কাশি নেই, নাক দিয়ে পানি পড়ছে না, কান ঝুলে পড়েনি—তবু বাছুরের ফুসফুসে থাকতে পারে শ্বাসতন্ত্রের রোগ। উত্তর আয়ারল্যান্ডের অ্যাগ্রি-ফুড অ্যান্ড বায়োসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট (Agri-Food and Biosciences Institute, এএফবিআই)-এর গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে। গর্ভপরীক্ষায় পশুচিকিৎসকেরা যে বহনযোগ্য আলট্রাসাউন্ড যন্ত্র ব্যবহার করেন, সেটি দিয়েই এএফবিআই হিলসবরোর গবেষকেরা চোখে সুস্থ বাছুরের ফুসফুসে ক্ষত খুঁজে পেয়েছেন।
ফিড ফর গ্রোথ (Feed For Growth, ভোলাক মিল্ক রিপ্লেসার্স লিমিটেড)-এর অর্থায়নে গবেষণাটি হয়েছে বাছুরের পুষ্টিবিষয়ক একটি বৃহত্তর পরীক্ষার অংশ হিসেবে। ১০৮টি বাছুরকে ১৩ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য দেওয়া হয়; প্রতিদিন খাদ্যগ্রহণ, প্রতি দুই সপ্তাহে ওজন মাপা হয় এবং সপ্তাহে তিনবার শ্বাসতন্ত্রের রোগের দৃশ্যমান লক্ষণ পরীক্ষা করা হয়। পাঁচ–ছয় সপ্তাহ ও ১২–১৩ সপ্তাহ বয়সে প্রতিটি বাছুরের ফুসফুস স্ক্যান করা হয়।
প্রথম স্ক্যানে অধিকাংশ বাছুরের ফুসফুস সুস্থ ছিল: ৫.৬ শতাংশের (ছয়টি বাছুর) মাঝারি নিউমোনিয়া ছিল, গুরুতর ক্ষত কারও নয়; আর সেই ছয়টির মধ্যে মাত্র দুটির দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয় স্ক্যানে মাঝারি নিউমোনিয়ার হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৪.৮ শতাংশে (১৬টি বাছুর), অথচ এই ১৬টির একটিকেও অসুস্থ মনে হয়নি।
এএফবিআই জানায়, শ্বাসতন্ত্রের রোগ বা নিউমোনিয়া বাছুরের অসুস্থতা ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ; যুক্তরাজ্যের গবাদিপশু খাতে এতে বছরে ৬ থেকে ৮ কোটি পাউন্ড ক্ষতি হয়। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসে রোগটি হয়, আর দুর্বল বায়ু চলাচল, ঠান্ডা ও আর্দ্র ঘর, জন্মের পর যথেষ্ট ভালো শালদুধ না পাওয়া এবং শিং কাটা, নতুন দলে মেশানো ও দুধ ছাড়ানোর মতো চাপের ঘটনায় তা বাড়ে।
এএফবিআইয়ের গবেষক ড. জিলিয়ান স্কোলি (Dr Gillian Scoley) বলেন, 'এই গবেষণার ফল দেখাচ্ছে, দৃশ্যত সুস্থ বাছুরের মধ্যেও রোগটি থাকতে পারে, যা সারা জীবন তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।' তাঁর মতে, স্ক্যানের মাধ্যমে দলগতভাবে সব বাছুরকে ওষুধ না দিয়ে রোগের প্রকৃত মাত্রা অনুযায়ী আলাদা আলাদা বাছুরের চিকিৎসা করা যায়, যা ওষুধের দায়িত্বশীল ব্যবহারকেও সমর্থন করে।
ফিড ফর গ্রোথের ড. জেসিকা কুক (Dr Jessica Cooke) জানান, ভিন্ন পুষ্টিমাত্রা ফুসফুসের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে কি না, তা দেখাই ছিল দলের লক্ষ্য, আর স্ক্যান তাদের দৃশ্যমান লক্ষণের বাইরে গিয়ে ফুসফুস যাচাইয়ের সুযোগ দিয়েছে। স্ক্যান করেছেন লিসবার্ন ভেটেরিনারি ক্লিনিকের ইয়ান স্মিথ (Iain Smith); তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে টিকাদান কর্মসূচি কতটা কাজ করছে তাও বোঝা যায়।
ঝুঁকির সময়ে যেসব লক্ষণে নজর রাখতে এএফবিআই বলেছে: দুধ খাওয়া কমে যাওয়া, কান নাড়ানো বা ঝুলে পড়া, চোখ-নাক দিয়ে স্রাব, কাশি, ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা, নিস্তেজ ভাব ও কষ্টকর শ্বাস।
প্রতিবেদনটি অ্যাগ্রিল্যান্ডের জন্য লিখেছেন ক্যাথলিন ও'সালিভান (Kathleen O'Sullivan)।
সূত্র: Agriland




মন্তব্য
(০)