উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকার (রা.) নানা উপাধির একটি ‘উম্মে আবদুল্লাহ’, অর্থাৎ আবদুল্লাহর মা। অথচ তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় আলেমা ও প্রাবন্ধিক নাহিদা সুলতানা লিখেছেন, এর উত্তর আছে আয়েশার (রা.) নিজের বর্ণিত একটি হাদিসে।
সুনানে আবু দাউদের (হাদিস ৪৯৭০) বর্ণনায় আছে, আয়েশা (রা.) নবীজিকে (সা.) বলেন, তাঁর সব সখীরই কুনিয়াত আছে। তখন নবীজি বললেন, তুমি তোমার বোনের ছেলে আবদুল্লাহর নামে কুনিয়াত নাও। বর্ণনাকারী মুসাদ্দাদের ব্যাখ্যায় এই আবদুল্লাহ হলেন আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর।
আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.) ছিলেন বিশিষ্ট সাহাবি। তাঁর বাবা জুবাইর ইবনে আওয়াম, মা আসমা বিনতে আবু বকর, যিনি আয়েশার (রা.) বড় বোন। অর্থাৎ আয়েশা (রা.) ছিলেন তাঁর খালা; এখানে মাতৃত্বের সম্পর্কটি আত্মীয়তা ও স্নেহের, জন্মসূত্রের নয়।
লেখকের ব্যাখ্যায়, আরব সমাজে কুনিয়াত কেবল নামের বিকল্প ছিল না, ছিল পরিচয় ও সম্মানের রীতি। ঘটনাটি দেখায়, কুনিয়াত নিতে নিজের সন্তান থাকা আবশ্যক নয়; ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বা সম্মান প্রকাশের মাধ্যমেও তা হতে পারে। একই সঙ্গে এতে স্ত্রীর ছোট একটি ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়ায় নবীজির পারিবারিক জীবনের কোমলতাও ফুটে ওঠে।
মুসনাদে আহমদের (হাদিস ২৬২৪২) একটি বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যু পর্যন্ত আয়েশাকে (রা.) ‘উম্মে আবদুল্লাহ’ বলা হতো। ইতিহাসে তিনি পরিচিত জ্ঞানী সাহাবি, ফকিহ ও হাদিসের অন্যতম প্রধান বর্ণনাকারী হিসেবে; এই নামটি তাঁর জীবনের আরেকটি কোমল দিকের কথা মনে করিয়ে দেয়।
লেখাটি প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় প্রকাশিত; লেখক নাহিদা সুলতানা।
ছবি: Bluemangoa2z / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)