সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩৩°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫৯%বাতাস কিমি/ঘ

রাজশাহী বিভাগে ২৫ কোটি টাকার ১০২ পলিনেট হাউস: ফসল নেই, লোকসানে চাষি

তিন বছর আগে প্রতিটি প্রায় ২৪ লাখ টাকায় নির্মিত পলিনেট হাউসের বেশির ভাগেই অসময়ের সবজি হচ্ছে না; ১৬ চাষির মধ্যে ১০ জন বড় লোকসানের কথা বলেছেন, সফল কেবল চারা ও ফুল উৎপাদকেরা।

এগ্রোটেক

নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সারা বছর ফসল ফলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজশাহী বিভাগের ১০২ জন চাষিকে বিনা মূল্যে ‘পলিনেট হাউস’ নির্মাণ করে দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। তিন বছর পর দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ হাউসে ফসলই হচ্ছে না; পলিথিন ছিঁড়ে গেছে, সেচযন্ত্র অচল, আর চাষিরা ‘কিছু একটা হচ্ছে’ দেখাতে আঙুরগাছ লাগিয়ে রেখেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ১০২টি হাউস নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা—প্রতিটিতে গড়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকা।

‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন’ শীর্ষক ১৮৭ কোটি টাকার এই প্রকল্প নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। হাউসগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ২২টি, নাটোরে ২৯, নওগাঁয় ৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬, পাবনায় ১৭, জয়পুরহাটে ৬, বগুড়ায় ১১ ও সিরাজগঞ্জে ৪টি। এক বিঘা জমির ২৫ শতাংশের ওপর পলিথিন, নেট ও লোহার কাঠামোয় তৈরি এই ঘরে ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রকলি, স্ট্রবেরি, লেটুস থেকে গোলাপ, জারবেরা ও গাঁদা ফুল চাষের কথা বলা হয়েছিল। চাষিদের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি হয়েছে; হাউস ফেলে রাখলে নির্মাণব্যয় সাত দিনের মধ্যে কোষাগারে ফেরত দেওয়ার শর্তও আছে।

গত আগস্টে ১৬ জন হাউসপ্রাপ্ত চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের ১০ জনই বড় লোকসানে আছেন। যে ছয়জন লোকসান হয়নি বলেছেন, তাঁদের চারজন চারা উৎপাদনে, একজন আঙুরে ও একজন ফুলে সাফল্য পেয়েছেন। সরেজমিনে দেখা সাতটি হাউসের চারটির পলিথিন ছেঁড়া, একটির পলিথিন পুরোপুরি খোলা। ঈশ্বরদীর বখতারপুরের নজরুল ইসলাম বলছেন, হাউসের ভেতরে এত গরম যে কর্মচারীরা কাজ করতে চান না; পলিথিন খুলে এখন পটোল চাষ করছেন। জমি ইজারা দিলে বছরে এক লাখ টাকা পেতেন বলে আক্ষেপ তাঁর।

চাষিদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রীতে হাউস টেকসই হয়নি এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নওগাঁর রানীনগরের মাসুদ রানা জানান, কারিগরেরা ২০০ মাইক্রোনের পলিথিন দেওয়ার কথা বললেও দেওয়া হয়েছে ১০০ মাইক্রোনের কম; বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এক লাখ টাকায় বিদেশি ক্যাপসিকাম ও টমেটোর বীজ কিনে আরও তিন লাখ টাকা খরচ করে ফলন পেয়েছেন খোলা মাঠের অর্ধেকেরও কম, মোট লোকসান ১০ লাখ টাকা। পবার বড়গাছির মর্তুজা আহমেদও বলছেন, এক টাকাও লাভ হয়নি, খরচ হয়েছে ১০ লাখ। হাউসের ‘মিক্সড ইরিগেশন’ যন্ত্র বেশির ভাগই অচল; কর্মকর্তারা বলছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের আয়রনযুক্ত খর পানিতে যন্ত্র নষ্ট হয়েছে, আর চাষিরা বলছেন এক বছরের মধ্যেই সব মেশিন বিকল হলেও মেরামত করে দেওয়া হয়নি।

নওগাঁর এক চাষি তিন বছরে ২৮ রকমের ফসল চেষ্টা করে একটিতেও সফল হননি। নাম প্রকাশ না করে তিনি জানান, প্রকল্পের এক বছর পর পাবনার হর্টিকালচার সেন্টারের মতবিনিময় সভায় সবাইকে সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে বাধ্য করা হয়েছিল; একজন মুখ ফসকে সত্য বলে ফেলার পর সবাই ব্যর্থতার কথা ফাঁস করে দেন। বগুড়া সদরের যে চাষিকে কৃষি বিভাগ সফল বলে প্রচার করেছে, তিনিও বলছেন, এটি এখন লোকদেখানো প্রকল্প।

প্রকল্প পরিচালক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামানের ভাষ্য, কৃষকেরা পরিশ্রম করতে চান না এবং পরামর্শ মানেন না বলে সফল হননি; কাউকে জোর করে হাউস দেওয়া হয়নি এবং আঙুরের জন্য এটি টেকসই প্রযুক্তি। তিনি জানান, ঠিকাদার এক বছর বিনা মূল্যে সেবা ও তিন বছর পলিথিন মেরামতের দায়িত্বে ছিলেন; সে সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এখন চাষিদেরই চালাতে হবে। প্রকল্পের অধীনে ১০ হাজার ৭৩৩টি কৃষিযন্ত্র ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে বিতরণ এবং বগুড়া ও রাজশাহীতে সাড়ে ১১ কোটি টাকায় দুটি ভবন নির্মাণও হয়েছে।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. আহসানুল হক বলছেন, শীতপ্রধান দেশে গ্রিনহাউস স্বাভাবিক হলেও গ্রীষ্মপ্রধান বাংলাদেশে ভেতরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল ফসলভেদে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা লাগে; দেশের পলিনেট হাউসগুলোতে সব ফসলের জন্য প্রায় একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেই প্রকল্প সফল হচ্ছে না।

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট, পানির সংকট, মাটির অবক্ষয়, রোগবালাই, বাজারের অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ, সব মিলিয়ে প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থার সামনে এখন বড় ধরনের পর

জাগো নিউজ ২৪১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬৪ মিনিটের পড়া
ফসল

বড় ডিএনএ বসানোর জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির জন্য সিড অর্থায়ন পেল Spearhead Bio

Donald Danforth Plant Science Center থেকে বেরিয়ে আসা Spearhead Bio ১৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের সিড রাউন্ড সম্পন্ন করেছে; তাদের TAHITI প্রযুক্তি CRISPR-এর সঙ্গে ট্রান্সপোজেবল এলিমেন্ট জুড়ে ফসলের জিনোমে বড় ডিএনএ খণ্ড নির্ভুলভাবে বসাতে বা প্রতিস্থাপন করতে পারে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

কৃষি পরিসংখ্যানে ঢোকার নতুন দরজা 'অ্যাগইনসাইটস' চালু করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস সার্ভিস 'অ্যাগইনসাইটস' নামে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে, যাতে কৃষকরা জরিপ ও পণ্যের তথ্য সহজে খুঁজে পান।

usda১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()