হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা হাওরে একই জমিতে ধান, মাছ আর নানা ধরনের ফল-সবজি চাষ করে সারা বছর আয় করছেন চাষিরা। বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতের মাঝে একের পর এক পুকুর, আর পুকুরপাড়ে সারি সারি আম, কলা ও পেঁপেগাছ—এ দৃশ্য এখন সেখানে আর ব্যতিক্রম নয়।
স্থানীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির হিসাব অনুযায়ী, ইউনিয়নে এ ধরনের খামার রয়েছে ৫৫টি। এসব খামারে বছরে প্রায় আড়াই হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়; গড়ে প্রতি কেজি ৩২০ টাকা দরে যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা। একসময় যে জমি থেকে সামান্য ফসল মিলত, সেটিই এখন বড় আয়ের উৎস।
শিবপাশা হাওরে ২০১৪ সালে উৎপাদন বাড়ানোর আশায় পাঁচটি পুকুর খনন করেছিলেন খালেদ চৌধুরী। লাভের মুখ দেখতে তাঁর প্রায় দুই বছর লেগেছিল। এরপর ধীরে ধীরে খামার বড় করেছেন; এখন তাঁর ১৪০ বিঘা জমিতে ১৪টি পুকুর।
এসব পুকুরে বছরে প্রায় ৯৪ টন মাছ উৎপাদন করে প্রায় ৩ কোটি টাকায় বিক্রি করেন খালেদ চৌধুরী; উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। পুকুরপাড়ের গাছপালা থেকে বছরে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় হয়। তাঁর খামারে কাজ করেন ১৫ জন শ্রমিক, আর মাছ যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
এই উৎপাদন যোগ হচ্ছে জেলার মোট হিসাবেও। গত অর্থবছরে হবিগঞ্জে মাছ উৎপাদন হয়েছে ৬২ হাজার ৬০০ টন; আগের তিন অর্থবছরে তা ছিল যথাক্রমে ৫৮ হাজার ৫০০, ৫৫ হাজার ৩০০ ও ৫২ হাজার ২০০ টন। জেলার খামারগুলোতে তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে।
হাওরের নিচু জমিতে এক ফসলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুকুর, মাছ আর পাড়ের ফল-সবজি মিলিয়ে সমন্বিত চাষ কীভাবে আয় বাড়াতে পারে, শিবপাশা তারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন: হবিগঞ্জ সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)