বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের হাম ডেডিকেটেড ওয়ার্ডের ১৬ নম্বর বেডে শনিবার সকালে ভর্তি ছিল ১১ মাসের মুসতাব, নাকে অক্সিজেনের নল। তাকে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) নেওয়ার কথা, কিন্তু ক্যানুলা বসাতে শিরা পাওয়া যাচ্ছিল না। মা রিমা আক্তার কাঁদছিলেন সন্তানের জন্য। সাড়ে পাঁচ মাস পরও হাসপাতালগুলোতে হামের রোগীর চাপ কমেনি।
হাসপাতালের তথ্যে, এখনো হামজনিত কারণে ভর্তি ৯৮ শিশু। এ বছর এখানে চিকিৎসা নিয়েছে ২,৯৮৯ শিশু, মারা গেছে ৯৪ জন, এর দুজন শেষ ২৪ ঘণ্টায়। মাসভিত্তিক ভর্তি ছিল জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ৬, মার্চে ১৩০, এপ্রিলে ৩২৮, মে মাসে ৪৯৯, জুনে ৫৩৪, জুলাইয়ে ৫০১, আগস্টে ৪৯৭ ও সেপ্টেম্বরে ৪৬৬ জন; অক্টোবরে এ পর্যন্ত ২৬ জন।
বয়সভিত্তিক হিসাবে ছয় মাস বয়সী রোগী ছিল ৬৩০ জন, ৬ থেকে ৯ মাসের ৯৪৯ জন, ৯ মাস থেকে ২ বছরের ৭৭৮ জন, ২ থেকে ৫ বছরের ৩৫৩ জন এবং পাঁচ বছর বয়সী ২৭৯ জন। অর্থাৎ বড় অংশই নিয়মিত টিকার বয়সের আশপাশের শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও আট শিশু মারা গেছে, মোট শিশুমৃত্যু ১,১২২। একই সময়ে ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী ১,৬০৮ জন; চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৫৬ জনের।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ডেঙ্গু তার আচরণ বদলেছে। এখন ১০১ বা ১০২ ডিগ্রির সামান্য জ্বরেও ডেঙ্গু হচ্ছে, গায়ে র্যাশ থাকছে না; ফলে অনেকে অবহেলা করেন আর রোগী হঠাৎ শকে চলে যান। দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গু মারাত্মক হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর পরামর্শ, সামান্য জ্বর-সর্দি-কাশি হলেও ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ক্যানসার, হৃদ্রোগ বা কিডনি রোগীদের বিশেষ খেয়াল রাখা।
প্রতিবেদনটি করেছেন ইত্তেফাকের মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ।
ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)