সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩৪°ভারী বৃষ্টিআর্দ্রতা ৫৭%বাতাস কিমি/ঘবৃষ্টি ১.৫ মিমি

কৃষিনির্ভর গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রতীক গরু

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। এই কৃষিনির্ভর গ্রামীণ জীবনযাত্রায় গরু পালন দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। একসময় গরু ছিল প্রধানত হালচাষ, গোবর ও দুধের উৎস। এখন সেই গরুই হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার প্রতীক, আয়ের উৎস, পুষ্টির জোগানদাতা এবং আত্মনির্ভরতার প

লাইভস্টক

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। এই কৃষিনির্ভর গ্রামীণ জীবনযাত্রায় গরু পালন দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। একসময় গরু ছিল প্রধানত হালচাষ, গোবর ও দুধের উৎস। এখন সেই গরুই হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার প্রতীক, আয়ের উৎস, পুষ্টির জোগানদাতা এবং আত্মনির্ভরতার পথ প্রদর্শক।

গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এক বা একাধিক গরু থাকা যেন এখন সাধারণ চিত্র। কেউ পালন করেন দুধ বিক্রির জন্য, কেউবা কোরবানির মৌসুমে বিক্রি করতে। অনেকে আবার খামার গড়ে তুলেছেন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। এসব খামারে দেশি ও উন্নত জাতের গরু পালনের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে দুধ, মাংস ও গোবর। যার প্রতিটিই অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে গরু পালনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সহজলভ্য খাবারের ব্যবস্থা। গ্রামের মাঠে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো নরম ঘাস, রাস্তার পাশে থাকা কাঁচা লতা-গুল্ম, ক্ষেতের আগাছা সবকিছুই গরুর জন্য আদর্শ খাবার। পাশাপাশি রান্নাঘর থেকে আসা ভাতের মাড়, ফেলে দেওয়া সবজির খোসা বা অন্য উচ্ছিষ্ট গরুর খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে আলাদাভাবে দানাদার খাবার বা ফিড কিনতে হয় না। যা খাবার খরচ কমিয়ে দেয়।

দুধ হচ্ছে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক আয়ের মাধ্যম। অনেক পরিবার প্রতিদিন ২-৫ লিটার দুধ বিক্রি করে নগদ টাকা পাচ্ছেন। এই দুধ দিয়ে তৈরি হচ্ছে দই, ঘি, ছানা; যা স্থানীয় বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্রামের নারীরা এতে সরাসরি যুক্ত হয়ে ঘরে বসে আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। শুধু পুষ্টি নয়, তাদের জীবনে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতাও।

গোবরও ফেলনা নয়। এটি জ্বালানি ও জৈবসার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অনেকে গোবর দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করে বিক্রি করছেন কৃষকদের কাছে। এতে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমে যাচ্ছে। বাড়ছে টেকসই চাষাবাদ।

পাশাপাশি কোরবানির ঈদকে ঘিরে তৈরি হয় বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার। সারাবছর ধরে পরিচর্যার পর একটি গরু বিক্রি করে মিলছে হাজার হাজার টাকা। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে অনেক খামারি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শহরে গরু বিক্রি করছেন।

গরু পালনে এখন রয়েছে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিনা মূল্যে টিকা প্রদান, প্রশিক্ষণ ও কৃত্রিম প্রজনন সেবা দিচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছে খামারিদের। এসব সহায়তায় বাড়ছে খামারের পরিধি, উন্নত হচ্ছে উৎপাদন।

তবে এ খাতে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। যেমন উন্নত জাতের গরুর ঘাটতি, সুষম খাদ্যের অপ্রতুলতা, দক্ষ ভেটেরিনারি সেবার সংকট ও রোগব্যাধি প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা। অনেক সময় গরু চুরি বা মহামারির মতো ঝুঁকিও দেখা দেয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ।

তবুও সম্ভাবনা অবারিত। পরিকল্পিতভাবে গরু পালন করতে পারলে তা শুধু ব্যক্তিগত আয় নয় বরং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থায়ও গতি এনে দেয়। পুষ্টি, কর্মসংস্থান, আর্থিক উন্নয়ন সবই একসঙ্গে সম্ভব একটি খাত ঘিরে। এ কারণেই বলা যায়, গ্রামীণ জীবিকা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার অনন্য নাম 'গরু'। প্রাচীন পরিচর্যার এ প্রাণী এখন গ্রামবাংলার সম্ভাবনাময় আগামী দিনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

ডিম-মুরগির দাম কারসাজিতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি, খামারিরা বলছেন গরমেই উৎপাদন কম

ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তর ডিম ও মুরগির দাম কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেও পোলট্রি উদ্যোক্তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে উৎপাদন কমাই দাম বাড়ার কারণ।

সমকাল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিদ্ধ ডিম কতক্ষণের মধ্যে খাওয়া উচিত?

ঝটপট প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে কিংবা সকালের নাশতায় ডিমের জুড়ি নেই। ব্যস্ত সকালে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে রাখেন। পরিবারের সবাই খাওয়ার পরও দু-একটি ডিম বেঁচে গেলে তখন প্রশ্ন আসে-সেগুলো কি পরে খাওয়া যাবে? নাকি সিদ্ধ ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়? সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সিদ্ধ ডিম ফেলে দেওয়ার

জাগো নিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

কলম্বিয়ার নতুন আইনে গবাদিপশুর বাণিজ্য বাঁধা পড়ল বন পর্যবেক্ষণে

২০২৬ সালের ৪ জুন কার্যকর হওয়া লেই ২৫৮৫ কলম্বিয়ার গবাদিপশুর ট্রেসেবিলিটিকে বন পর্যবেক্ষণ ও ভূমির নথির সঙ্গে যুক্ত করেছে; আইনের তিনটি অনুচ্ছেদ গড়ে উঠেছে অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিআইএটি-র কাজের ওপর ভিত্তি করে।

CGIAR১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()