সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘ

শুঁটকির ঘ্রাণে মিশে থাকা সংগ্রামের গল্প

আরিফুল ইসলাম তামিম

মৎস্য

আরিফুল ইসলাম তামিম

কক্সবাজারের নাজিরারটেক দেশের অন্য সমুদ্রসৈকতের তুলনায় একেবারেই আলাদা। জেলেদের জীবনসংগ্রাম, শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়া এবং কর্মজীবনের নানা গল্পের দেখা মেলে এখানে। ভোরের আলো ফুটতেই সৈকতপাড়ে শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। জেলেদের দিন শুরু হয় সমুদ্র থেকে মাছ নামানো, ঠেলাগাড়িতে মাছ আনা-নেওয়া, বরফের জোগান দেওয়াসহ নানা কাজে।

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ শুঁটকিপল্লিটি প্রায় ১০০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। নাজিরারটেক এলাকায় পৌঁছানোর ১ কিলোমিটার আগ থেকেই শুঁটকির ঘ্রাণ অনুভূত হয়। সড়কের একপাশে প্রায় ১ কিলোমিটারজুড়ে শুঁটকি তৈরি হয়। জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছ বাঁশের মাচায় ঝুলিয়ে শুকানো হয়।

প্রায় ১৫-২০ হাজার জেলে পরিবার এ অঞ্চলের মাছ ধরা ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের কাজে নিয়োজিত। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে শুঁটকি তৈরি। প্রতিদিন সমুদ্র থেকে ট্রলার ও নৌকাভর্তি মাছ আসে। রূপচাঁদা, ছুরি, কোরাল, লইট্যা, চিংড়িসহ প্রায় ২০-২৫ প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। এসব মাছ ঠেলাগাড়িতে করে শুঁটকিপল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। মাছ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার পরপরই বরফে সংরক্ষণ করা হয়।

নাজিরারটেকে জেলেদের কর্মব্যস্ততা সৈকতের সৌন্দর্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে। সারি সারি ট্রলার, নীল জলরাশির ওপর সূর্যের সোনালি আলো, গাঙচিলের ওড়াউড়ি যেন এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে। প্রতিটি ট্রলার ২-৩ দিন থেকে শুরু করে ৮-১০ দিন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। শীত-বর্ষা সব ঋতুতেই মাছ ধরার কাজ চলে। তবে বর্ষায় শুঁটকি উৎপাদন বন্ধ থাকে।

বিকেল হলেই গান আর গল্পে মেতে ওঠেন জেলেরা। চট্টগ্রামের ভাষায় বিভিন্ন গান গেয়ে কাজ করতে থাকেন। বাউল, ভাটিয়ালিসহ চাটগাঁইয়া লোকজ গানে মুখরিত হয়ে ওঠে সমুদ্রের পাড়। কথা হয় স্থানীয় জেলে শুক্কুর আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আমরা কখনো ২-৩ দিন, আবার কখনো ৮-১০ দিনের জন্য মাছ ধরতে যাই। মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে যেতে হয়। বেশিরভাগ সময় লাক্ষা, পোয়া, ছুরি, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। এসব মাছ নিয়ে আসার পর পরিষ্কার করে শুঁটকি করা হয়। এই শুঁটকি দেশের বাইরেও রপ্তানি হয়।'

শুক্কুর আলী বলেন, 'নানা প্রতিবন্ধকতার ভেতর দিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। শীত মৌসুমেই মূলত শুঁটকি তৈরি হয়। প্রতিদিন ২ কোটি, আবার কখনো ৩-৪ কোটি টাকার শুঁটকি বাণিজ্য হয় এখানে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার শ্রমজীবী জেলে মাছ ধরা ও শুঁটকি তৈরির কাজে নিয়োজিত। ছুরি শুঁটকি হতে সময় লাগে ২-৩ দিন। এ ছাড়া বড় মাছের শুঁটকি তৈরি হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগে। বর্ষায় শুঁটকি উৎপাদন বন্ধ থাকে, তবে তখন মাছ ধরে সেগুলো বিক্রি করা হয়।'

শুঁটকিপল্লির নারী শ্রমিক শিউলি বলেন, 'পুরুষদের পাশাপাশি আমরাও সকাল থেকে কাজ করি। মাছ পরিষ্কার করে মাচায় শুকাতে দিই, আবার পাহারা দিই। যাতে পোকামাকড় বা কাক ক্ষতি না করে।'

এখানকার কর্মযজ্ঞ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদিও নাজিরারটেকে পর্যটকের আনাগোনা খুব বেশি নয়। তবুও যারা আসেন; তারা কৌতূহল থেকে জেলেদের জীবন, শুঁটকি উৎপাদনের প্রক্রিয়া এবং সমুদ্রপাড়ের ব্যস্ততা দেখেন। নাজিরারটেক যেন সমুদ্রের ঢেউ আর মানুষের ঘামে ভেজা এক জীবন্ত গল্প—যেখানে মেলে সংগ্রামের সৌন্দর্য আর শুঁটকির ঘ্রাণে মিশে থাকা জীবনের অন্যরকম স্বাদ।

লেখক: চতুর্থ বর্ষ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

মাছ ও চিংড়ির খাবারের পোস্টবায়োটিক JUV-এর উৎপাদন বড় বায়োরিঅ্যাক্টরে নিল Knip

বোস্টনের স্টার্টআপ Knip তাদের ফার্মেন্টেশনে তৈরি পোস্টবায়োটিক মাছের খাবার উপাদান JUV-এর উৎপাদন ১০ হাজার টন সক্ষমতার এক চুক্তিভিত্তিক কারখানায় সরিয়েছে; এটি সয়া বা ফিশমিলের বিকল্প নয়, বরং কম মাত্রায় ব্যবহারে চাষের মাছ ও চিংড়িকে চাপ সামলে বাঁচিয়ে রাখার উপাদান।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
মৎস্য

চাঁদপুরে ইলিশের ডিমের বাণিজ্য, হুমকিতে প্রজনন

দেশের অন্যতম বড় ইলিশের বাজার চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাট। ভরা মৌসুমেও এবার সেখানে ইলিশের সরবরাহ কম। ফলে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। সেই সাথে নতুন কারবার হিসাবে হিসেবে যুক্ত হয়েছে আলাদা করে ইলিশের ডিম বিক্রি। বিস্তারিত জানাছেন শাইখ সিরাজ।

শাইখ সিরাজ১১ আগস্ট ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
মৎস্য

পশুবাহী গাড়িতে যাতে চাঁদাবাজি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সজাগ আছি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, পশুহাট ও পশুবাহী গাড়িতে যাতে চাঁদাবাজি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাগো নিউজ ২৪৮ মে ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()