টমেটো স্পটেড উইল্ট ভাইরাসের (টিএসডব্লিউভি) প্রথম সংক্রামক ক্লোন তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এঅ্যান্ডএম অ্যাগ্রিলাইফ রিসার্চের গবেষকেরা। এতে রোগ প্রতিরোধী টমেটো ও মরিচের জাত উদ্ভাবন দ্রুত হতে পারে বলে জানিয়েছে ফার্মস ডটকম। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের হাতে এমন ক্লোন এটিই প্রথম।
উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব ও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনমারি ভারশোর নেতৃত্বে দলটি মরিচে সংক্রমণকারী একটি টিএসডব্লিউভি নমুনার পূর্ণ জিনোমের ডিএনএ কপি তৈরি করেছে। এই ক্লোন থেকে মূল ভাইরাসের মতোই আচরণ করা সংক্রামক ভাইরাস তৈরি হয়, ফলে বিজ্ঞানীরা যত খুশি ভাইরাস বানিয়ে গবেষণার গাছে আরও দক্ষভাবে সংক্রমণ ঘটাতে পারবেন। গবেষণাটি আমেরিকান ফাইটোপ্যাথলজিক্যাল সোসাইটির সাময়িকী মলিকুলার প্ল্যান্ট-মাইক্রোব ইন্টারঅ্যাকশনসে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিরোধী জিন খুঁজতে প্রজননবিদদের নির্ভরযোগ্যভাবে গাছে ভাইরাস প্রয়োগ করতে হয়, তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারশো বলেন, প্রজননবিদদের হাতে দ্রুত জাত উদ্ভাবনের প্রযুক্তি তুলে দিয়ে তাঁরা আশা করছেন, বাজারে মরিচ, টমেটো ও অন্য সবজির জোগান বাড়বে, দামও কমবে।
টিএসডব্লিউভি ছড়ায় থ্রিপস নামের ক্ষুদ্র পোকার মাধ্যমে, যারা এক খেত থেকে আরেক খেতে যায় এবং বাতাসে ভেসে নতুন এলাকায় পৌঁছায়। বিশ্বে এক হাজারের বেশি সবজি, ফল ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদের জাত এতে আক্রান্ত হয়, ফলন কমে এবং ফসল বিক্রির অযোগ্য হয়ে পড়ে। ইউএসডিএর রিস্ক অ্যাভয়ডেন্স অ্যান্ড মিটিগেশন প্রোগ্রামের হিসাবে শুধু ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় এ ভাইরাসে বছরে প্রায় ১০ কোটি ডলারের ফসলের ক্ষতি হয়।
চাষিরা এখন প্রতিরোধী জাত লাগান, কিন্তু নতুন ধরনের ভাইরাস সেই প্রতিরোধ ভেঙে দিতে পারে। তাই গবেষকেরা বিভিন্ন ধরনের জিনগত পার্থক্য খুঁজছেন, যাতে বোঝা যায় কোনটি কতটা মারাত্মক এবং কীভাবে ছড়ায়।
ভারশোর গবেষণাগারের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী হেডেন বল বলেন, এই ক্লোন যুক্তরাষ্ট্রের সব গবেষককে একই সূচনাবিন্দু দেবে, ফলে খেতে ভাইরাস শনাক্ত করা ও রোগ ব্যবস্থাপনার কৌশল তৈরি সহজ হবে।
ছবি: Carlos Gonzalez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)