ছয় মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত বিশাল কলোনির মধ্যে কয়েক দশক ধরে লড়াই চালাচ্ছে আর্জেন্টাইন পিঁপড়া (Linepithema humile)। এতে প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ পিঁপড়া মারা যায়। স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির পতঙ্গবিজ্ঞানী মার্ক ডব্লিউ মফেটের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে প্রথম আলোর কিশোর আলোয় লিখেছেন আসহাবিল ইয়ামিন।
আগ্রাসী এই প্রজাতির আদি নিবাস উত্তর আর্জেন্টিনা ও আশপাশের অঞ্চল। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মানুষের যাতায়াতের সুযোগ নিয়ে এরা বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়েছে এবং অন্তত ডজনখানেক বিশাল সুপারকলোনি গড়েছে। সংখ্যায় এত বেশি যে এরা স্থানীয় প্রজাতির দরকারি পিঁপড়াদের মেরে বিলুপ্ত করে পরিবেশের বড় ক্ষতি করে।
একই কলোনির পিঁপড়া শরীরের বিশেষ ঘ্রাণে পরস্পরকে চেনে, ঘ্রাণই যেন তাদের জাতীয় পতাকা। মফেটের উদাহরণে, সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার একটি পিঁপড়াকে মেক্সিকোর ৫০০ মাইল দক্ষিণে নিয়ে গেলেও সে একই সুপারকলোনির সদস্য হিসেবে গৃহীত হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় কলোনিতে মাইলের পর মাইলজুড়ে শত কোটি পিঁপড়া থাকে; কর্মী-পিঁপড়া দৈর্ঘ্যে মাত্র দুই থেকে তিন মিলিমিটার।
কিন্তু সেই পিঁপড়াকে সান ডিয়েগোর উত্তরে এসকনডিডোয় শত্রু কলোনির সীমানায় ছাড়লে মুহূর্তে তাকে বহিরাগত হিসেবে চিনে টুকরো টুকরো করা হবে। পুরো দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া দখল করে আছে চারটি যুদ্ধরত সুপারকলোনি। প্রজাতিটি সেখানে আসার পর শতবর্ষ ধরে লড়াই চলছে, যুদ্ধের গতি বদলালে সীমানাও বদলায়। এসকনডিডোতে বাড়ির উঠানের ঘাস সরালেই মৃত পিঁপড়ার স্তূপ চোখে পড়ে।
মফেটের ব্যাখ্যা, মানুষ ও পিঁপড়া দুই সমাজেই সহিংস লড়াইয়ের ধরন নির্ভর করে জনসংখ্যার ওপর। ছোট কলোনি সাধারণত সরাসরি সংঘর্ষ এড়ায়; বড় হয়ে গেলে এবং কোনো সম্পদের ওপর স্থায়ী দখল জমলে তবেই রক্তক্ষয়ী লড়াই শুরু হয়। নেকড়ে, সিংহ, বাদুড়, পাখি বা মাছের মতো অনেক প্রাণীও নিজের দল ও এলাকার বাইরে কাউকে সহ্য করে না।
আগ্রাসী প্রজাতি কীভাবে মানুষের পরিবহনের সঙ্গে নতুন দেশে ঢুকে স্থানীয় প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষতি করে, আর্জেন্টাইন পিঁপড়া তার পরিচিত উদাহরণ।
ছবি: Thmazing / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)