প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৭ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু বরিশালের মৎস্য বিভাগ এবার অভিযানে নামছে আগের তুলনায় অনেক কম টাকায়: যে প্রকল্পের অর্থে অভিযানের বড় অংশের খরচ মেটানো হতো, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, আর জ্বালানি তেলের দামও চড়া।
বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক কামরুল হাসান জাগো নিউজকে জানান, ইলিশ সংরক্ষণের ওই প্রকল্প থেকে প্রতিটি উপজেলায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হতো। এখন রাজস্ব খাত থেকে উপজেলাপ্রতি মিলবে মাত্র এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এর মধ্যে জ্বালানির দামও বেড়েছে, ফলে এই অর্থে দীর্ঘ সময় অভিযান চালানো কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।
বরিশাল জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান জানান, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মেয়াদ গত জুনে শেষ হয়েছে। "আগের মতো বাজেট না থাকলে ২২ দিনের অভিযান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আগের বরাদ্দ অনুযায়ী দুই দিনেই নৌযানের জ্বালানি খরচ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে," বলেন তিনি।
মেঘনা তীরের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলাকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর। কর্মকর্তারা জানান, এই দুই উপজেলার মেঘনায় দুটি লঞ্চ ও স্পিডবোট রাখা হবে, আর প্রতিটি ঘাট থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পাঁচজন করে লোক নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে মূল সংরক্ষণ এলাকায় এখনো কোনো কর্মকর্তা নেই; মেহেন্দীগঞ্জের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মুলাদীর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার, যিনি বলেন একসঙ্গে দুই উপজেলা চালানো কঠিন।
হিজলা উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ফারুক খান মনে করেন, শুধু সভা-সেমিনার করে মা ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়, রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করা যাবে না। মৎস্য কর্মকর্তারাও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সহযোগিতা চেয়েছেন; স্থানীয় বিএনপি নেতারা জেলেদের নিয়ে সভা করে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে না যেতে বলেছেন বলে জানিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতিটি জেলে পরিবার ২৫ কেজি করে চাল পাচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার হিসাবে বরিশাল জেলায় ভিজিএফের চাল পাচ্ছে ৭৯ হাজার ৮৯০ পরিবার, যেখানে নিবন্ধিত জেলে ৮৪ হাজার ২৯৫ জন। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্য ছয় লাখ টন, যার চার লাখ টন বরিশাল বিভাগ থেকে।
নিষেধাজ্ঞার আগে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। বরিশাল নগরের পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার নাসির উদ্দিন জানান, রোববার (৪ অক্টোবর) মণপ্রতি দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেড়েছে; এক কেজির ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ টাকায় আর ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার টাকা কেজিতে।
প্রতিবেদনটি করেছেন জাগো নিউজের বরিশাল প্রতিনিধি শাওন খান।
ছবি: AsikBinRahim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)