ন্যাশনাল মিল্ক রেকর্ডসের বার্ষিক উৎপাদন প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্নওয়ালের ট্রুরোর কাছের সিক্সটি একরস ফার্মের প্রতিটি গাভি ২০২৫ সালে ৪.৪৩ শতাংশ মাখন-চর্বি ও ৩.৩৫ শতাংশ আমিষসহ ১২ হাজার ৩৫১ লিটার দুধ দিয়েছে। দিনে দুবার দোহন করা খামারের মধ্যে এটি যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ।
খামারের মালিক জেমস জনস (James Johns) ফার্মার্স উইকলিকে বলেন, তিনি কখনো বেশি দুধের পেছনে ছোটেননি; জরুরি কাজগুলো যতটা সম্ভব ভালোভাবে করেন, দুধ আপনিই আসে। ট্রুইথেন এস্টেটের বর্গাদার হিসেবে বাবা অ্যান্ড্রু, স্ত্রী মারি ও বোন কেটিকে নিয়ে তিনি ৩০৫ গাভির পাল চালান; জমি ৩০৩ হেক্টর, যার একাংশে শীতকালীন গম এবং বসন্ত ও শীতকালীন বার্লি হয়। দুধ যায় রড্ডাস ক্রিমারিতে।
খাওয়ানোর ব্যবস্থা সহজ। পুরো দোহনযোগ্য পালকে দিনে একবার একটিই মিশ্র খাদ্য দেওয়া হয়: সমান ভাগে ঘাস ও ভুট্টার সাইলেজ, সঙ্গে ৪.৪ কেজি সরিষাজাত আমিষ মিশ্রণ, খামারে উৎপাদিত গম ও বার্লি, খনিজ ও চর্বি। এপ্রিলের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চারবারের মতো ঘাস কাটা হয়, আর ১৫ মাসের খাদ্য মজুত রাখতে চাষ হয় ৮১ হেক্টর ভুট্টা। দোহনঘরে উৎপাদন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ কেজি দানাদার খাদ্য দেওয়া হয়। রড্ডাসের কোটায় উৎপাদন ৮ শতাংশ কমাতে হওয়ায় লিটারপ্রতি দানাদারের হার ০.৩৫ থেকে ০.২৯ কেজিতে নামানো হয়েছে; এতে মাসে প্রায় ৩০ টন দানাদার বাঁচছে, গাভিপ্রতি দুধ ২-৪ লিটার কমে দাঁড়িয়েছে দিনে ৩৮ কেজিতে।
প্রজননে এক দশকের বেশি সময় ধরে সেমেক্সের ষাঁড়ের কৃত্রিম প্রজনন এবং জন্ম থেকেই বকনার জিনোমিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। গাভির গড় লাভজনক জীবনকাল সূচক উঠেছে ১৯৮ পাউন্ডে, বকনার ২৪৫ পাউন্ডে। জনস বলেন, জিনোমিক্স কখনো কোনো বৈশিষ্ট্যকে চরমে ঠেলে দেয়; বাঁটের আকার ছোট হয়ে যাওয়ায় এখন বাঁটের দৈর্ঘ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সেরা গাভি ও বকনাকে দুধ দেওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে দু-তিনবার লিঙ্গ-নির্ধারিত বীজ দেওয়া হয়; বাচ্চা প্রসবের ব্যবধান এখন ৪১০ দিন, যা বেশি দুধের গাভির জন্য উপযোগী বলে তাঁর মত।
গাভিগুলো সারা বছর বালুর গভীর বিছানা আর নমনীয় খোপে থাকে; পাখা, ব্রাশ এবং সপ্তাহে তিনবার পরিষ্কার করা পানির পাত্র আছে। সর্বোচ্চ দুধের সময় গড়ে প্রায় ৫১ কেজি দুধ দেওয়া গাভির বাঁট থেকে দুধ চুইয়ে পড়ে বলে বিছানা দিনে দুবার পরিষ্কার করা হয়। সকাল ৬টা ও বিকেল ৫টায় চার দলে ভাগ করে দোহন হয়, যাতে কোনো গাভি দেড় ঘণ্টার বেশি শেডের বাইরে না থাকে।
এত দুধ সত্ত্বেও দিনে তিনবার দোহনের কথা জনস কখনো গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি; বর্তমান রুটিন ভালো চলছে, আর তৃতীয় দোহনের বাড়তি শ্রম বড় বাধা। শুষ্ক গাভির খাদ্য ধারাবাহিক রাখায় পালে দুগ্ধজ্বর ৫ শতাংশের নিচে বলে তিনি জানান।
ছবি: Littledumpy34 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)