নিয়েও। অতিরিক্ত পাখির ভারে অনেক পুরোনো গাছ ভেঙে পড়েছে। পুরোনো গাছ পড়ে গেলে পাখিরা যাতে আশ্রয়হীন না হয়, সে জন্য এখনই নতুন গাছ লাগানো দরকার বলে লেখক মনে করেন।
হাকালুকি হাওরে মেছো বিড়াল সংরক্ষণ কার্যক্রম তদারকিতে গিয়ে গত ২৯ আগস্ট পাখিবাড়ি ঘুরে এসে প্রথম আলোয় এ লেখা লিখেছেন একজন সংরক্ষণকর্মী। তাঁর প্রশ্ন, পাখির প্রতি এক পরিবারের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কি এখন তাদের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর আইন-বিধি তৈরি ছাড়া আমাদের কি কিছুই করার নেই।
ছবি: লেখক, প্রথম আলো
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)