সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৮%বাতাস ১৪ কিমি/ঘ

রাজকীয় পেঙ্গুইন স্যার নিলস ওলাভ

এডিনবার্গ চিড়িয়াখানার সকালগুলো হয় প্রাণবন্ত। দর্শনার্থীদের কোলাহল, পশুপাখিদের ডাকাডাকি আর চিড়িয়াখানার কর্মীদের ব্যস্ততা মিলিয়ে যেন এক অনন্য সুর বেজে উঠে প্রতিদিন। কিন্তু সেদিনের সকালটা ছিল ব্যতিক্রম। চিড়িয়াখানার রাজপথ বরাবর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে সামরিক পোশাক পরা কিছু মানুষ, হাতে জাতীয় পতাকা আর ফু

পরিবেশ

এডিনবার্গ চিড়িয়াখানার সকালগুলো হয় প্রাণবন্ত। দর্শনার্থীদের কোলাহল, পশুপাখিদের ডাকাডাকি আর চিড়িয়াখানার কর্মীদের ব্যস্ততা মিলিয়ে যেন এক অনন্য সুর বেজে উঠে প্রতিদিন। কিন্তু সেদিনের সকালটা ছিল ব্যতিক্রম। চিড়িয়াখানার রাজপথ বরাবর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে সামরিক পোশাক পরা কিছু মানুষ, হাতে জাতীয় পতাকা আর ফুল। মাঝখানে লাল গালিচা পাতা, যেন কোনো রাজাকে অভ্যর্থনা জানানো হবে।

আর ঠিক সেটাই ঘটতে চলেছে। মাঠের এক প্রান্ত থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো একটি রাজকীয় পেঙ্গুইন। নাম তার স্যার নিলস ওলাভ তৃতীয়। তার চলার ভঙ্গিতে যেন আছে আত্মবিশ্বাস, গাম্ভীর্য। আর আজ, এই পেঙ্গুইনের কাঁধেই বসবে নতুন এক সম্মান 'নাইটহুড', অর্থাৎ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সম্মানিত 'স্যার' উপাধি।

পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, 'একটি পেঙ্গুইন আর নাইটহুড?' এটি কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং বাস্তব ইতিহাস।

সবকিছুর সূচনা ১৯৭২ সালে, যখন নরওয়ের রাজকীয় গার্ড স্কটল্যান্ড সফরে এসে ভিজিট করে এডিনবার্গ চিড়িয়াখানা। সেখানে প্রথমবার একদল রাজকীয় পেঙ্গুইনের সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। সেই মুহূর্তেই তারা একটি পেঙ্গুইনকে নিজেদের গার্ডের সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে ঘোষণা করে। নাম রাখা হয় নিলস ওলাভ। এটি রাখা হয় নরওয়ের তৎকালীন রাজা কিং ওলাভ পঞ্চম এবং এক সম্মানিত সামরিক কর্মকর্তার সম্মানে।

এরপর শুরু হয় এক অভিনব ঐতিহ্য। নরওয়ের গার্ড প্রতি সফরে এসে সেই পেঙ্গুইনের উত্তরসূরিকে পদোন্নতি দিতে থাকে যেমন: ল্যান্স কর্পোরাল, কর্পোরাল, মেজর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল, একসময় 'কর্নেল-ইন-চিফ'।

সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট, যখন নরওয়ের গার্ড তাকে 'স্যার' উপাধিতে ভূষিত করে। এডিনবার্গ মিলিটারি ট্যাটু চলাকালীন আয়োজিত হয় এক জমকালো সামরিক কুচকাওয়াজ, আর স্যার নিলস ওলাভ তৃতীয়ের গলায় পরানো হয় সম্মানসূচক পদক।

এটা শুধু একটি মজার ঘটনা নয়, বরং এটা প্রাণীদের প্রতি সম্মান, আন্তঃদেশীয় বন্ধুত্ব এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনের প্রতীক।বর্তমানে এই পেঙ্গুইন হলেন নিলস ওলাভ তৃতীয়, যিনি ২০১৩ সাল থেকে এই সম্মান বহন করে আসছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে, তাকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অনন্য নজির হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

স্যার নিলস কেবল একটি পেঙ্গুইন নয়, তিনি এখন স্কটল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার এক ভিন্নধর্মী কূটনৈতিক বন্ধনের প্রতীক। চিড়িয়াখানার তারকা এই পেঙ্গুইনকে ঘিরে নানা রকম আয়োজন হয়। শিশুরা তার সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে, কেউ কেউ তার মতো হাঁটতে শেখে, অনেকে আবার তার ছবি এঁকে স্কুলে নিয়ে যায়।

একবার একটি শিশু তার বাবাকে বলেছিল, 'আমি সৈনিক হব, আর স্যার নিলস হবে আমার বস!' সে সময় এই কথাটি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এটি স্যার নিলস ওলাভের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রাণীজগৎ আমাদের শুধু বিনোদন দেয় না, অনেক সময় তারা ইতিহাসও তৈরি করে। স্যার নিলস ওলাভ তৃতীয় তার জীবনচরিত দিয়ে প্রমাণ করেছে সম্মান, নেতৃত্ব এবং বন্ধুত্ব কখনো জাতি, ভাষা বা প্রজাতির সীমারেখায় আটকে থাকে না।

আজ বিশ্ব পেঙ্গুইন দিবসে, তাই মনে পড়ে যায় সেই চিড়িয়াখানার রাজপথ, লাল গালিচা, কুচকাওয়াজ আর এক পেঙ্গুইনের পদক্ষেপ। যে নিজের জাতিকে তুলে ধরেছিল অনন্য এক সম্মানের আসনে।

সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন, এডিনবার্গ জু, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

জৈব

ঘাসের বোর্ড বানানো Plantd কারখানার বর্জ্য থেকে বায়োচার বানিয়ে বিক্রি করছে চাষিদের কাছে

নর্থ ক্যারোলাইনার নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান Plantd, যাদের উদ্বৃত্ত ঘাসের জৈববস্তু সরাতে মাসে ১৩ হাজার ডলার খরচ হচ্ছিল, সেই বর্জ্য থেকে বায়োচার তৈরির একটি পণ্যলাইন চালু করেছে এবং মাটির উন্নয়ন উপকরণ হিসেবে চাষিদের কাছে বিক্রি করছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

বাতাস ও পানি থেকে এক অনুঘটকে অ্যামোনিয়া বানাতে চায় অস্ট্রেলিয়ার Facet Amtech

নাইট্রোজেন সারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া আলাদা হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ছাড়াই সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে তৈরির অনুঘটক পাইলট করতে Facet Amtech ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সিড বিনিয়োগ তুলেছে; তাদের লক্ষ্য কার্বন মূল্য ছাড়াই খরচে জীবাশ্মভিত্তিক অ্যামোনিয়াকে হারানো।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২৬ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
জৈব

সিলিকেট পাথরকে এক মৌসুমে গলা কার্বন-শোষক সারে বদলাতে ৫৪ লাখ ডলার তুলল Mafix

Stanford থেকে বেরিয়ে আসা Mafix ৫৪ লাখ ডলারের প্রি-সিড বিনিয়োগ তুলেছে সিমেন্ট চুল্লিতে চুনাপাথরের সঙ্গে সিলিকেট পাথর গরম করে এমন একটি খনিজ বানাতে, যা খেতে এক মৌসুমেই ক্ষয়ে যায়, কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে এবং উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য সিলিকন ও ক্ষারত্ব জোগায়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()