বাড়িতে একা থাকার সময় হঠাৎ বুক ভারী হয়ে আসা, ধড়ফড় করা বা ঠান্ডা ঘাম হলে কী করবেন, তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মুম্বাইয়ের ওকহার্ড হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. পারিন সঙ্গোই। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; গ্যাস্ট্রিক না হার্ট অ্যাটাক, তা নিজে বুঝতে গিয়েই মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
প্রথম কাজ জরুরি নম্বরে ফোন। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা হাত, কাঁধ, পিঠ বা চোয়ালে অস্বস্তি হলে ‘একটু দেখি কমে কি না’ ভেবে অপেক্ষা না করে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি সেবায় ফোন করতে বলেছেন তিনি। রক্তনালির ব্লক যত দ্রুত চিকিৎসা পায়, হৃৎপিণ্ডের পেশি তত বেশি বাঁচানো যায়।
ফোন করার পর হাঁটাহাঁটি বা ছোটাছুটি না করে নিরাপদ জায়গায় শান্ত হয়ে বসতে হবে। ফোন কাছে রাখা এবং সম্ভব হলে মূল দরজা খুলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে চিকিৎসক দল সহজে ঢুকতে পারে। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করা যাবে না।
চিকিৎসক আগে থেকে নাইট্রোগ্লিসারিনের মতো কোনো ওষুধ দিয়ে থাকলে তা পরামর্শ মতোই নিতে হবে, তবে ওষুধ খুঁজতে গিয়ে ফোনে দেরি করা চলবে না। অ্যাসপিরিন সবার জন্য উপযুক্ত নয়; জরুরি সেবার অপারেটর বা চিকিৎসক পরামর্শ দিলে এবং অ্যালার্জি না থাকলে তবেই তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী খাওয়া যাবে।
সবচেয়ে বড় ভুল, বুকের অস্বস্তিকে অ্যাসিডিটি, গ্যাস বা দুশ্চিন্তা ভেবে চেপে রাখা। একাধিক ওষুধ নিজের মতো খাওয়া, ঘরোয়া টোটকা, ইন্টারনেটে খুঁজে সময় নষ্ট করা কিংবা উপসর্গ খুব খারাপ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ একেক জনের একেক রকম, বাড়িতে বসে নির্ভুলভাবে বোঝা সম্ভব নয়।
কেউ হঠাৎ সাড়া না দিলে ও স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে দ্রুত সিপিআর শুরু করা এবং সম্ভব হলে অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর (এইডি) ব্যবহারের মতো জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার লাইফস্টাইল ডেস্কের।
ছবি: Carolinapercas / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা




মন্তব্য
(০)