সিলেট নগরের পাড়া-মহল্লায় কোরবানির পশুর হাট বসেছে। স্থানীয় কাউন্সিলর, রাজনৈতিক নেতারা এসব হাট নিয়ন্ত্রণ করছেন। নগরের বাগবাড়ি, ঘাসিটুলা, শেখঘাট, পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেট, নালিয়া এলাকায় ছোট ছোট অবৈধ পশুর হাট বসানো হয়েছে। মাইকিং করে এসব হাটে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।
এছাড়া মহানগরে অস্থায়ীভাবে লিজ দেওয়া সাতটি হাটেও কোরবানির পশু উঠেছে। সিলেটের প্রধানতম স্থায়ী পশুর হাট কাজিরবাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারীরা। তবে পাড়া-মহল্লায় পশুর হাট বসলেও বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক কম।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) দুপুরে সিলেট নগরের স্থায়ী পশুর হাট কাজিরবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সামিয়ানার নিচে রাখা হয়েছে সারি সারি গরু। পর্যাপ্ত পশু বাজারে উঠলেও দাম চড়া থাকায় ক্রেতারা দরদাম করছেন। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক কম। মাঝারি আকারের একেকটি গরুর দাম সিলেটে হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। ছোট আকারের একেকটি গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে লাখ টাকা। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন কোরবানির পশু কিনতে বাজারে গিয়ে পড়েছেন বেকায়দায়।
যশোর থেকে সোমবার রাতে ৩০টি গরু নিয়ে সিলেট এসেছেন আব্দুল করিম নামে এক ব্যাপারী। গরুগুলোর দাম একটু বেশি হাঁকায় বিক্রি হচ্ছে কিছুটা কম। করিমের আশা, বুধবারের মধ্যে গরুগুলো তিনি বিক্রি করতে পারবেন।
করিম ব্যাপারী জাগো নিউজকে বলেন, সিলেটে গরু বিক্রি শুরু হয় ঈদের দুইদিন আগ থেকে। শহরের মানুষ গরু রাখবে কোথায়? গরু বিক্রি মোটামুটি জমতে শুরু করেছে। আজ সন্ধ্যা থেকে গরু বিক্রি পুরোদমে শুরু হবে।
এর আগেও এই হাটে গরু বিক্রি করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, এখন গরু দেখে বাসায় গিয়ে সবাই গল্প গুজব করবে। এরপরই বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গরু কিনবে। এক-দুই রাতেই গরু বিক্রি হয়ে যাবে।
আরেক ব্যাপারী আরশাদ আলী বলেন, হবিগঞ্জ থেকে ১৬টি গুরু নিয়ে এসেছি দুইদিন আগে। এখন পর্যন্ত ছয়টি গুরু বিক্রি করেছি। তবে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। লোকজন গরু দেখছেন দরদামও করছেন।
ব্যাপারীরা জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে বেশ কোরবানির পশু বিক্রি হয়। তবে এবার বিক্রি এখনো সেভাবে শুরু হয়নি। অবশ্য শেষ সময়ে বিক্রি বাড়বে।
ক্রেতারা বলছেন, এবার গরুর দাম অনেক বেশি। যে গরু গত বছর ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ছিল এবার সেই গরু লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সিলেট জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, সিলেট মহানগরে সাতটি এবং জেলায় ৩৮টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোথাও কোরবানির পশুর হাট বসার অনুমতি নেই। কোথাও অবৈধভাবে হাট বসলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
ছামির মাহমুদ/এমআরআর/জেআইএম





মন্তব্য
(০)