লবণ মাঠে আর্টিমিয়া চাষ এবং গিফট তেলাপিয়ার বিস্তারে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কেনিয়া ও ঘানার সঙ্গে ভাগ করে নিতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক কর্মশালা করেছে ওয়ার্ল্ডফিশ। ‘Brine Shrimp Artemia Aquaculture, GIFT Dissemination and Institutional Collaboration’ শীর্ষক এ কর্মশালায় তিন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন অংশীদার, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও মৎস্য চাষ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সিজিআইএআরের সাসটেইনেবল অ্যানিমাল অ্যান্ড অ্যাকুয়াটিক ফুডস এবং স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট সায়েন্স প্রোগ্রামের আওতায় আর্টিমিয়া চাষ, সমন্বিত লবণ-আর্টিমিয়া-মৎস্য চাষব্যবস্থা এবং গিফট (জেনেটিক্যালি ইমপ্রুভড ফার্মড তেলাপিয়া) তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল বিস্তার নিয়ে আলোচনা হয়। তিন দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।
প্রথম পর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অর্জন তুলে ধরা হয়: কক্সবাজারের লবণ মাঠে আর্টিমিয়া, চিংড়ি, তেলাপিয়া, কাঁকড়া ও সবজির সমন্বিত উৎপাদন, আর্টিমিয়া সিস্ট ও বায়োমাস উৎপাদন, হ্যাচারিতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল মাছ চাষ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্যাট্রিক সরগেলুস এবং ওয়ার্ল্ডফিশের আর্টিমিয়া বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান।
দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশে তিন দশকের গিফট তেলাপিয়া উন্নয়ন ও বিস্তারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হোসেনের প্রণীত প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন ড. এ.এইচ.এম. কহিনুর ও জিল্লুর রহমান। এতে জেনেটিক মান ধরে রাখা এবং বেসরকারি খাতের মাধ্যমে মানসম্মত পোনা উৎপাদন ও সরবরাহে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়।
ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এ.টি.এম. ফারুক-উল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা মৎস্য চাষে উদ্ভাবন ও টেকসই সমাধান বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি তিন দেশের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে আরও উৎপাদনশীল ও জলবায়ু-সহনশীল জলজ খাদ্যব্যবস্থা গড়ার ওপর জোর দেন।
ওয়ার্ল্ডফিশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. খন্দকার মুরশেদ-ই-জাহান বলেন, “গিফট একটি পরীক্ষিত ও সফল প্রযুক্তি। তবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে এটি কার্যকরভাবে স্থানান্তরের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপদ্ধতি দরকার।”
কর্মশালায় বিসিকের পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ইনল্যান্ড ফিশারিজ) ড. মোতালেব হোসেন এবং বিএফআরআইয়ের পরিচালক (গবেষণা, পরিকল্পনা ও অর্থ) ড. আমিরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: Doc Searls / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)