যশোর বড়বাজারে ভারতীয় ইলিশকে দেশি ইলিশ বলে বিক্রির অভিযোগে এক আড়তদারকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার দুপুরে বড়বাজারের মাছবাজারে অভিযান চালিয়ে ‘কর্ণফুলী ফিশ’ নামের আড়তটিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অধিদপ্তরের যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ওই আড়তদার ভারতীয় ইলিশের নির্ধারিত মূল্য এবং ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
অভিযানে মাছবাজারের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি দোকানও তদারকি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে নির্ধারিত মূল্যে ভারতীয় ইলিশ বিক্রি এবং আমদানিসংক্রান্ত কাগজপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে এখন ভারত থেকেই ইলিশ আসছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টেই এসেছে তিন লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি, জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি। আমদানি করা এসব ইলিশের ঘোষিত মূল্য প্রায় ছয় কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই মাসে ভারত থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে। হাওড়া পাইকারি ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতি থাকায় এবারই প্রথম হাওড়া বাজার থেকেও ইলিশ রপ্তানি হয়েছে।
আমদানি করা ইলিশ দেশি বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ক্রেতার জন্য দামের ঝুঁকি তৈরি করে— পদ্মা-মেঘনার ইলিশের দর সাধারণত আমদানি করা মাছের চেয়ে বেশি। কাগজপত্র সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতাই এ ক্ষেত্রে ভোক্তার প্রধান সুরক্ষা।
সূত্র: সমকাল (যশোর প্রতিনিধি)





মন্তব্য
(০)