ভারতের তামিলনাড়ুর ভেলোর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র সঙ্গে জিনোমিক্স, ট্রান্সক্রিপ্টোমিক্স, প্রোটিওমিক্স ও মেটাবোলোমিক্সের সম্মিলিত তথ্য মিলিয়ে এমন ফসল দ্রুত উদ্ভাবনের একটি রূপরেখা দিয়েছেন, যা জলবায়ুর চাপ সইবে এবং বেশি পুষ্টি দেবে। গ্লোবাল এগ্রিকালচার এ খবর দিয়েছে।
বায়োসায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি স্কুলের Surasreeta Paul (সুরশ্রীতা পাল) ও প্রধান লেখক Sandeep Singh Rana (সন্দীপ সিং রানা)-র এই পর্যালোচনা ২৭ আগস্ট অনলাইনে আসে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর Frontiers in Sustainable Food Systems সাময়িকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। এটি নতুন পরীক্ষার ফল নয়, বিদ্যমান গবেষণার সংকলন।
লেখকদের যুক্তি, মেশিন লার্নিং মডেল, বিশেষ করে কনভলিউশনাল নিউরাল নেটওয়ার্ক আর বড় ভাষা মডেলের মতো ট্রান্সফরমারভিত্তিক মডেল আগেভাগে ভালোভাবে বলতে পারে কোন জিনগত বৈশিষ্ট্য মাঠে সত্যিকারের চাপ সহনশীলতা বা পুষ্টি বাড়াবে। এই কাজে আগে বছরের পর বছর মাঠে প্রজনন পরীক্ষা লাগত। তাঁরা দেখিয়েছেন, এআই সিআরআইএসপিআর-ক্যাস৯ জিন সম্পাদনায় ভালো লক্ষ্য জিন বাছাই আর নিখুঁত গাইড আরএনএ নকশায় সাহায্য করে, ফলে ভুল জায়গায় সম্পাদনার ঝুঁকি কমে।
পর্যালোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় জিন সম্পাদনার মাধ্যমে পাওয়া উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে: বেশি আয়রন ও জিংকসমৃদ্ধ গম, কম ফাইটিক অ্যাসিডের সয়াবিন (যে যৌগ শস্যভিত্তিক খাবার থেকে পুষ্টি শোষণে বাধা দিতে পারে), আর ভিটামিনসমৃদ্ধ কাসাভা ও ভুট্টা। গবেষণাগারের বাইরে স্যাটেলাইট চিত্র, ইন্টারনেট অব থিংসের মাটি ও আবহাওয়া সেন্সর এবং ড্রোনভিত্তিক দূর-অনুধাবনের কথা বলা হয়েছে, যা একসঙ্গে হাজারো প্লটে গাছের উচ্চতা, পাতার আচ্ছাদনের তাপমাত্রা আর চাপে সাড়া মাপতে পারে।
লেখকেরা একে ২০৫০ সালের খাদ্য নিরাপত্তা লক্ষ্যের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন, যখন বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ১,০০০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা। গ্লোবাল এগ্রিকালচার মনে করিয়ে দিয়েছে, ভারতসহ বহু দেশে জিন সম্পাদিত ফসল এখনো যে নিয়ন্ত্রক বাধার মুখে, পর্যালোচনায় তা বিস্তারিত আলোচিত হয়নি; তাই এই রূপরেখা কত দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে দেশের জৈবনিরাপত্তা নিয়ন্ত্রকদের ওপর।
ছবি: Neil Palmer (CIAT) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)