চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত ৪২ বছর বয়সী মুকসেমুল হাকিম দুপুরে ঘাড় ও হাত-পায়ে ব্যথা, বমিভাব আর মাথা ঝিমঝিম টের পেলেও গুরুত্ব দেননি; রাতে অসুস্থতা বাড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু বাঁচানো যায়নি। ডেইলি অবজারভারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ ও কর্মক্ষম মানুষের এমন আকস্মিক মৃত্যু এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটছে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যানসার ও কিডনি জটিলতার মতো অসংক্রামক রোগে। সংস্থাটি বলছে, বিশ্বে ৭০ বছর বয়সের আগে অসংক্রামক রোগে যত অকালমৃত্যু হয়, তার প্রায় ৮২ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, দেশে কার্ডিওভাসকুলার রোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ ধীরে ধীরে মহামারির রূপ নিচ্ছে, বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউর; প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণাপত্রে মানসিক সমস্যাকেও আকস্মিক মৃত্যুর একটি কারণ বলা হয়েছে। এসব রোগের অনেকগুলো দীর্ঘদিন নীরবে বাসা বাঁধে, ধরা পড়ে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর।
চিকিৎসকদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্ট অ্যাটাকের প্রথম উপসর্গ সাধারণত বুকের ঠিক মাঝখানে ব্যথা, যা ক্রমাগত বাড়ে এবং বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে ছড়ায়; চোয়াল ও পিঠে ব্যথাও লক্ষণ হতে পারে। পেটে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব বা বমি হলেও দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার (এনএইচএস) তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে কোষ মরে গেলে স্ট্রোক হয়; এটি হার্ট অ্যাটাক থেকে আলাদা। সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ঝুঁকি বেশি হলেও এখন তরুণেরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবি: Jesse K. Alwin, U.S. Marine Corps / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডেইলি অবজারভার





মন্তব্য
(০)