থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককসহ দেশটির বড় অংশ ভয়াবহ বন্যায় ডুবেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৪১টি প্রদেশ বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজারের বেশি বাড়ি, আর ৮০ হাজারের বেশি মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। সোমবার রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর দিয়েছে সমকাল।
ব্যাংককে গত সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনে ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা শহরটিতে পুরো সেপ্টেম্বরে সাধারণত যে বৃষ্টি হয় তার কাছাকাছি। কোথাও কোথাও সড়ক ও আবাসিক এলাকা কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫ হাজার ৯০১ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব উনসিত সামপুনথারাত জানান, ত্রাণে ভাসমান রান্নাঘর ও নৌযান ব্যবহার করা হচ্ছে। বন্যার পুরো সময় এবং পানি নেমে যাওয়ার পর অন্তত আরও সাত দিন সব বাসিন্দাকে দিনে তিন বেলা খাবার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
রাজধানীর বাইরে উপকূলীয় প্রদেশ রায়ংয়ে দুটি জলাধারের পানি ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সোমবার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রদেশটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের পাশে।
অর্থনীতিতেও ধাক্কা লাগছে। রাংসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অর্থনীতিবিদের হিসাবে ক্ষতি অন্তত ১ হাজার ১০০ কোটি বাত বা প্রায় ৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলার হতে পারে, আর এ বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব দ্য থাই চেম্বার অব কমার্সের হিসাবে শুধু ব্যাংককেই ক্ষতি প্রায় ৭০০ কোটি বাত, দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ২৩০ কোটি বাত।
ব্যাংককের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি বাং কাপিতে পানির মধ্যেই বাজার বসছে; ব্যবসায়ীরা ভাসমান প্লাস্টিকের বাক্স ও ড্রামে পণ্য বেচছেন। এর আগে গত বছর দক্ষিণাঞ্চলে তিন দিনে ৬৩০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর বন্যায় অন্তত ১৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৩৩ হাজারের বেশি বাড়ি প্লাবিত হয়েছিল।
বর্ষা শেষের এমন অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শহর ও কৃষি অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি কতটা বাড়ায়, থাইল্যান্ডের এ বন্যা তারই আরেক উদাহরণ।
ছবি: Cpl. Robert J. Maurer, U.S. Marine Corps (ব্যাংককের সাই মাই, ২০১১ সালের বন্যা) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)