অস্ট্রেলিয়ার স্টার্টআপ Facet Amtech একটি বহুমুখী অনুঘটক (ক্যাটালিস্ট) তৈরি করেছে, যা তাদের দাবি অনুসারে সরাসরি বাতাস ও পানি থেকে অ্যামোনিয়া উৎপাদন করে; এতে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে সাধারণত যে আলাদা হাইড্রোজেন উৎপাদন ও বায়ু পৃথকীকরণ লাগে, তার দরকার পড়ে না। শিল্পমাত্রায় এটি কাজ করলে, প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, কোনো কার্বন মূল্য ছাড়াই প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক অ্যামোনিয়ার চেয়ে সস্তায় অ্যামোনিয়া বানানো যাবে—নাইট্রোজেন সারের এই মূল উপাদানের খরচ ও কার্বন পদচিহ্ন দুটোই কমবে।
প্রতিষ্ঠানটি Main Sequence ও Uniseed-এর কাছ থেকে ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (২১ লাখ মার্কিন ডলার) সিড বিনিয়োগ ঘোষণা করেছে। সহপ্রতিষ্ঠাতা Peter Richardson, PhD এজিফান্ডনিউজকে বলেন, এই অর্থে ২০২৭ সালের শুরুতে দিনে ১ কেজি অ্যামোনিয়া উৎপাদনের একটি পাইলট চলবে। প্রায় দুই বছর পর দিনে ১০০ কেজির দ্বিতীয় পাইলট এবং ২০৩০-এর দশকের শুরুতে দিনে ৪ টনের একটি ইউনিট—যা পূর্ণমাত্রার উৎপাদনের ঝুঁকি কমানোর জন্য যথেষ্ট বড়। তিনি বলেন, “মাপে এটি প্রমাণ করতে পারলে এটা হবে একটি বড় ধরনের ওলটপালট, কেবল একটু ভালো অনুঘটকের সামান্য উন্নতি নয়।”
আজকের বেশির ভাগ অ্যামোনিয়া আসে হাবার-বশ প্রক্রিয়া থেকে, যেখানে সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে পাওয়া হাইড্রোজেনকে বাতাস থেকে আলাদা করা নাইট্রোজেনের সঙ্গে উচ্চ তাপ ও চাপে মেলানো হয়। সবুজ অ্যামোনিয়ায় হাইড্রোজেন আসে ইলেকট্রোলাইসিস থেকে, কিন্তু হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট তবু লাগে। Richardson বলেন, Facet-এর অনুঘটক একই পৃষ্ঠে একই সময়ে পানি বা বাষ্প থেকে হাইড্রোজেন ভাঙে এবং বাতাসের নাইট্রোজেনকে বিজারিত করে—হাবার-বশের চেয়ে মৃদু অবস্থায়; তাপের জোগান আসতে পারে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বা বর্জ্য তাপ থেকে।
Facet অনুঘটকটি নিজেরাই বানায়—বিশুদ্ধ ধাতুর গুঁড়া মিশিয়ে চুল্লিতে তাপ দিয়ে; প্লাটিনাম গোষ্ঠীর ধাতু বা বিরল মৃত্তিকা লাগে না। Richardson-এর প্রত্যাশা, অনুঘটকের মোট খরচ প্রচলিত প্ল্যান্টের “প্রায় সমান বা হয়তো কিছুটা কম” হবে; বড় সাশ্রয় আসবে হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট বাদ দেওয়া থেকে—আজ অ্যামোনিয়ার খরচের বড় অংশই সেটি—এবং কয়েকটি রিঅ্যাক্টরকে একটিতে নামিয়ে আনা থেকে। পাইলটের লক্ষ্য ২,০০০ ঘণ্টার বেশি একটানা চালানো, যা শিল্পের সঙ্গে আলোচনায় পাওয়া মানদণ্ড। রিঅ্যাক্টর থেকে বেরোয় পানিতে দ্রবীভূত অ্যামোনিয়া; গ্যাস হিসেবে সংরক্ষণ বা সারে রূপান্তরের আগে একটি পৃথকীকরণ ধাপ লাগবে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে Richardson ও সহ-যন্ত্রপ্রকৌশলী James Bradley প্রতিষ্ঠা করেন; সম্প্রতি University of Newcastle ক্যাম্পাস ছেড়ে তারা কাছেই নিজেদের শিল্প-স্থাপনায় উঠেছে। নিজেদের কারখানা চালানোর বদলে তারা প্ল্যান্টের নকশা লাইসেন্স দিতে এবং বিশ্বের সার উৎপাদকদের অনুঘটক সরবরাহ করতে চায়—প্রচলিত শিল্পের মতোই দিনে প্রায় ৫০০ থেকে ৩,০০০ টনের প্ল্যান্টে। Richardson বলেন, “আমরা যা চাই তা হলো কোনো কার্বন মূল্য না ধরেই ধূসর অ্যামোনিয়ার চেয়ে সস্তা হওয়া। এটা নিখাদ অর্থনৈতিক খেলা।”
Main Sequence Ventures-এর বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক Emerald Scofield বলেন, “Facet Amtech এমন একটি সমস্যায় হাত দিচ্ছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পের সহনশীলতার সংযোগস্থলে বসে আছে।” Richardson জানান, কয়েকটি বড় অ্যামোনিয়া উৎপাদক নিজেদের গবেষণাগারে অনুঘটক পরীক্ষা, খরচের হিসাব ও ছোট পাইলটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রযুক্তিটি যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, তবে বিনিয়োগের আগে তারা পাইলটের তথ্য দেখতে চায়।
নাইট্রোজেন সারের দাম চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম এবং তা থেকে অ্যামোনিয়া বানানো প্ল্যান্টের খরচের সঙ্গে। হাইড্রোজেন ধাপটি বাদ দেওয়া একটি পথ প্রমাণিত হলে, চাষিরা যে উপকরণে সবচেয়ে বেশি খরচ করেন, তার অর্থনীতিই বদলে যাবে।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)