তানজানিয়ার কিলোম্বেরো উপত্যকার কৃষকেরা যে জমিতে আখ ও ধান চাষ করেন, তার ওপর দিয়েই পাহাড় থেকে নিচু বনে যাতায়াত করে সাভানার হাতির দল। পুরোনো বেড়া দিয়ে হাতি আটকানো যাচ্ছিল না। এখন হাতির নিরাপদ চলাচলের জন্য ১৪ কিলোমিটার লম্বা একটি বন্যপ্রাণী করিডর তৈরি হচ্ছে, যার দুই পাশে থাকবে হাতি-প্রতিরোধী বৈদ্যুতিক বেড়া—যাতে হাতিও নিরাপদে চলে, খেতও বাঁচে।
তানজানিয়া ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট অথরিটির জন্য প্রথম পরীক্ষামূলক করিডরের কাজ শুরু হয়ে গেছে। যন্ত্রাংশ দিচ্ছে নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্যালাহার: নিউজিল্যান্ডে তৈরি ইনসুলেটর, ববিন, আর্থিং ও এনার্জাইজার, সঙ্গে এমন নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার, যা দিয়ে দূর থেকে বেড়ার অবস্থা নজরে রাখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির আফ্রিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের পেরিমিটার ফেন্সিং প্রধান মার্ক স্মিট বলেন, বেড়া বন্ধ থাকলে হাতি তা টের পায়, তাই দ্রুত খবর পেয়ে দল পাঠানো জরুরি।
করিডরটি ২০০ মিটার চওড়া। দুই পাশে ১.৩ মিটার উঁচু শোধিত কাঠের খুঁটিতে বৈদ্যুতিক তার, আর উচ্চতা বাড়াতে ১.২ মিটারের বিদ্যুতায়িত ‘হাতির গোঁফ’—৪.৫ মিলিমিটার ইস্পাতের তারের কোনাকুনি শলাকা, যা হাতিকে খুঁটির কাছে ঘেঁষতে দেয় না। স্মিটের ভাষায়, হাতি খুব চালাক; খুঁটির ওপর শুঁড় রাখার সুযোগ পেলেই টেনে উপড়ে ফেলবে। করিডরের দুই পাশেই আখখেত ও ধানখেত।
করিডরটি উদজুংওয়া মাউন্টেনস জাতীয় উদ্যানকে নিয়েরেরে জাতীয় উদ্যান ও পাশের মাগোম্বেরা বনের সঙ্গে যুক্ত করবে; পথজুড়ে লাগানো হয়েছে এক লাখ দেশি গাছ। স্মিট জানান, এটি এমন প্রায় ৭০টি করিডরের প্রথমটি, আর তানজানিয়ায় এ ধরনের প্রকল্প এই প্রথম; কেনিয়ার জাতীয় উদ্যানগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রাংশ দিয়ে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বেড়া দেওয়া হয়েছে।
গ্যালাহারের আফ্রিকাসহ একটি অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক হ্যামিশ উইগ বলেন, প্রকল্পটি কৃষকের ফসলও রক্ষা করছে, কারণ হাতির দল এলাকা দিয়ে গেলে আখবাগান নষ্ট হয় এবং মানুষের জীবিকায় বড় আঘাত আসে।
ছবি: Bernard Dupont / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly NZ





মন্তব্য
(০)