ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মধুমতি নদীর ভাঙনে এ বছর দুটি গ্রামের অন্তত ১১০টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়ায় ৬০টি এবং গোপালপুর ইউনিয়নের দিগনগরে অন্তত ৫০টি বসতভিটা হারিয়েছে। দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দিগনগরের কৃষক তোতা মিয়ার ৬৫ শতাংশ জমির বসতভিটায় ছিল সেমিপাকা ঘর, রান্নাঘর, গোয়ালঘর আর প্রায় আড়াইশ গাছ। গত দুই মাসে তার ৬০ শতাংশই নদীতে গেছে। স্থানীয়রা জানান, ২০ জুলাই থেকে ভাঙন চলছে, কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে, কিন্তু থামেনি। নদীপাড় থেকে অনেকে গাছ কেটে সরিয়ে নিচ্ছেন।
দিগনগর খেয়াঘাট থেকে চরমাকরাইল পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার ইটের রাস্তার প্রায় দুই কিলোমিটার নদীতে চলে গেছে। দুই গ্রামের আরও প্রায় সাড়ে পাঁচশ ঘরবাড়ি ঝুঁকিতে। চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, ৭৫ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়টির সীমানা থেকে নদী এখন প্রায় দুইশ গজ দূরে। মাদ্রাসা, পোস্ট অফিস, এতিমখানা ও মিয়াপাড়া জামে মসজিদও ঝুঁকিতে।
গৃহবধূ মহিমুন্নেছা জানান, গত বছর বাড়ি নদীতে যাওয়ার পর বছরে পাঁচ হাজার টাকায় অন্যের জমিতে ঘর তুলেছিলেন, এ বছর নদী আবার কাছে এসেছে। তাঁর কথায়, ‘জানি না কখন সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায় নদী।’ বুড়াইচের চেয়ারম্যান পান্নু মিয়া বলেন, স্থায়ীভাবে তীর রক্ষা না করলে ভাঙন ঠেকানো যাবে না; গোপালপুরের চেয়ারম্যান সাইফুল খানও জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ চেয়েছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জ এলাকায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার নদী রক্ষার কাজের জরিপ হয়েছে, আর তা করা গেলে ভাঙন স্থায়ীভাবে ঠেকানো যাবে। নদীর পানি কমলে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনটি দ্য ডেইলি স্টারের ফরিদপুর সংবাদদাতা সুজিত কুমার দাসের।
ছবি: স্টার
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার





মন্তব্য
(০)