সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৮৫%বাতাস ১১ কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৪ মিমি

হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে স্বাবলম্বী পুরো গ্রাম

১৯৯৭ সালের এক অন্ধকার রাত। চারদিকে বিদ্যুৎহীন নিঝুম পরিবেশ। সেই রাতে একটি হারিকেন আর কিছু ধানের তুষ নিয়ে এক অভিনব পরীক্ষায় বসেছিলেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মহেশরৌহালী গ্রামের শাহ আলম। লক্ষ্য ছিল-কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো। শাহ আলমের সেইদিনের একটি সাহসী উদ্

লাইভস্টক

১৯৯৭ সালের এক অন্ধকার রাত। চারদিকে বিদ্যুৎহীন নিঝুম পরিবেশ। সেই রাতে একটি হারিকেন আর কিছু ধানের তুষ নিয়ে এক অভিনব পরীক্ষায় বসেছিলেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মহেশরৌহালী গ্রামের শাহ আলম। লক্ষ্য ছিল-কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো। শাহ আলমের সেইদিনের একটি সাহসী উদ্ভাবন আজ শুধু তার ভাগ্যই নয়, পুরো গ্রামকে বদলে দিয়েছে। একসময়ের অবহেলিত গ্রামটি আজ পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান ও সর্ববৃহৎ হাঁসের বাচ্চার আড়তে।

শাহ আলম জাগো নিউজকে বলেন, 'শুরুর গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না। তার হাত ধরেই মহেশরৌহালী গ্রামে সর্বপ্রথম তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফোটানো শুরু হয়। এরপর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। কালের বিবর্তনে তুষ আর হারিকেনের জায়গা দখল করেছে আধুনিক বৈদ্যুতিক ইনকিউবেটর (বাচ্চা ফোটানোর মেশিন)।'

বর্তমানে মহেশরৌহালী গ্রামের ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিকভাবে হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর হ্যাচারি। গ্রামটিতে এখন প্রতিদিন আধুনিক ইনকিউবেটরের সাহায্যে ফুটছে ১২-১৫ লাখ হাঁসের বাচ্চা। তাদের দাবি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়বে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, হাঁসের বাচ্চা ফুটানোর ওপর ভিত্তি করে মহেশরৌহালীর পুরো গ্রামের অর্থনীতিতে এক বিশাল জোয়ার এসেছে। শুধু হাঁসের বাচ্চার ব্যবসার কারণে গ্রামে বেকারত্ব বলতে এখন আর কিছু নেই। পুরুষদের পাশাপাশি ঘরের নারীরাও এই কাজে সমানভাবে সহযোগিতা করছেন।

স্থানীয় আব্দুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, 'মহেশরৌহালী গ্রামের সব পরিবার হাঁস পালন ও হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর পেশায় জড়িত। এ পেশা দিয়েই তারা জীবিকা নির্বাহ করে। গ্রামের নারী-পুরুষদের ডিম সংগ্রহ, গ্রেডিং করা, ইনকিউবেটরে দেওয়া এবং বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার পর সেগুলোর যত্ন নেওয়া-সব মিলিয়ে দিন-রাত চলে ব্যস্ততা। অথচ এক সময় তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাত। বর্তমানে গ্রামটি হাঁসের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামের কর্মক্ষম সব নারী-পুরুষ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থাকেন হাঁসের কাজে ব্যস্ত। উৎপাদিত লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার খামারগুলোতে।'

জামাল উদ্দিন নামে এক হ্যাচারি মালিক বলেন, 'এই গ্রামের খাকি ক্যাম্পবেল, বেইজিং ও ইন্ডিয়ান রানারসহ বিভিন্ন জাতের হাঁসের বাচ্চার মান অত্যন্ত ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা গাড়ি নিয়ে বাচ্চা নিতে ছুটে আসে। বাচ্চাগুলো বিশেষ খাঁচায় ভরে সরবরাহ করা হয়।'

তিনি আরও জানান, প্রথমে ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ছোট ইনকিউবেটর কিনেছিলেন তিনি। পরে সফলতা আসায় ৭ হাজার ও ১২ হাজার হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বড় ইনকিউবেটর স্থাপন করেন, যাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতিটি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং বিক্রি হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। মাসে প্রায় ৩০ হাজার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে তিনি আয় করছেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে তার এ ব্যবসা বড় হলেও মাঝে মাঝে ডিমের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

সম্ভাবনাময় এই ব্যবসার প্রসারে ভ্যাক্সিন থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, 'গ্রামটির বেশিরভাগ মানুষ হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর সঙ্গে জড়িত। মাঠ পর্যায়ে আমরা তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তবে স্বল্প সুদে ঋণ পেলে তারা আরও ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারবে।'

এম এ মালেক/কেএসকে

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

ডিম-মুরগির দাম কারসাজিতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি, খামারিরা বলছেন গরমেই উৎপাদন কম

ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর ডিম ও মুরগির দাম কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেও পোলট্রি উদ্যোক্তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে উৎপাদন কমাই দাম বাড়ার কারণ।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিদ্ধ ডিম কতক্ষণের মধ্যে খাওয়া উচিত?

ঝটপট প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে কিংবা সকালের নাশতায় ডিমের জুড়ি নেই। ব্যস্ত সকালে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে রাখেন। পরিবারের সবাই খাওয়ার পরও দু-একটি ডিম বেঁচে গেলে তখন প্রশ্ন আসে-সেগুলো কি পরে খাওয়া যাবে? নাকি সিদ্ধ ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়? সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সিদ্ধ ডিম ফেলে দেওয়ার

জাগো নিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

কলম্বিয়ার নতুন আইনে গবাদিপশুর বাণিজ্য বাঁধা পড়ল বন পর্যবেক্ষণে

২০২৬ সালের ৪ জুন কার্যকর হওয়া লেই ২৫৮৫ কলম্বিয়ার গবাদিপশুর ট্রেসেবিলিটিকে বন পর্যবেক্ষণ ও ভূমির নথির সঙ্গে যুক্ত করেছে; আইনের তিনটি অনুচ্ছেদ গড়ে উঠেছে অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিআইএটি-র কাজের ওপর ভিত্তি করে।

CGIAR১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()