পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনার দুটি প্রধান কৃষি অঞ্চল তাদের কৌশলগত সেচব্যবস্থা আধুনিক করেছে—দেশটির গ্রামীণ কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত এক কর্মসূচির আওতায়। কর্দোবা প্রদেশের দক্ষিণে একটি নতুন অ্যাকুইডাক্ট উৎপাদকদের নির্ভরযোগ্য পানি দিয়েছে এবং ৫০ হাজার হেক্টর উৎপাদনশীল জমি পুনরুদ্ধার করেছে; আর আপেল, নাশপাতি ও বাদামের রপ্তানিকেন্দ্র রিও নেগ্রো উপত্যকায় নতুন সেচকাজে উৎপাদন বেড়েছে ৪ হাজার হেক্টরজুড়ে।
বিনিয়োগ দুটি হয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য রুরাল অ্যাগ্রিফুড সিস্টেম’ বা গিরসার কর্মসূচির আওতায়, যাতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিচ্ছে। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য সারা দেশে গ্রামীণ কৃষিব্যবসার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আর তার কেন্দ্রে আছে পানি।
দক্ষিণ কর্দোবায় রোকে সায়েন্স পেনিয়া বিভাগের প্রাণিসম্পদ অ্যাকুইডাক্ট লাবুলায়ে ও হেনেরাল লেভায়ের মধ্যে হাজার হাজার হেক্টরের উৎপাদন-চিত্র বদলে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানসম্মত পানি নিশ্চিত হওয়ায় জলবায়ু ঝুঁকি থেকে পশুপালন সুরক্ষিত হয়েছে এবং লা প্রোভিদেনসিয়া, লা রামাদা ও সান্তা আনার মতো জনপদের জীবিকা স্থিতিশীল হয়েছে। নির্ভরযোগ্য পানি পেয়ে ১২৮ জন উৎপাদক একই জমিতে পশুর সংখ্যা দ্বিগুণ করতে পারবেন, পশুপালের বিপাকীয় দক্ষতা বাড়বে এবং মৃত্যুহার কমবে।
রিও নেগ্রোর নিম্ন উপত্যকায় লোয়ার ভ্যালি ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের (আইডেভি) সেচব্যবস্থা পঞ্চাশ বছরের বেশি চলার পর পুরোপুরি আধুনিক করা হয়েছে। এর লক্ষ্য ভিয়েদমা শহরের চারপাশের ৫০০ খামারে সময়মতো ও নির্ভরযোগ্যভাবে পানি পৌঁছানো—এলাকাটি আর্জেন্টিনার শীর্ষ হেজেলনাট উৎপাদক হিসেবে স্বীকৃত। দুই বছর আগে মূল সেচখালের একটি জরুরি অংশে আস্তরণ, গেটগুলো বদলে যান্ত্রিকীকরণ এবং পানিপ্রবাহ মাপার সেন্সর বসানোর কাজ শুরু হয়; পাশাপাশি ভবিষ্যতের কৃষি মডেল টেকসই করতে চাষপদ্ধতিরও উন্নতি করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নতুন প্রতিবেদন ‘নারিশ অ্যান্ড ফ্লারিশ: ওয়াটার সলিউশনস টু ফিড টেন বিলিয়ন পিপল অন আ লিভেবল প্ল্যানেট’-এর যুক্তির সঙ্গে মেলে। প্রতিবেদনটির ভাষ্য, বিশ্ব আসলে পানির ঘাটতিতে নয়, বরং তীব্র ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে: কিছু অঞ্চল তাদের ভূগর্ভস্থ জলাধার নিঃশেষ করছে, আবার কারও পানি আছে কিন্তু তা কাজে লাগাতে দরকার বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত। পানির ব্যবহারে ভারসাম্য আনা গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে ১ হাজার কোটি মানুষের খাবার জোগানো এবং সেই পথে ২৪ কোটি ৫০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দুই প্রদেশের ছোট ও মাঝারি উৎপাদকের কাছে পরিবর্তনটা বাস্তব। রোকে সায়েন্স পেনিয়ার একজন পশুপালক এখন একই জমিতে বেশি পশু রাখতে পারবেন, ক্ষতি হবে কম; আর ভিয়েদমার একজন চাষি গেট খুলবেন এই নিশ্চয়তা নিয়ে যে ফসলের জন্য যথেষ্ট পানি আছে—এটিই একটি পরিবারের আয় ও একটি জনপদের খাদ্যের স্থিতি।
সূত্র: বিশ্বব্যাংক





মন্তব্য
(০)