এক দশক আগের তুলনায় ভারতে আগাছা এখন ফসলের অনেক কম অংশ কেড়ে নিচ্ছে। জবলপুরের আইসিএআর-আগাছা গবেষণা অধিদপ্তরের ২০২৬ সালের মূল্যায়নে দেখা গেছে, প্রধান মাঠ ফসলে আগাছায় গড় ফলন ক্ষতি ১৩.৪৩ শতাংশ। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালে দেশজুড়ে কৃষকের জমিতে ১,৬২২টি পরীক্ষার ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।
২০০৩-২০১৪ সালের ১,৫৮১টি মাঠ পরীক্ষার ভিত্তিতে ২০১৮ সালে একই অধিদপ্তর গড় ক্ষতি প্রায় ২৫ শতাংশ ধরেছিল, যার আর্থিক মূল্য ছিল বছরে প্রায় ১,১০০ কোটি মার্কিন ডলার। তখন ক্ষতি সবচেয়ে বেশি ছিল চীনাবাদামে (৩৫.৮ শতাংশ), সয়াবিনে (৩১.৪ শতাংশ), মুগে (৩০.৮ শতাংশ), বাজরায় (২৭.৬ শতাংশ) ও ভুট্টায় (২৫.৩ শতাংশ)।
নতুন হিসাবে বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১,০৫৮ কোটি ডলার। ফসলের সংশোধিত ও বাড়তি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ধরে হিসাব করার পরও তা ২০১৮ সালের চেয়ে কম।
আইসিএআর বলছে, কোনো একক প্রযুক্তিতে এই উন্নতি আসেনি। কৃষকের হাতে এখন বেশি বিকল্প: আগাছা গজানোর আগে ও পরে প্রয়োগের আগাছানাশক, উন্নত ফর্মুলেশন ও প্রয়োগ পদ্ধতি, যান্ত্রিক উপায় এবং চাষাবাদের কৌশল। শ্রমিক সংকট বা হাতে নিড়ানির খরচ বেশি হলে আগাছানাশক সবচেয়ে কাজে এসেছে। ফসল ও আগাছার প্রতিযোগিতার সংকটকালে সময়মতো আগাছা দমন করলে পানি, পুষ্টি, আলো ও জায়গা ফসলের জন্যই থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষকের বাড়তি জ্ঞান, ভালো সম্প্রসারণ সেবা এবং আগাছা দমন উপকরণ সহজলভ্য হওয়ার মিলিত ফল এটি। সমন্বিত আগাছা ব্যবস্থাপনা আরও ছড়ালে ফসলের আরও বড় অংশ রক্ষা পাবে।
ছবি: Lynn Betts, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)