ন্যাশনাল প্লাউয়িং চ্যাম্পিয়নশিপ পেরিয়ে সন্ধ্যা যখন দ্রুত নামছে আর শীতে গবাদিপশু গোয়ালে তোলার সময় এগিয়ে আসছে, তখন আয়ারল্যান্ডের দুগ্ধ খামারিদের সতর্ক করা হচ্ছে সংক্রামক বোভাইন রাইনোট্রাকিয়াইটিস (Infectious Bovine Rhinotracheitis, আইবিআর) নিয়ে—পশু ঘরে উঠলে যে রোগগুলো সবচেয়ে বড় হুমকি, এটি তার একটি।
Animal Health Ireland (অ্যানিমাল হেলথ আয়ারল্যান্ড, এএইচআই)-এর গবেষণা অনুযায়ী ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ডের ৮৩ শতাংশ দুগ্ধ পালে অন্তত একটি আইবিআর-পজিটিভ পশু ছিল। অথচ টিকা দেওয়া দুগ্ধ খামারের হার ২০১৮ সালের ৬৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৭৩ শতাংশ হয়েছে। এই দুই সংখ্যার ফারাকই বলে দেয়, কেবল টিকায় কাজ হবে না।
আইবিআরের কারণ বোভাইন হার্পিস ভাইরাস-১—একটি বায়ুবাহিত ভাইরাস, যা আক্রান্ত পশুর নাক ও ঊর্ধ্ব শ্বাসনালিতে প্রদাহ ঘটায় এবং সাধারণত ৫ মিটারের মধ্যে থাকা পশুদের মধ্যে সহজে ছড়ায়। আক্রান্ত পশু নাড়াচাড়া করা মানুষের মাধ্যমে এবং সংক্রমিত ষাঁড়ের বীর্যেও এটি ছড়াতে পারে। তাই টিকার মতোই জরুরি জৈব নিরাপত্তা: সীমানায় ঠিকমতো বেড়া, প্রতিবেশীর পশু সীমানার ওপারে চরলে সেই জমিতে নিজের পাল না চরানো, আর সম্ভব হলে বদ্ধ পাল রাখা।
পশু কিনতে হলে আগে পরীক্ষা করানো ভালো; পরীক্ষায় কিছু না মিললেও অন্তত চার সপ্তাহ আলাদা রাখতে হবে, কারণ ভাইরাস এক খোঁয়াড় থেকে আরেক খোঁয়াড়ে যেতে পারে। হাট বা প্রদর্শনীতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি না হওয়া পশু ফিরলে তাকেও আলাদা রাখতে হবে। দর্শনার্থীদের জন্য ফুটবাথ, পালের সঙ্গে বাইরের মানুষের সংস্পর্শ কমানো এবং দুধের লরি, ঠিকাদার, পরামর্শক, এমনকি ডাকগাড়ির জন্য যানবাহনের জীবাণুনাশক বাথ বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—সঙ্গে সুপ্ত বাহকের শরীরে ভাইরাস জেগে ওঠা ঠেকাতে টিকা।
এএইচআইয়ের তালিকায় লক্ষণগুলো হলো: দ্রুত ও জোরে শ্বাস, কখনও কাশিসহ; নাকের ভেতরে ও চোখের গোলাপি অংশে প্রদাহ; গলায় প্রদাহ; নাক ও চোখ থেকে তরল ঝরা; শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা; নিস্তেজ ভাব ও খাওয়া কমে যাওয়া; হঠাৎ দুধ কমে যাওয়া বা গর্ভপাত। উৎপাদনে আঘাত আসার আগেই সমস্যা ধরতে বাল্ক মিল্ক ট্যাংকের নিয়মিত অ্যান্টিবডি পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে।
সুপ্তভাবে সংক্রমিত পশুই বড় সমস্যা: তারা অসুস্থ দেখায় না, কিন্তু চাপ বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমলে ভাইরাস জেগে উঠে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ছড়াতে পারে। পালে আইবিআর দেখা দিলে দেরি না করে স্থানীয় পশুচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ চিকিৎসা ও প্রতিরোধের পথ খামারভেদে আলাদা। নির্দেশিকাটি Agriland-এর জন্য লিখেছেন Cathal O'Shea (কাহাল ও'শে)।
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)