সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৮২%বাতাস কিমি/ঘ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালি বাংলাদেশে, তবুও কেন হারিয়ে যাচ্ছে?

শৈশবেই আমরা কাঠবিড়ালি সম্পর্কে জেনেছি। একসময় বাড়ির উঠান থেকে দৌড়ে গিয়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে যেতে দেখেও আমাদের বিস্ময়ের সীমা ছিল না। ছোট কিন্তু খুব চঞ্চল প্রকৃতির প্রাণী কাঠবিড়ালি। চালাক প্রাণীটি ধরা যেন অসাধ্য। এই মনে হয় হাতের কাছেই, চেষ্টা করলেই ধরা যাবে কিন্তু চোখের পলকেই ছুট। এ-গাছ ও-গাছ করে কোথায়

ফল

শৈশবেই আমরা কাঠবিড়ালি সম্পর্কে জেনেছি। একসময় বাড়ির উঠান থেকে দৌড়ে গিয়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে যেতে দেখেও আমাদের বিস্ময়ের সীমা ছিল না। ছোট কিন্তু খুব চঞ্চল প্রকৃতির প্রাণী কাঠবিড়ালি। চালাক প্রাণীটি ধরা যেন অসাধ্য। এই মনে হয় হাতের কাছেই, চেষ্টা করলেই ধরা যাবে কিন্তু চোখের পলকেই ছুট। এ-গাছ ও-গাছ করে কোথায় যে হারিয়ে যায়, খুঁজেই পাওয়া মুশকিল। কাঠবিড়ালি রোডেনশিয়া বর্গের স্কিউরিডে গোত্রের অনেকগুলো ছোট বা মাঝারি আকারের স্তন্যপায়ী প্রজাতির অন্যতম। মূলত এই বর্গের স্কিয়ারাস এবং টামিয়াস্কিয়ারাস প্রজাতিকেই কাঠবিড়ালি বলা হয়। এই প্রজাতি দুটো এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের বাসিন্দা এবং এরা ঝাঁপালো লেজ বিশিষ্ট গাছে থাকা কাঠবিড়ালি।

উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি, চিপমঙ্ক, প্রেইরি কুকুর, উডচাক প্রভৃতি মেঠো প্রজাতি স্কিউরিডে গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর সবখানেই কাঠবিড়ালির দেখা পাওয়া যায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের কিছু কাঠবিড়ালির শরীরে সাদা-কালো ডোরা থাকে। কাঠবিড়ালির সামনের পা দুটো ছোট এবং পেছনের পা দুটো বড় হয়ে থাকে, ফলে এরা খুব সহজেই লাফ দিতে পারে। উড়ুক্কু কাঠবিড়ালির সামনের পা থেকে পেছনের পা পর্যন্ত শরীরের সাথে লোমশ চামড়া সংযুক্ত থাকে।

একসময় আমাদের দেশের প্রায় সব জেলায়ই কাঠবিড়ালি ছিল। এখন তেমনটি নেই। অল্প কিছু জেলায় কাঠবিড়ালি টিকে আছে। আবাস ধ্বংস, মাংসের জন্য ও শখের শিকারের ফলে এরাও বাংলাদেশের অন্যসব বন্যপ্রাণীর মতো বিপন্ন। বাসস্থান সংকট, খাদ্যাভাব, কীটনাশক প্রয়োগ ও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে দিনদিন কমে যাচ্ছে নিরীহ প্রাণী কাঠবিড়ালির সংখ্যা। একসময় দেশের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জের গাছের ডালপালায় নিরীহ নয়নাভিরাম প্রাণীটিকে হরহামেশাই দেখা যেতো। ১০-১২ ইঞ্চির প্রাণীটির গাছে গাছে ছিল অবাধ বিচরণ। লম্বাটে শরীরের স্তন্যপায়ী প্রাণী কাঠবিড়ালির সামনের ছোট দুই পায়ের দীর্ঘ লেজ ঘন পশমে ঢাকা। প্রখর দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন এই প্রাণীর পায়ের আঙুলে ধারালো নখ দিয়ে লেজ গুটিয়ে মুহূর্তে যে কোনো গাছের আগায় উঠে যায়। যেন পাখিদের মতো দ্রুতবেগে উড়ে বেড়ায় কাঠবিড়ালিরা।

সামনের দুপা যেন দুহাতের মতো এই দিয়ে মুখের কাছে তুলে দারুণ ভঙ্গিতে ফল, খেজুরের রস, বীজ এদের প্রিয় খাবারগুলো খায়। খাওয়ার ভঙ্গি মানুষের দৃষ্টি কাড়ে। কাঠবিড়ালি কমে যাওয়ায় শিশুরা এদের চিনছে ও জানছে বইয়ের পাতায়। বাস্তবে অনেক শিশুই আর দেখছে না, বিশেষ করে শহুরে শিশুরা। তারপরও বিভিন্ন শহর ও গ্রামের ঘন জঙ্গলাকীর্ণ গাছ-গাছালিতে টিকে থাকা এই প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থলে বসবাসের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। 'বিশ্বের সবচেয়ে বড়' কাঠবিড়ালি চুনারুঘাটের বনে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গায়। মালয়ান কাঠবিড়ালির দেহের দৈর্ঘ মাথাসহ প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার। আর লেজ ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

প্রচলিত আছে, বাংলাদেশের শুধুুু একমাত্র চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বিরল এই প্রাণীর দেখা মেলে। তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য বনেও আছে। তবে তা সংখ্যায় এত কম যে খুব সহজে দেখা যায় না। বাংলাদেশে মোট ৮ প্রজাতির কাঠবিড়ালি আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় মালয়ান কাঠবিড়ালি। মালয়ান কাঠবিড়ালিকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালি। মালয়ান কাঠবিড়ালি দেখতে সাধারণ কাঠবিড়ালির মতো নয়। আকৃতিতে অন্যান্য কাঠবিড়ালির তুলনায় বেশ বড়। বিশাল লম্বা লেজ আর বড় বড় কান দেখলে মনে হতে পারে বানর জাতীয় কিছু। আইইউসিএন এ কাঠবিড়ালিকে সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করেছে। ক্রমাগত বন ধ্বংস, বনের প্রাকৃতিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা বিনষ্ট করা, বনের পুরোনো এবং দীর্ঘদেহী বৃক্ষগুলো উজাড়, বনে নতুন করে বসতি স্থাপন, দীর্ঘদিন ধরে বনে বাস করা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষেরা বন্যপ্রাণীদের গোপনে শিকার বা হত্যা করার কারণে মালয়ান কাঠবিড়ালির অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে। বনের পরিবেশ রক্ষা না করতে পারলে এরা অচিরেই হারিয়ে যাবে।

একটি পূর্ণবয়স্ক কাঠবিড়ালি সব মিলিয়ে দেড় মিটারের মত লম্বা এবং প্রায় দুই কেজি ওজন হতে পারে। এদের মাথা, কান, লেজসহ পৃষ্ঠদেশ কালো বা মেরুন বর্ণের এবং পেটের দিকটা সাদা হয়। গাছের মগডালে ডালপালা ও পাতা দিয়ে বাসা তৈরি করে থাকে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রজনন মৌসুম। বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, নেপাল, ভারত, মায়ানমার, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালেয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া এই দেশগুলোর গহিন বনে মালয়ান কাঠবিড়ালির দেখা মেলে। মূলত তৃণভোজী এই কাঠবিড়ালির খাদ্যতালিকায় রয়েছে বুনো ফল, বীজ ও কচি পাতা। এ বনের নানা প্রজাতির কাঠবিড়ালির মধ্যে বিরল এবং সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালিটি রেমা কালেঙ্গা বনে আছে। এটি আমাদের জন্য ভালো খবর। এটি অন্য কোনো বনে দেখা যায় না।

গবেষকরা বলেন, দেশের ৮ প্রজাতির কাঠবিড়ালির মধ্যে মালয়ান সবচেয়ে বড় কাঠবিড়ালিটি রেমা-কালেঙ্গায়। এতবড় কাঠবিড়ালি এখন সারাবিশ্বেই বিরল। অন্য বনে এদের অবস্থান থাকলেও সাধারণত দেখা যায় না। তবে দেশে একমাত্র রেমা কালেঙ্গা বনে এদের সহজে দেখা মেলে এবং এই বনে এদের অবস্থা ভালো। প্রাণীটি প্রাকৃতিক বনেই থাকে, তাই এখনই বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী না হলে মালয়ান কাঠবিড়ালি হারিয়ে যাবে আমাদের দেশ থেকে। প্রাণী গবেষকরা জানান, বাংলাদেশে আট প্রজাতির কাঠবিড়ালি দেখা যায়। এদের মধ্যে পাঁচডোরা কাঠবিড়ালি ও তিনডোরা কাঠবিড়ালি মানুষের সংস্পর্শে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা জানান, কাঠবিড়ালি পরিবেশের উপকারী প্রাণী। এ প্রাণীর উন্নয়নে সবারই কাজ করা প্রয়োজন। তাদের রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

গৃহবন্দি সময় কাটে ফেসবুক-ইউটিউবে, ড্রাগন চাষে সফল ইব্রাহীম

করোনাকালে গৃহবন্দি ছিলেন মাগুরার মো. ইব্রাহীম। কাজের ব্যস্ততা ছিল না। অবসর কাটাতে ফেসবুক ও ইউটিউবে ঘুরে বেড়াতেন। একদিন ড্রাগন ফল চাষের একটি ভিডিও তার নজরে আসে। এরপর একের পর এক ভিডিও দেখতে থাকেন। ধীরে ধীরে ড্রাগন চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। একসময় অনলাইনে দেখা সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন চাষ

জাগো নিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

জ্যাম-জেলি নয়, এবার পেয়ারা দিয়ে বানান টক-মিষ্টি তরকারি

আমাদের দেশে পেয়ারা সাধারণত পাকা ফল হিসেবেই বেশি খাওয়া হয়। পাকা পেয়ারা কেটে খাওয়া, জ্যাম, জেলি কিংবা বিভিন্ন মিষ্টি পদে ব্যবহার-এসবই বেশ পরিচিত। কিন্তু পেয়ারা যে শুধু ফল হিসেবে খাওয়ার জন্য নয়, তা জানলে অনেকেই অবাক হতে পারেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাঁচা বা আধাপাকা পেয়ারা দিয়ে নানা ধরনের রান্না করার চল

জাগো নিউজ ২৪১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()