বাংলাদেশে মাছ চাষের পরিসর যত বেড়েছে, ভোক্তার পাত থেকে একটি অভিযোগও তত বেড়েছে — চাষের মাছে এক ধরনের কাদা-কাদা বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ পাওয়া যায়। তাজা দেখে কেনা মাছও ধুয়ে-কেটে রান্নার সময় গন্ধ ছড়ায়, যা লেবু, লবণ, হলুদ কিংবা আদা-রসুন দিয়ে ধুয়েও পুরোপুরি দূর হয় না।
কারণ হিসেবে গবেষকেরা দুটি জৈব যৌগকে দায়ী করছেন, যেগুলো মাছের শরীরে চর্বি ও চামড়ার নিচের লাল মাংসে গিয়ে জমা হয় — ফলে বারবার ধুলে বা রান্না করলেও গন্ধ পুরোপুরি যায় না।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলছেন, উৎস কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া। "বদ্ধ পানি দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় একজিনো ব্যাকটেরিয়া, মিকজো ব্যাকটেরিয়া এবং সায়ানো ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো থেকে দুই ধরনের কম্পাউন্ড - জিয়োসমিন এবং ২-মিথাইলআইসোবোর্নিওল নামে জৈব যৌগ নিঃসৃত হয়," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।
এই ব্যাকটেরিয়া বাড়ার তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা: পুকুরে বাড়তি খাবার দেওয়া, পুকুরের আকারের তুলনায় মাছের ঘনত্ব বেশি রাখা এবং পানি পরিবর্তন না করা। অর্থাৎ পুকুরে মাছ চাষের যে নিয়মগুলো আছে — ঘনত্ব, খাদ্যের পরিমাণ ও পানি বদল — সেগুলো ঠিকভাবে না মানাই সমস্যার মূলে।
গন্ধ কোথায় জমে, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন অধ্যাপক হক। "মাছের শরীরে চর্বি যেখানে থাকে অথবা মাছের দেহের উপরের যে চামড়া, যেখানে রেড মাসেল আছে সেসব জায়গায় জমে দুর্গন্ধটা তৈরি হয়," বলেন তিনি।
বিষয়টি খাটো করে দেখার মতো নয়, কারণ খাতটি বড়। জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশনের 'দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬' প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাছসহ জলজ প্রাণী চাষে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, আর অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে দ্বিতীয়।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে দেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান আড়াই শতাংশের বেশি এবং উৎপাদনের সঙ্গে রপ্তানিও বাড়ছে। সেই বাজারে স্বাদ ও গন্ধ নিয়ে অভিযোগ থেকে গেলে চাষির দামই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)