পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সরকারি কর্মসূচিতে সাত মাসে প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ হয়েছে। চলতি বছর প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অগ্রগতি ৬৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন সেলের পঞ্চম সভায় এই অগ্রগতি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছকে তথ্য দেওয়া ১১টি দপ্তর প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ এবং অন্যান্য সংস্থা প্রায় ৫২ লাখ ৯৩ হাজার চারা লাগিয়েছে। ছয়টি দপ্তর এরই মধ্যে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে লাগানো গাছের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সামনের বড় ধাপ উপকূলে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া ও ভূমিরূপ বিবেচনায় ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি কেওড়ার চারা লাগানো হবে; প্রতিবেদনেও বন অধিদপ্তরের ২ কোটি ম্যানগ্রোভ চারার পরিকল্পনার কথা আছে। এটি হলে বছরের লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে বলা হয়েছে।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রাকৃতিকভাবেই কিছু চারা মারা যাবে, তাই আগামী চার বছরের পরিকল্পনায় সেটি হিসাবে রাখতে হবে। নার্সারির সক্ষমতা বাড়াতে তিনি বন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন, আর কোন জেলায় কোন গাছ উপযোগী ও তার অর্থনৈতিক মূল্য কত, তা বিবেচনা করে রোপণের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ রোপণের পর পরিচর্যা, সুরক্ষা, প্রয়োজনে পুনঃরোপণ ও বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
চারার হিসাব রাখতে একটি ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার ও ড্যাশবোর্ড তৈরির অগ্রগতিও সভায় আলোচনা হয়। প্রতি ১৫ দিন পরপর মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত ছকে তথ্য নেওয়া চলবে। শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে ‘ওয়ান ট্রি ওয়ান চাইল্ড’ উদ্যোগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পাঁচ বছরের লক্ষ্য যথাক্রমে ৬ কোটি ১৫ লাখ, ৫ কোটি ৪ লাখ ও ২ কোটি ১৫ লাখ চারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বৃক্ষরোপণ সেলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান। তিনি বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলন বলে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, এতে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রতিবেদনটি বাংলা নিউজ ২৪-এর বিশেষ প্রতিনিধির।
ছবি: Dinesh Valke / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)