কুয়েত সরকারকে উপহার দেওয়ার জন্য গত এপ্রিলে ২০ টন উচ্চমানের বড় আকারের মাছ কিনেছিল সরকার—১০ টন গলদা চিংড়ি, ৫ টন রুপচাঁদা ও ৫ টন বাগদা চিংড়ি। ফ্লাইট-জটিলতায় সেই মাছ কুয়েতে পাঠানো যায়নি। গত মাসে দেশের বাজারে বিক্রির জন্য নিলাম ডাকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি); খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান ৫ টন বাগদা কিনে নিলেও ১০ টন গলদা ও ৫ টন রুপচাঁদা রয়েই গেছে। সেগুলোর জন্য আবার নিলাম ডেকেছে সংস্থাটি।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের উপহার হিসেবে চাল ও মাছসহ কিছু পণ্য কুয়েতকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং কুয়েত নিজেদের নিয়মিত ফ্লাইটে তা নিয়ে যাবে বলে জানিয়েছিল। এপ্রিলে চাল নিলেও মাছ নেয়নি কুয়েত সরকার; সূত্রের ভাষ্য, পচনশীল পণ্য হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মাছ নিতে তাদের অনাগ্রহ ছিল। পাঁচ মাস অপেক্ষার পর ১৮ আগস্ট প্রথম নিলামের দরপত্র আহ্বান করে টিসিবি।
নতুন নিলামে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে ঢাকার প্রধান কার্যালয় অথবা খুলনা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ন্যূনতম ৫০০ কেজির জন্য দর দেওয়া যাবে; গলদা ও রুপচাঁদার জন্য আলাদা দর ও জামানত লাগবে। মাছ আছে খুলনার বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোটে ট্রাস্ট সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে; ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত নমুনা দেখা যাবে।
দরপত্রের সঙ্গে টিসিবির অনুকূলে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকার ফেরতযোগ্য পে-অর্ডার জমা দিতে হবে; পরিমাণ বেশি হলে জামানত আনুপাতিক হারে বাড়বে। সর্বোচ্চ দরদাতা বিজয়ী হবেন এবং উদ্ধৃত দরের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
বিজয়ীকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করে পরের তিন দিনের মধ্যে নিজ খরচে মাছ নিতে হবে; দেরি হলে প্রতিদিনের সংরক্ষণ খরচ দিতে হবে, নির্ধারিত সময়ে না নিলে নিলাম বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত হতে পারে। জামানত ছাড়া দর প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে না।
টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক শাহাদত হোসেন জানান, ৫ টন বাগদা বিক্রি হয়ে গেছে এবং গলদা ও রুপচাঁদার জন্য পুনর্নিলাম ডাকা হয়েছে; এ দফায় সব মাছ বিক্রি হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। আগ্রহীরা যাতে ঢাকাতেও মাছ দেখতে পারেন, সে জন্য খুলনা থেকে কিছু মাছ আনা হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)