সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৩ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৮০%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

যুক্তরাষ্ট্রে তরল দুধ বিক্রি ২২ শতাংশ কমেছে, হোল মিল্কের অংশ বেড়ে ৩৯ শতাংশ

ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে তরল দুধ বিক্রি ২০০৯ সালের প্রায় ৫৫,৪৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ২০২৪ সালে ৪৩,১৭৯ মিলিয়ন পাউন্ডে নেমেছে, অর্থাৎ ২২ শতাংশ কমেছে; তবু বিক্রিতে হোল মিল্কের অংশ ২০১২ সালের সর্বনিম্ন ২৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৯ শতাংশ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে তরল দুধ বিক্রি ২২ শতাংশ কমেছে, হোল মিল্কের অংশ বেড়ে ৩৯ শতাংশ
লাইভস্টক

২০২৬ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) একটি 'চার্ট অব নোট' প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, ২০০৯ সালের তুলনায় আমেরিকানরা অনেক কম তরল দুধ কিনছিলেন, তবে যে দুধ তাঁরা কিনছিলেন তার ক্রমবর্ধমান অংশ ছিল পূর্ণ ননিযুক্ত দুধ বা হোল মিল্ক। 'মোট তরল দুধ বিক্রির দীর্ঘমেয়াদি পতনের মধ্যে হোল মিল্কের অংশ বাড়ছে' শিরোনামের চার্টটি তৈরি করেন ইআরএসের অর্থনীতিবিদ আদ্রিয়ানা ভালকু-লিসমান। এর ভিত্তি ছিল সংস্থাটির 'ডেইরি ডেটা' সিরিজ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে পানীয় হিসেবে বিক্রি হওয়া তরল দুধের পরিমাণ পণ্য ধরে ধরে দেওয়া থাকে।

ইআরএসের হিসাবে, মোট তরল দুধ বিক্রি ২০০৯ সালের শীর্ষ অবস্থান প্রায় ৫৫,৪৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে নেমে ২০২৪ সালে ৪৩,১৭৯ মিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়ায়; অর্থাৎ বিক্রি কমে ২২ শতাংশ, যদিও ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে বিক্রি সামান্য বেড়েছিল। একই সময়ে হোল মিল্কের অংশ, যা ২০১২ সালে বিক্রির সর্বনিম্ন ২৬ শতাংশে নেমেছিল, ২০২৪ সালে আবার বেড়ে ৩৯ শতাংশে পৌঁছায়। এই পরিসংখ্যান ২০২৪ সাল পর্যন্ত মার্কিন বাজারের চিত্র, যা চার্টে থাকা সর্বশেষ পূর্ণ বছর।

পানীয় হিসেবে দুধের বাজার ছোট হচ্ছে


তরল দুধ বিক্রির এই দীর্ঘ পতনের তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে ইআরএস: যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায় ছোট শিশুদের অনুপাত কমে যাওয়া, দুধের বিকল্প পানীয় ক্রমশ সহজলভ্য হওয়া এবং ভোক্তাদের পছন্দ বদলে যাওয়া। শিশুরা তাদের দুধের বড় অংশ পান করে স্কুলে এবং সকালের সিরিয়ালের সঙ্গে; বয়সভেদে দুধ পান নিয়ে ইআরএসের নিজস্ব গবেষণা, যার কথা নিচে আছে, সেটাই দেখায়।

সংস্থাটি ২০২৪ সালের পরের দিকেও নজর দিয়েছে। ইআরএস জানায়, ইউএসডিএর অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেটিং সার্ভিসের (এএমএস) সাম্প্রতিক তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে মোট তরল দুধ বিক্রির দীর্ঘমেয়াদি পতন ২০২৫ সালেও সম্ভবত অব্যাহত ছিল, আর হোল মিল্ক বাজারে তার অংশ ধরে রেখেছে। এএমএস হলো ইউএসডিএর সেই সংস্থা, যা ফেডারেল মিল্ক মার্কেটিং অর্ডারগুলো পরিচালনা করে। চার্টে ২০২৫ সালের মোট বিক্রির কোনো সংখ্যা দেওয়া হয়নি।

এই পরিসংখ্যানে বিক্রি মাপা হয় পাউন্ডে, খামারে উৎপাদিত দুধের জন্য ইউএসডিএর হিসাবও পাউন্ডেই। 'তরল পানীয় দুধ' বলতে বোঝায় পান করার জন্য প্যাকেট করা দুধ: হোল মিল্ক, রিডিউসড-ফ্যাট, লো-ফ্যাট ও স্কিম মিল্ক, চকলেট মিল্কের মতো স্বাদযুক্ত বা ফ্লেভারড মিল্ক, এবং বাটারমিল্ক ও এগনগের মতো ছোট পণ্য। যে দুধ পনির, মাখন, দই, আইসক্রিম বা গুঁড়া দুধে যায়, তার হিসাব ইআরএসের অন্য সারণিতে থাকে।

কম চর্বির দুধের কাছ থেকে জায়গা ফিরে পাচ্ছে হোল মিল্ক


চার্টটি মোট বিক্রিকে পণ্যের শ্রেণি অনুযায়ী ভাগ করেছে, আর ভেতরের শ্রেণিগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিকে গেছে। ২০০০-এর দশকের শুরুতে হোল মিল্কই ছিল শীর্ষ শ্রেণি। এরপর এর অংশ কমতে কমতে ২০১২ সালে সর্বনিম্ন ২৬ শতাংশে নামে, তারপর ২০২৪ সালে আবার ৩৯ শতাংশে ওঠে। ইআরএসের ব্যাখ্যা, এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয় যে ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে দুগ্ধ-চর্বি নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল, তা কমে এসেছে।

রিডিউসড-ফ্যাট দুধ, যা সাধারণত '২ শতাংশ দুধ' নামে বিক্রি হয়, উল্টো পথে গেছে। ২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল প্রধান শ্রেণি, বিক্রির প্রায় ৩৪ শতাংশ ছিল এর দখলে; কিন্তু ২০১৭ সালের পর এর অংশ কমে ২০২৪ সালে প্রায় ৩০ শতাংশে দাঁড়ায়।

তাকের সবচেয়ে কম চর্বির দুধ, লো-ফ্যাট ও স্কিম মিল্কের সম্মিলিত শ্রেণিও জায়গা হারিয়েছে। ইআরএস বলছে, ২০১৫ সাল থেকে এই শ্রেণি কমছিল এবং ২০২৪ সালে বিক্রির ১৬ শতাংশ ছিল এর, যা ২০১০ ও ২০১১ সালের সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থানের চেয়ে ১৩ শতাংশের বেশি কম।

বাকি শ্রেণিগুলো ছোট। ফ্লেভারড মিল্ক এবং ইআরএস যাকে 'অন্যান্য তরল দুগ্ধপণ্য' বলে, যার মধ্যে এগনগ ও বাটারমিল্ক আছে, এই দুই শ্রেণি মিলে চার্ট প্রকাশের আগের পাঁচ বছরে গড়ে বিক্রির প্রায় ১৩ শতাংশ ছিল।

  • মোট তরল দুধ বিক্রি: ২০০৯ সালের শীর্ষে প্রায় ৫৫,৪৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড; ২০২৪ সালে ৪৩,১৭৯ মিলিয়ন পাউন্ড (২২ শতাংশ কম)।
  • হোল মিল্ক: ২০০০-এর দশকের শুরুতে শীর্ষ শ্রেণি; ২০১২ সালে সর্বনিম্ন, বিক্রির ২৬ শতাংশ; ২০২৪ সালে ৩৯ শতাংশ।
  • রিডিউসড-ফ্যাট দুধ: ২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিক্রির প্রায় ৩৪ শতাংশ; ২০২৪ সালে প্রায় ৩০ শতাংশ।
  • লো-ফ্যাট ও স্কিম মিল্ক: ২০১৫ সাল থেকে কমছে; ২০২৪ সালে ১৬ শতাংশ।
  • ফ্লেভারড মিল্ক এবং এগনগ ও বাটারমিল্কের মতো অন্যান্য পণ্য: সর্বশেষ পাঁচ বছরে গড়ে প্রায় ১৩ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটারে একটি সুপারমার্কেটের দুগ্ধপণ্যের তাকে আধা গ্যালনের দুধের পাত্র, ২০২৪ সালের ১ মে। ছবি: MatthewHoobin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটারে একটি সুপারমার্কেটের দুগ্ধপণ্যের তাকে আধা গ্যালনের দুধের পাত্র, ২০২৪ সালের ১ মে। ছবি: MatthewHoobin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

দুধের প্যাকেটের লেবেল কী বোঝায়


যুক্তরাষ্ট্রে প্যাকেটের গায়ে 'মিল্ক' বা দুধ শব্দটি ব্যবহারের নিয়ম ঠিক করে দেয় খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ), ফেডারেল বিধিমালার (কোড অব ফেডারেল রেগুলেশনস) ২১ নম্বর খণ্ডের ১৩১.১১০ ধারায় নির্ধারিত 'স্ট্যান্ডার্ড অব আইডেন্টিটি' বা পরিচয়-মানের মাধ্যমে। এই মান অনুযায়ী, পানীয় হিসেবে চূড়ান্ত প্যাকেটে থাকা দুধ অবশ্যই পাস্তুরিত বা আলট্রা-পাস্তুরিত হতে হবে, এবং তাতে কমপক্ষে ৩¼ শতাংশ দুগ্ধ-চর্বি (মিল্কফ্যাট) এবং কমপক্ষে ৮¼ শতাংশ চর্বিহীন দুগ্ধ-কঠিন উপাদান থাকতে হবে। বিধিতে প্রক্রিয়াজাতকারীদের দুধ থেকে কিছু চর্বি আলাদা করে নেওয়ার, অথবা ক্রিম, ঘন দুধ, পূর্ণ ননির গুঁড়া দুধ, স্কিম মিল্ক বা ননিহীন গুঁড়া দুধ মিশিয়ে দুধের মান সমন্বয়ের সুযোগ আছে; দুধ হোমোজেনাইজও করা যায়।

একই মানে ভিটামিন যোগ করার অনুমতিও আছে। ভিটামিন এ যোগ করা হলে প্রতি কোয়ার্টে কমপক্ষে ২,০০০ আন্তর্জাতিক একক (আইইউ) থাকতে হবে; ভিটামিন ডি যোগ করা হলে প্রতি কোয়ার্টে থাকতে হবে ৪০০ আইইউ। তখন লেবেলে তা লিখতে হয়, যেমন 'ভিটামিন ডি যোগ করা হয়েছে'।

৩.২৫ শতাংশের এই ন্যূনতম সীমাই ক্রেতাদের চেনা হোল মিল্কের চর্বির মাত্রা। মার্কিন কৃষি সংবাদমাধ্যম ডিটিএন/প্রোগ্রেসিভ ফার্মারের ২০২৬ সালের জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হোল মিল্কে দুগ্ধ-চর্বি ৩.২৫ শতাংশ এবং প্রতি কাপে ১৫০ ক্যালরি, আর ২ শতাংশ দুধে দুগ্ধ-চর্বি ২ শতাংশ এবং প্রতি কাপে ১২০ ক্যালরি।

সাত দশক ধরে কমছে দুধ পান


২০০৯ সালের পর বিক্রির পতন আসলে অনেক দীর্ঘ এক প্রবণতার সর্বশেষ অধ্যায়, যা ইআরএস কয়েক দশক ধরে মেপে আসছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ হালনাগাদ করা মাথাপিছু দুগ্ধপণ্য ভোগের সারণিতে ইআরএসের হিসাব, ১৯৭৫ সালে আমেরিকানদের মাথাপিছু তরল পানীয় দুধ ছিল ২৪৭ পাউন্ড, ২০০০ সালে ১৯৬ পাউন্ড এবং ২০০৯ সালে ১৮১ পাউন্ড। ২০১২ সালে তা ছিল প্রায় ১৬৯ পাউন্ড, ২০২০ সালে প্রায় ১৪০ পাউন্ড, আর ২০২৩ ও ২০২৪ দুই বছরেই প্রায় ১২৭ পাউন্ড।

২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট প্রকাশিত জিনিন বেন্টলির তৈরি ইআরএসের আগের এক চার্ট অব নোট একই পতন মেপেছিল গ্যালনে। তাতে দেখা যায়, মাথাপিছু তরল দুধের প্রাপ্যতা ১৯৪৫ সালে সর্বোচ্চ ৪২.৩ গ্যালনে পৌঁছেছিল এবং ২০১২ সালে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১৯.৬ গ্যালনে নামে। শুধু হোল মিল্ক ১৯৭০ সালে মাথাপিছু ২৫.৩ গ্যালন থেকে ২০১২ সালে ৫.৪ গ্যালনে নেমে আসে, আর কম চর্বির দুধ ১৯৯৮ সাল থেকে মাথাপিছু গড়ে প্রায় ১৪ গ্যালনে স্থির ছিল। হোল মিল্কের এই ২০১২ সালের তলানিই সেই বছর, যে বছর নতুন চার্ট অনুযায়ী বিক্রিতে হোল মিল্কের অংশও সর্বনিম্নে নেমেছিল।

২০২২ সালের জুনে ইআরএসের সাময়িকী 'অ্যাম্বার ওয়েভস'-এ এক নিবন্ধে অর্থনীতিবিদ হেইডেন স্টুয়ার্ট ও ফ্রেড কুকলার লেখেন, মাথাপিছু তরল দুধ ভোগ ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কমছে এবং আগের সাত দশকের প্রতিটিতেই কমেছে। দৈনিক গ্রহণের হিসাবে তা ১৯৯০ সালে মাথাপিছু ০.৭৮ কাপ থেকে ২০০০ সালে ০.৬৯ কাপ, ২০১০ সালে ০.৬২ কাপ এবং ২০১৯ সালে ০.৪৯ কাপে নামে। ওই সময়ের মধ্যে ২০১০-এর দশকের পতন ছিল আগের যেকোনো দশকের চেয়ে দ্রুত।

স্টুয়ার্ট ও কুকলার প্রতিটি বয়সশ্রেণিতেই এই পতন পেয়েছেন। ১২ বছর ও তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে পানীয় হিসেবে দুধ পান ২০০৩-০৪ সালে দিনে গড়ে ১.০৭ কাপ-সমতুল্য এবং ২০০৯-১০ সালে ১.১০ ছিল, পরে ২০১৭-১৮ সালে তা ০.৭৯-এ নামে। শিশুদের সিরিয়ালে দেওয়া দুধ ২০০৩-০৪ সালের ০.৩৯ কাপ-সমতুল্য থেকে ২০১৭-১৮ সালে ০.২৫-এ নামে, যা তাঁদের হিসাবে সবচেয়ে বড় পতন। কফি ও চায়ে মেশানো দুধে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

তাঁদের গবেষণা প্রজন্মগত পার্থক্যের দিকেও ইঙ্গিত করে। ইআরএসের ২০১৩ সালের এক গবেষণার উল্লেখ করে তাঁরা লেখেন, ১৯৭০-এর দশকে জন্ম নেওয়া আমেরিকানরা কিশোর বয়সে এবং বিশ ও ত্রিশের কোঠায় একই বয়সের ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়াদের চেয়ে কম দুধ পান করেছেন, আর ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়ারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আরও কম দুধ পান করবেন বলে ধারণা। শৈশবে গড়ে ওঠা অভ্যাস এর একটি ব্যাখ্যা।

অন্য পানীয়ের প্রতিযোগিতার ভূমিকা প্রায়ই যতটা ধরা হয়, তার চেয়ে কম ছিল। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের খুচরা বিক্রির স্ক্যানার-তথ্যে এমন প্রমাণ সামান্যই মেলে যে কোমল পানীয়, জুস, বোতলজাত পানি বা তৈরি কফি ও চায়ের মতো কোনো একক পানীয় দুধের জায়গা নিয়েছে। কাঠবাদাম ও সয়া দুধের মতো উদ্ভিজ্জ পানীয় গরুর দুধের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ঠিকই, কিন্তু সেগুলোর বিক্রি বৃদ্ধি দুধ বিক্রির পতনের চেয়ে অনেক ছোট, তাই এগুলো প্রবণতার সামান্য অংশই ব্যাখ্যা করে। ইআরএসের ২০১৭ সালের গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছিল, প্রতিবছর হাজার হাজার নতুন খাদ্য ও পানীয় পণ্য মার্কিন বাজারে আসে।

তবে আমেরিকানরা সামগ্রিকভাবে দুগ্ধপণ্য থেকে মুখ ফেরাননি। একই অ্যাম্বার ওয়েভস নিবন্ধে ইআরএস জানায়, ১৯৭০ সালের পর থেকে মাথাপিছু পনির ও দই ভোগ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। ইআরএসের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের সারণি অনুযায়ী, আমেরিকান ধরনের পনির ১৯৭৫ সালে মাথাপিছু ৮.১ পাউন্ড থেকে ২০২৪ সালে ১৬.০ পাউন্ড, অন্যান্য পনির ১৯৭৫ সালে ৬.১ পাউন্ড থেকে ২০২৪ সালে ২৩.৫ পাউন্ড, দই ১৯৭৫ সালে ২.০ পাউন্ড থেকে ২০২৪ সালে ১৪.৫ পাউন্ড এবং মাখন ১৯৭৫ সালে ৪.৭ পাউন্ড থেকে ২০২৪ সালে ৬.৮ পাউন্ড হয়েছে। মোট দুগ্ধপণ্য গ্রহণ ১৯৮৭ সালে দিনে সর্বোচ্চ ১.৫৭ কাপ-সমতুল্যে পৌঁছেছিল, ২০১৯ সালে তা ছিল ১.৪৯ কাপ-সমতুল্য; আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ 'ডায়েটারি গাইডলাইনস ফর আমেরিকানস, ২০২০-২০২৫'-এর দুগ্ধপণ্যের সুপারিশ পূরণ করতেন না।

দুধের প্রচারে শিল্পখাতের নিজস্ব অর্থে চলা দুটি জাতীয় কর্মসূচি আছে: দুধ প্রক্রিয়াজাতকারীদের অর্থে চলা ফ্লুইড মিল্ক প্রসেসর প্রমোশন প্রোগ্রাম, এবং দুগ্ধখামারি ও আমদানিকারকদের অর্থে চলা ন্যাশনাল ডেইরি প্রমোশন অ্যান্ড রিসার্চ বোর্ড। ২০২২ সালের অ্যাম্বার ওয়েভস নিবন্ধের শিরোনামেই তরল দুধ ভোগের এই নিম্নমুখী প্রবণতাকে বলা হয়েছিল 'উল্টানো কঠিন'।

কম চর্বি থেকে পূর্ণ চর্বির দুগ্ধপণ্যের দিকে সরকারি খাদ্য-পরামর্শ


বহু বছর ধরে মার্কিন সরকারি পরামর্শ মানুষকে কম চর্বির দুধের দিকে উৎসাহিত করেছে। ইউএসডিএ ও স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) যৌথভাবে প্রকাশিত 'ডায়েটারি গাইডলাইনস ফর আমেরিকানস, ২০২০-২০২৫' স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মূল উপাদানের তালিকায় রেখেছিল ননিহীন বা কম চর্বির দুধ, দই ও পনিরসহ দুগ্ধপণ্য, এবং/অথবা ল্যাকটোজমুক্ত সংস্করণ, আর বিকল্প হিসেবে পুষ্টি-সমৃদ্ধ সয়া পানীয় ও সয়া দই। বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী দিনে ২ থেকে ৩ কাপ-সমতুল্য দুগ্ধপণ্যের সুপারিশ ছিল তাতে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত 'ডায়েটারি গাইডলাইনস ফর আমেরিকানস, ২০২৫-২০৩০' সেই পরামর্শ বদলে দেয়। এতে বলা হয়, দুগ্ধপণ্য খেলে যোগ করা চিনি ছাড়া পূর্ণ চর্বির দুগ্ধপণ্য রাখুন, এবং দুগ্ধপণ্যকে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ও খনিজের চমৎকার উৎস বলা হয়। দুগ্ধপণ্যের লক্ষ্য ধরা হয়েছে দিনে ২,০০০ ক্যালরির খাদ্যতালিকায় ৩ সার্ভিং, যা ব্যক্তির ক্যালরির প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা যায়; আর স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস হিসেবে যেসব পূর্ণ খাবারের নাম দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে পূর্ণ চর্বির দুগ্ধপণ্যও আছে।

২০২৫-২০৩০ নির্দেশিকা সম্পৃক্ত চর্বির (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) একটি সীমা বহাল রেখেছে। এতে বলা হয়েছে, সাধারণভাবে সম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণ দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়; অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার উল্লেখযোগ্যভাবে কমালে এই লক্ষ্য পূরণে সহায়তা হবে; এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য কোন ধরনের চর্বি সবচেয়ে ভালো, তা নির্ধারণে আরও উচ্চমানের গবেষণা দরকার।

শিশুদের বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা বলছে, শক্তির চাহিদা মেটাতে ও মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তায় পূর্ণ চর্বির দুগ্ধপণ্য শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং যোগ করা চিনি কোনো পরিমাণেই সুপারিশ করা হয় না। শিশুখাদ্যের ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো, যে শিশু ফর্মুলা দুধ খায়, ১২ মাস বয়সে তার ফর্মুলা বন্ধ করে হোল মিল্ক দিতে হবে।

ইআরএসের চার্টে বিক্রির হিসাব কেবল ২০২৪ সাল পর্যন্ত, ২০২৫-২০৩০ নির্দেশিকা প্রকাশের আগ পর্যন্ত। অর্থাৎ চার্টে হোল মিল্কের অংশ বাড়ার যে চিত্র, তা এসেছে এমন সময়ে, যখন সরকারি পরামর্শ তখনো ননিহীন ও কম চর্বির দুধকেই প্রাধান্য দিচ্ছিল। হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো রোগ আছে এমন ব্যক্তি, এবং শিশুর খাদ্যতালিকা ঠিক করছেন এমন অভিভাবকেরা কোন দুধ তাঁদের জন্য উপযুক্ত, সে বিষয়ে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।

স্কুলের দুপুরের খাবারে দুধ


আমেরিকান শিশুদের দুধ পানের সবচেয়ে বড় জায়গাগুলোর একটি স্কুল। ২০২২ সালের গবেষণায় স্টুয়ার্ট ও কুকলার দেখান, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা তাদের তরল দুধের ৩৫ শতাংশ এবং ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরেরা ২৫ শতাংশ পায় স্কুলে, আর স্কুল খোলা থাকা কর্মদিবসগুলোতে দুধ পান বেশি হয়। ন্যাশনাল স্কুল লাঞ্চ প্রোগ্রামের অধীনে প্রতিটি দুপুরের খাবারে স্কুলকে এক কাপ দুধ দিতে হয়। ডিটিএন ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জানায়, এই কর্মসূচি প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি শিশুকে খাবার দেয়।

এক দশকেরও বেশি সময় স্কুলের দুধ কম চর্বির ধরনেই সীমিত ছিল। ডিটিএনের তথ্যমতে, ২০১০ সালের 'হেলদি, হাঙ্গার-ফ্রি কিডস অ্যাক্ট'-এর অধীনে প্রণীত এক ফেডারেল বিধি শিশুদের চর্বি থেকে আসা ক্যালরি সীমিত রাখা উচিত, এই ধারণার ভিত্তিতে স্কুলের খাবারে হোল মিল্ক নিষিদ্ধ করেছিল। ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল ইউএসডিএর ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস (এফএনএস) স্কুলের খাবারের মান নিয়ে আরেকটি চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ করে। ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবরের এফএনএস স্মারক (এসপি ০১-২০২৫) ব্যাখ্যা করে, এই বিধি দুধের বিদ্যমান শর্তগুলো বহাল রেখেছে: কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুল ননিহীন ও কম চর্বির দুধ, স্বাদযুক্ত ও স্বাদহীন দুই ধরনেরই দিতে পারবে, এবং প্রতিটি সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারে স্বাদহীন দুধ রাখতেই হবে।

২০২৪ সালের বিধি স্বাদযুক্ত দুধে যোগ করা চিনিরও সীমা বেঁধে দেয়। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে স্কুলের দুপুরের খাবার ও নাশতা কর্মসূচিতে স্বাদযুক্ত দুধে প্রতি ৮ তরল আউন্সে ১০ গ্রামের বেশি যোগ করা চিনি থাকতে পারবে না। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে আলাদাভাবে বিক্রি করা স্বাদযুক্ত দুধে সীমা প্রতি ১২ তরল আউন্সে ১৫ গ্রাম। ল্যাকটোজমুক্ত ও কম-ল্যাকটোজ দুধ, বাটারমিল্ক ও কেফিরের মতো কালচার্ড দুধ এবং আলট্রা-হাই-টেম্পারেচার (ইউএইচটি) দুধও স্কুলের খাবারে দুধ হিসেবে গণ্য হয়।

ইআরএসের চার্ট প্রকাশের কিছুদিন আগে এই অবস্থা বদলায়। 'হোল মিল্ক ফর হেলদি কিডস অ্যাক্ট' ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি সিনেটে এস. ২২২ নামে উত্থাপিত হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সর্বসম্মতিক্রমে সিনেটে এবং ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর কণ্ঠভোটে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি এটি 'পাবলিক ল ১১৯-৬৯' হিসেবে আইনে পরিণত হয়। এই আইন ন্যাশনাল স্কুল লাঞ্চ প্রোগ্রামের স্কুলগুলোকে কম চর্বি ও ননিহীন দুধের পাশাপাশি হোল মিল্ক ও ২ শতাংশ দুধ দেওয়ার সুযোগ দেয়। ডিটিএনের তথ্যমতে, আইনটি স্কুলে গরুর দুধের উদ্ভিজ্জ বিকল্প পাওয়াও সহজ করেছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে 'প্রটেক্টিং চিলড্রেন উইথ ফুড অ্যালার্জিস অ্যাক্ট', যাতে স্কুলের খাদ্য পরিবেশন কর্মীদের খাদ্য-অ্যালার্জি বিষয়ে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ডিটিএন জানায়, দুগ্ধশিল্প আশা করছিল স্কুলের খাবারে হোল মিল্কের ফেরা তরল দুধের বিক্রিকে সহায়তা করবে, আর ইউএসডিএ বলেছিল আইনটি ২০২৫-২০৩০ খাদ্য-নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইআরএসের চার্ট নিজে আইনটির কোনো প্রভাব মাপেনি, কারণ আইনটি কার্যকর হয়েছে চার্টের তথ্যের শেষ বছরের পরে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে ওয়াশিংটন-লি হাই স্কুলে দুপুরের খাবারের জন্য সাজিয়ে রাখা চকলেট মিল্কের প্যাকেট, ২০১১ সালের অক্টোবর; দুধটি দেওয়া হয় ন্যাশনাল স্কুল লাঞ্চ প্রোগ্রামের মাধ্যমে। ছবি: U.S. Department of Agriculture / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে ওয়াশিংটন-লি হাই স্কুলে দুপুরের খাবারের জন্য সাজিয়ে রাখা চকলেট মিল্কের প্যাকেট, ২০১১ সালের অক্টোবর; দুধটি দেওয়া হয় ন্যাশনাল স্কুল লাঞ্চ প্রোগ্রামের মাধ্যমে। ছবি: U.S. Department of Agriculture / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

খামারে দুধের উৎপাদন বাড়ছে


তরল দুধের বিক্রি কমা মানে এই নয় যে মার্কিন দুগ্ধখামারে উৎপাদন কমছে। ইউএসডিএর ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিসের (এনএএসএস) মাসিক 'মিল্ক প্রোডাকশন' প্রতিবেদন, যা ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়, অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে মোট দুধ উৎপাদন ২০২৪ সালে ছিল ২,২৫,৮৬৮ মিলিয়ন পাউন্ড এবং ২০২৫ সালে ২,৩১,৪৮২ মিলিয়ন পাউন্ড, অর্থাৎ ২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। দুগ্ধবতী গাভির গড় সংখ্যা ২০২৪ সালে ছিল ৯৩ লাখ ৪২ হাজার এবং ২০২৫ সালে ৯৪ লাখ ৯০ হাজার, আর গাভিপ্রতি উৎপাদন ২৪,১৭৮ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২৪,৩৯২ পাউন্ড হয়।

২০২৫ সালের শেষ দিকে উৎপাদন দ্রুত বাড়ছিল। এনএএসএস জানায়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ছিল ৫৭.৮ বিলিয়ন পাউন্ড, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪.২ শতাংশ বেশি; ওই প্রান্তিকে গড়ে ৯৫ লাখ ৬০ হাজার দুগ্ধবতী গাভি ছিল। প্রধান ২৪টি দুগ্ধ-উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যে ডিসেম্বরের উৎপাদন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের চেয়ে ৪.৬ শতাংশ বেশি ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের ভার্নন কাউন্টির ওয়েস্টবির কাছে একটি দুগ্ধখামারে হলস্টাইন জাতের গাভি। ছবি: Carol M. Highsmith / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের ভার্নন কাউন্টির ওয়েস্টবির কাছে একটি দুগ্ধখামারে হলস্টাইন জাতের গাভি। ছবি: Carol M. Highsmith / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ফেডারেল দুধ মূল্য ব্যবস্থায় তরল দুধের স্থান


মার্কিন দুধের দাম নির্ধারণে পানীয় দুধের আলাদা গুরুত্ব আছে। ১৯৩৭ সালের 'অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেটিং এগ্রিমেন্ট অ্যাক্ট'-এর অধীনে গঠিত ফেডারেল মিল্ক মার্কেটিং অর্ডার (এফএমএমও) ব্যবস্থা দেশের বড় অংশকে ভৌগোলিকভাবে নির্ধারিত তরল দুধের চাহিদা-এলাকায় ভাগ করে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা শাখা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির এক বিশ্লেষণে বলা হয়, এসব অর্ডারের আওতায় ইউএসডিএ ন্যূনতম দাম ঠিক করে দেয়, যা দুধ সংগ্রহকারী প্রক্রিয়াজাতকারীদের খামারিদের দিতে হয়; এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করা, যাতে উৎপাদকেরা বাজারে ন্যায্য আচরণ পান এবং ভোক্তারা পর্যাপ্ত তরল দুধ পান।

১৯৯৬ সালের কৃষি আইনে (ফার্ম বিল) কংগ্রেস ইউএসডিএকে ব্যবস্থাটি একীভূত করার নির্দেশ দেয়; এতে অর্ডারের সংখ্যা কমে ১১টিতে দাঁড়ায় এবং নতুন বিধান কার্যকর হয় ২০০০ সালে। ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেল ব্যবস্থায় যোগ দেয় ২০১৮ সালে, আর আলাস্কা ও হাওয়াই এর বাইরে। প্রতিটি অর্ডারে দুধকে ব্যবহার অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

  • ক্লাস ১: পান করার তরল দুধ।
  • ক্লাস ২: কটেজ চিজ ও টক ক্রিমের মতো নরম পণ্য।
  • ক্লাস ৩: পনির।
  • ক্লাস ৪: মাখন ও ননিহীন গুঁড়া দুধ।

প্রতিটি শ্রেণির দাম ঠিক করতে দুগ্ধ-চর্বি, প্রোটিন, চর্বিহীন কঠিন উপাদান ও অন্যান্য কঠিন উপাদানের যে মূল্য ধরা হয়, তার ভিত্তি পনির, মাখন, ননিহীন গুঁড়া দুধ ও হুয়ের পাইকারি দাম। ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট শুরু হওয়া ৪৯ দিনের জাতীয় শুনানি এবং প্রতিটি অর্ডারে দুগ্ধ উৎপাদকদের ভোটের পর ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি ইউএসডিএ ১১টি অর্ডারেরই অভিন্ন মূল্য-সূত্র সংশোধনের চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ করে। বেশির ভাগ পরিবর্তন কার্যকর হয় ২০২৫ সালের ১ জুন; স্কিম মিল্কের গঠনের নতুন মান, অর্থাৎ ৩.৩ শতাংশ প্রোটিন, ৬.০ শতাংশ অন্যান্য কঠিন উপাদান এবং ৯.৩ শতাংশ চর্বিহীন কঠিন উপাদান, কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে।

সিআরএসের তথ্যমতে, তরল দুধের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল ক্লাস ১ স্কিম মিল্কের মূল দাম, যা দুইয়ের গড়ের বদলে আবার মাসের অগ্রিম ক্লাস ৩ ও ক্লাস ৪ স্কিম মিল্কের দামের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি ধরে নির্ধারণের নিয়মে ফেরে। বিধিতে দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণযোগ্য (এক্সটেন্ডেড শেলফ লাইফ) দুধের জন্য একটি সমন্বয় যোগ করা হয়, ক্লাস ১-এর সর্বনিম্ন ডিফারেনশিয়াল প্রতি হান্ড্রেডওয়েটে ১.৬০ ডলারে রেখে স্থানভিত্তিক সংশোধিত মান গ্রহণ করা হয়, প্রক্রিয়াজাতকরণ ভাতা বাড়ানো হয় এবং দুগ্ধ-চর্বি পুনরুদ্ধারের হার ৯১ শতাংশ ধরা হয়। সিআরএসের উদ্ধৃত ইউএসডিএর নিয়ন্ত্রক প্রভাব বিশ্লেষণের হিসাবে, এসব সংশোধনে উৎপাদকের আয় ও পুল মূল্য গড়ে প্রায় ১.২ শতাংশ বাড়তে পারে।

ছবি: U.S. Department of Agriculture / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনার নর্থ চার্লস্টনে একটি মুদি দোকানের দুগ্ধপণ্যের তাক থেকে দুধের পাত্র বেছে নিচ্ছেন নারী, শিশু ও শিশুসন্তানদের জন্য বিশেষ সম্পূরক পুষ্টি কর্মসূচির (ডব্লিউআইসি) একজন ক্রেতা, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি।

সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট, ২ এপ্রিল ২০২৬; ডেইরি ডেটার মাথাপিছু ভোগের সারণি, ডিসেম্বর ২০২৫; চার্ট অব নোট, ১৫ আগস্ট ২০১৪; অ্যাম্বার ওয়েভস, ২১ জুন ২০২২), ডায়েটারি গাইডলাইনস ফর আমেরিকানস ২০২০-২০২৫ ও ২০২৫-২০৩০ (ইউএসডিএ ও এইচএইচএস), ইউএসডিএ ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস (স্মারক এসপি ০১-২০২৫, ৭ অক্টোবর ২০২৪), মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (২১ সিএফআর ১৩১.১১০), ইউএসডিএ ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (মিল্ক প্রোডাকশন, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬), কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (আইএফ১২৯২৩, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫), ডিটিএন/প্রোগ্রেসিভ ফার্মার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬), উইকিপিডিয়া (হোল মিল্ক ফর হেলদি কিডস অ্যাক্ট অব ২০২৫)।

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

রান্নাবান্না

ঘিয়ের ব্যবসা থেকে ১৮৫ রকম মিষ্টি: বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারের চার প্রজন্ম

ব্রিটিশ আমলের ঘিয়ের ব্যবসা থেকে শুরু হওয়া বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার এখন প্রায় ১৮৫ রকম মিষ্টি বানায়, শাখা প্রায় ৪৫টি, কর্মী প্রায় তিন শ; দুধ, ছানা, ক্ষীর ও মাওয়ার বেশির ভাগ আসে মুন্সিগঞ্জ থেকে।

প্রথম আলো৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

লোকসানে খামার ছাড়ছেন প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিরা: ড. মো. ফোরকান আলীর কলাম

জাগো নিউজে লেখা কলামে ড. মো. ফোরকান আলী লিখেছেন, সাড়ে ৯ টাকা খরচের ডিম খামারিরা বেচছেন সাড়ে ছয় টাকায়; বিপিআইএর হিসাবে পাঁচ বছরে প্রায় ৬৪ হাজার খামার বন্ধ হয়েছে। মতামত লেখকের নিজস্ব।

জাগো নিউজ ২৪৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

মেক্সিকো থেকে বাছুর আমদানি কমলে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়বে গরুর মাংসের দাম: ফাপ্রির বিশ্লেষণ

নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্মের কারণে দেওয়া বিধিনিষেধের পর মেক্সিকোর গবাদিপশু আমদানি স্বাভাবিক হলে আর দীর্ঘদিন কম থাকলে কী হবে, তা তুলনা করেছে মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়; কম আমদানিতে দাম বাড়ে, মাংস উৎপাদন সরে যায় মেক্সিকোতে।

Farms.com৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)