গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস কাটাকাটি এবং বিয়ের দাওয়াত খাওয়ার পর দুই গ্রামে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়েছে। নতুন চারজনসহ এ পর্যন্ত ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে উপজেলায় শিয়ালের কামড়ে ৯ জন মানুষ ও দুটি গরু জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ৩১ আগস্ট কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামে দুটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। গৃহস্থরা স্থানীয়দের সাহায্যে গরু দুটি জবাই করে প্রায় ২০০ জনের কাছে মাংস বিক্রি করেন। এরপর অনেকের শরীরে ফোসকাসহ অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয় এবং হাসপাতালে পরীক্ষায় রোগ শনাক্ত হয়।
বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও এপিডেমিওলজি সেলের একটি দল এলাকা পরিদর্শন করে। সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে পাঠানো অসুস্থ গরুর মাংসে অ্যানথ্রাক্স এবং শিয়ালের মাথায় জলাতঙ্কের জীবাণু পাওয়া গেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে ভর্তি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাবে সুন্দরগঞ্জে গরু আছে ২ লাখ ৫৪ হাজার। আক্রান্ত এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ৪৫ হাজার গরুকে টিকা দেওয়া প্রয়োজন হলেও টিকা পাওয়া গেছে ৩০ হাজার, আর জনবলসংকটে সবাইকে দ্রুত টিকা দেওয়া যাচ্ছে না। খামারিদের অভিযোগ, গত বছরও অ্যানথ্রাক্স দেখা দিয়েছিল; আগাম প্রস্তুতি ও সময়মতো টিকা না থাকায় এবারও সংকট তৈরি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে ২৫ জন আক্রান্ত হন, মারা যান একজন নারী এবং ১০টি গরু।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত পশুর রক্ত যাঁদের শরীরে লাগবে, তাঁদেরই এ রোগের ঝুঁকি; মাংস উচ্চ তাপে রান্না হয় বলে যাঁরা খেয়েছেন তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত ৯ জন ও দুটি গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুই গ্রামের ৩৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এলাকায় উঠান বৈঠক, প্রচার ও টিকাদান চলছে; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি জানান, শিয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি সমকালের সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধির।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)