সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৬৯%বাতাস ১৪ কিমি/ঘবৃষ্টি ০.৪ মিমি

ষাটগম্বুজ মসজিদ: নাম ষাট, গম্বুজ ৮১, ছয় শতকের স্থাপত্যে এখন লবণের ক্ষয়

খানজাহান আলীর খলিফাতাবাদ নগরের কেন্দ্র বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ ১৯৮৫ সাল থেকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য; ৬০ স্তম্ভের ওপর ৮১ গম্বুজের এই মসজিদের ইটে এখন লবণ আর আর্দ্রতার ক্ষয়।

ষাটগম্বুজ মসজিদ: নাম ষাট, গম্বুজ ৮১, ছয় শতকের স্থাপত্যে এখন লবণের ক্ষয়
ইসলাম

বাগেরহাট শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পশ্চিমে সুন্দরঘোনায় দাঁড়িয়ে আছে মধ্যযুগীয় বাংলার মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ষাটগম্বুজ মসজিদ। পোড়া ইটের বিশাল আয়তাকার এই মসজিদ আজও নামাজের জায়গা, একই সঙ্গে সংরক্ষিত প্রত্ননিদর্শন আর দেশের বড় পর্যটন আকর্ষণ। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদের শহরকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নেয়।

মসজিদটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত খানজাহান আলীর নাম, যিনি উলুঘ খান-ই-জাহান নামেও পরিচিত ছিলেন। পঞ্চদশ শতকে তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলায় গড়ে তোলেন খলিফাতাবাদ নামে একটি পরিকল্পিত মুসলিম নগর, যেখানে মসজিদের পাশাপাশি ছিল রাস্তা, সেতু, জলাধার, পুকুর আর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। ইউনেস্কোর তথ্যে নগরটি প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ছিল; ১৪৫৯ সালে প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর এর বড় অংশ জঙ্গলে ঢেকে যায়।

নাম ষাটগম্বুজ হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হিসাবে মসজিদে গম্বুজ ৮১টি। ছাদ দাঁড়িয়ে আছে ছয় সারিতে ১০টি করে মোট ৬০টি স্তম্ভের ওপর, তাই ‘ষাট’ সংখ্যাটি গম্বুজের চেয়ে স্তম্ভের সঙ্গেই বেশি মেলে বলে একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা আছে, যদিও নামের উৎস নিয়ে একক কোনো ব্যাখ্যা নেই। অধিদপ্তরের মাপে বাইরের দিকে মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৬০ ফুট আর পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ১০৪ ফুট, দেয়াল প্রায় সাড়ে আট ফুট পুরু। পশ্চিম দেয়ালে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট দরজা ২৬টি।

স্থাপত্যে বাংলার স্থানীয় নির্মাণরীতির সঙ্গে দিল্লির তুঘলক স্থাপত্যের প্রভাব দেখা যায়: মোটা দেয়াল, চার কোণে চারটি শক্ত বুরুজ, নিচু ও ভারী কাঠামো। ইউনেস্কো একে স্বতন্ত্র খানজাহানী রীতি বলে উল্লেখ করেছে। দক্ষিণের একটি মিনারের মাথায় রোশনাই কুঠির নামে একটি অংশ আছে। খানজাহান চট্টগ্রাম বা উড়িষ্যার রাজমহল থেকে জলপথে পাথর ভাসিয়ে এনেছিলেন, এমন জনশ্রুতিও প্রচলিত, তবে তা প্রমাণিত ইতিহাস নয়।

এখন এই মসজিদের বড় দীর্ঘমেয়াদি হুমকি লবণাক্ততা আর আর্দ্রতা। ইউনেস্কো অনেক দিন ধরেই মাটি ও বাতাসের লবণকে বাগেরহাটের প্রত্নস্থলের জন্য বড় হুমকি বলে চিহ্নিত করছে; সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমস্যার পুরো সমাধান হয়নি। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে ইটের গায়ে লবণের স্ফটিক, দেয়ালে আর্দ্রতা আর সবুজাভ আস্তরণের কথা এসেছে। ইটে লবণ ঢুকে শুকানোর সময় স্ফটিক তৈরি হয়, বারবার ভেজা-শুকানোয় গাঁথুনিতে চাপ পড়ে ক্ষয় বাড়ে। উপকূলের কাছে হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনে এ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। অতীতের কিছু সংস্কারে মূল বৈশিষ্ট্য বদলে গেছে বলেও ইউনেস্কোর নথিতে উল্লেখ আছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানায়, ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে পাহাড়পুর-বাগেরহাট প্রকল্পে মসজিদ সংস্কার আর পাঁচ কক্ষের, ২ হাজার ৫৫ বর্গফুটের বাগেরহাট জাদুঘর গড়া হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মসজিদ ও জাদুঘরে ই-টিকিটিং চালু হয়েছে। আশপাশে আছে সিঙ্গাইর, নয়গম্বুজ, চুনাখোলা, বিবিবেগনী, রেজাখোদা ও রণবিজয়পুর মসজিদ এবং খানজাহানের সমাধিসৌধ, যেগুলো মিলেই মসজিদের শহর বাগেরহাট।

ছবি: Belayet (Bellayet) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: ডেইলি অবজারভার

ডেইলি অবজারভারসূত্র

ইসলাম

সম্পর্কিত খবর

ইসলাম

কদু, মধু, সুগন্ধি আর ডান দিক থেকে শুরু: হাদিসে রাসুল (সা.)-এর পছন্দের বিষয়

দৈনন্দিন জীবনে রাসুলুল্লাহ (সা.) যেসব বিষয় পছন্দ করতেন, হাদিসের বর্ণনায় তার কয়েকটি: ডান দিক থেকে কাজ শুরু, সুন্দর স্বপ্ন ও শুভ কথা, সুগন্ধি, কদু, মিষ্টি ও মধু, ঠান্ডা মিষ্টি পানীয়।

নাগরিক টেলিভিশন৯ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ইসলাম

জুমার দিন যা এড়িয়ে চলবেন: খুতবার সময় কথা, ঘাড় ডিঙানো, আজানের পর কেনাবেচা

জুমার দিনের মর্যাদা রক্ষায় কোরআন ও হাদিসের আলোকে কয়েকটি বর্জনীয় কাজ তুলে ধরেছেন রাজাবাড়ী জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহর শিক্ষক ফয়জুল্লাহ রিয়াদ।

প্রথম আলো৯ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ইসলাম

গুনাহের পর হতাশা নয়, দ্রুত ফিরে আসার তাগিদ দেয় নামাজ

ভুল হয়ে যাওয়ার পর মুমিন হতাশ হয়ে বসে থাকে না, বরং তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে; নামাজই সেই ফিরে আসার নিয়মিত মাধ্যম।

বার্তা২৪৮ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)