মেক্সিকোর ইয়াকি উপত্যকায় বিজ্ঞানভিত্তিক কিছু চাষপদ্ধতি নেওয়া গমচাষিরা ২০২৫-২০২৬ শরৎ-শীত মৌসুমে প্রতি একক শস্য উৎপাদনে ৪২ শতাংশ কম জ্বালানি এবং ২৬ শতাংশ কম পানি ব্যবহার করেছেন। আটা-ময়দা কল প্রতিষ্ঠান গ্রুপো ত্রিমেক্স এবং আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র সিমিটের (CIMMYT) যৌথ উদ্যোগের ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সমস্যাটা শুধু উৎপাদনের নয়, খরচের। সোনোরায় পানির সংকট, মাটির জৈব পদার্থ কমে যাওয়া আর উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতি টন গমে কতটা পানি, জ্বালানি ও সার লাগছে, সেটাই কৃষকের লাভের বড় চাপ হয়ে উঠেছে।
সবার জন্য এক প্যাকেজ নয়, প্রতিটি জমি যাচাই করে কৃষক ও কারিগরি কর্মীরা ছয়টি বড় উদ্ভাবন ও ১৮টি নির্দিষ্ট পদ্ধতি থেকে বেছে নিয়েছেন: সংরক্ষণ কৃষি, স্থায়ী উঁচু বেড, ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা, মাটি পরীক্ষা, ফসলের চাহিদা ও বৃদ্ধির ধাপ অনুযায়ী সার, পোকা পর্যবেক্ষণ, জমি সমতলকরণ এবং উন্নত সেচ ব্যবস্থাপনা। এর মধ্যে সংরক্ষণ কৃষি ও সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বেশি গ্রহণ করা হয়েছে।
পরীক্ষামূলক মডিউলগুলোতে প্রতি টন গমে নাইট্রোজেনের ব্যবহার ৩৪ শতাংশ কমেছে, আর ফলন প্রচলিত পদ্ধতির হেক্টরপ্রতি ৩ টনের জায়গায় ৪ টনে পৌঁছেছে, যাকে সিমিট ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি বলছে। পরের ধাপে মাটি পরীক্ষা ও মানচিত্রায়ণ জোরদার করে আরও নিখুঁত সার সুপারিশ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্যোগটি ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে ১৭ জন কৃষক ও ৫২৭ হেক্টর জমি দিয়ে শুরু হয়। পরের মৌসুমে তা ২২ জন কৃষক ও ১,০৭৮ হেক্টরে বাড়ে। দুই মৌসুমে মোট ১,৬০৫ হেক্টর, তিনটি প্রদর্শনী মডিউল ও ১১টি সম্প্রসারণ এলাকা যুক্ত হয়েছে। গ্রুপো ত্রিমেক্সের গম ক্রয়প্রধান রবের্তো মিরামন্তেস বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের কারণে তাঁরা যা কাজ করে বলে প্রমাণিত, তাতে মনোযোগ দিতে এবং কৃষকদের ফলাফল দেখাতে পারছেন।
সিমিট সীমাবদ্ধতার কথাও বলেছে: উৎপাদন ও দক্ষতা বাড়লেও গমের দাম ও উৎপাদন খরচের কারণে লাভ এখনো চাপে। তাই কম উপকরণে প্রতি টন গম ফলানো প্রতি মৌসুমেই বেশি জরুরি হয়ে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়ার গম অঞ্চলেও সিমিট একই ধরনের সংরক্ষণ কৃষি নিয়ে কাজ করে।
ছবি: Acabashi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: CIMMYT





মন্তব্য
(০)