ভারতের গুরুগ্রামের রাস্তায় যানবাহনের ধোঁয়া ২০২৫ সালে শহরের শিশু-কিশোরদের বায়ুদূষণজনিত নতুন হাঁপানির প্রতি চারটির একটির জন্য দায়ী, আর অসুস্থতায় তারা আনুমানিক ৯৪ হাজার ৮৫৯ দিন স্কুলে যেতে পারেনি, যা ৪৩১ জন শিক্ষার্থীর পুরো এক শিক্ষাবর্ষের সমান। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশনের (আইসিসিটি) গবেষণার বরাতে এ খবর দিয়েছে ডাউন টু আর্থ।
যান নিঃসরণের সবচেয়ে বড় উৎস ব্যক্তিগত গাড়ি; দিল্লির এই উপশহরে এখন প্রতি ১ হাজার বাসিন্দার জন্য ৩২৩টি গাড়ি, যা ভারতে সর্বোচ্চ হারগুলোর একটি। নিঃসরণের ৮০ শতাংশের বেশি এসেছে নতুন বিএস-৪ ও বিএস-৬ মানের গাড়ি থেকে; গবেষকদের মতে, পুরোনো গাড়ির ওপর বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা যতটা করার, ততটা করে ফেলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গুরুগ্রামে নিবন্ধিত সব গাড়ি বৈদ্যুতিক হলে স্বাস্থ্যগত সুফলের চার ভাগের তিন ভাগ মিলবে; বাকিটা নির্ভর করছে দিল্লি ও রাজধানী অঞ্চলের অন্য এলাকা থেকে প্রতিদিন শহরে ঢোকা প্রায় ৫ লাখ যানবাহনের ওপর। ভারতের অন্যতম দূষিত এই শহরে দূষণের উৎস নিয়ে আগে কোনো সরকারি গবেষণা হয়নি; অথচ যানবাহন নিবন্ধন এখন সাত বছরের সর্বোচ্চে, আর নতুন বিক্রির মাত্র ৪.৩ শতাংশ বৈদ্যুতিক।
গবেষণার সহলেখক, আইসিসিটির গবেষক মূর্তি নায়ার বলেন, শিশুরা বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বিশেষভাবে নাজুক, আর সড়ক পরিবহন এর একটি বড় কারণ। বায়ুমান ব্যবস্থাপনা কমিশনের চেয়ারপারসন রাজেশ বর্মা জানান, দিল্লি ও আশপাশে দূষণের প্রধান উৎস যানবাহন, আর কমিশন রাজ্যগুলোকে বৈদ্যুতিক যানে প্রণোদনা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
গবেষণাটি দুই ও তিন চাকার যান এবং স্কুলবাসসহ সব ধরনের যানবাহনে দ্রুত শূন্য নিঃসরণে যাওয়ার এবং আশপাশ থেকে গুরুগ্রামে ঢুকে চলাচল করা যানবাহনের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ছবি: Mbhushan21 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)