বরিশাল বিভাগে গত তিন মাসে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ২ হাজার ২৫ জন; জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ৬৩৭ জনে, আর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৭৬ জন। গত বছরের হটস্পট বরগুনাকে ছাড়িয়ে এবার সবচেয়ে বেশি রোগী পিরোজপুরে।
এ বছর বিভাগে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২১ জন: জুনে ১, জুলাইয়ে ৭, আগস্টে ৯, সেপ্টেম্বরে ১ এবং অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনে ৩ জন। এর ১৮ জনই মারা গেছেন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন শনাক্ত ২১৬ জনের ৭০ জনই পিরোজপুরের।
জেলাওয়ারি হিসাবে পিরোজপুরে শনাক্ত ৩ হাজার ২২৬ জন, ঝালকাঠিতে ২ হাজার ৩২৭ এবং বরগুনায় ১ হাজার ৭০১ জন। বরগুনায় ২০২৫ সালে রোগী ছিলেন ৯ হাজার ৬৪৫ জন, মৃত্যু ১৫; এবার এখনো কারও মৃত্যুর তথ্য নেই। জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আগাম প্রস্তুতি ও বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখার কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মতিউর রহমান জানান, আইইডিসিআরের একটি বিশেষজ্ঞ দল জেলায় কাজ করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণে মশার প্রজননস্থল হিসেবে এসেছে সুপারি ও নারকেলগাছের গোড়া, নারকেলের খোসা, নির্মাণাধীন ভবন এবং সুপারি, নারকেল ও পেয়ারাবাগানের নালায় জমে থাকা পানি; স্থানীয়দের সচেতনতার ঘাটতিও রয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার সকাল পর্যন্ত ১৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন; মেডিসিন ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গেই তাদের চিকিৎসা চলছে, শয্যা না পেয়ে অনেকে মেঝেতে। ঝালকাঠির সাহানুর বেগম বলেন, বিছানা খালি নেই, মেঝেতে থাকতে খুব কষ্ট হয়। বরিশাল সদরের সাকিব হাসান জানান, অনেক পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হওয়ায় চিকিৎসার খরচ বেড়ে গেছে।
বিভাগে ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৮ হাজার ৭৭৩ জন, মৃত্যু ৬৪; ২০২৫ সালে ২১ হাজার ৮১৫ জন, মৃত্যু ৫১। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০১৯ সালের আগে বিভাগে ডেঙ্গুর কোনো ইতিহাস ছিল না। উপপরিচালক মো. লোকমান হাকিম বলেন, সেপ্টেম্বরে রোগী অনেক বেড়েছে, এখনো বাড়ছে; চিকিৎসার সব প্রস্তুতি আছে।
প্রতিবেদনটি করেছেন প্রথম আলোর বরিশাল প্রতিনিধি এম জসীম উদ্দীন।
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)