গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে কোকোর ফলনের সবচেয়ে বড় জলবায়ু ঝুঁকি তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা পানির অভাব নয়, বরং অতিবৃষ্টি। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে পিএনএএস (PNAS) সাময়িকীতে। কোকোর উৎপাদন কমলে প্রায় ৬০ লাখ কৃষকের জীবিকা হুমকিতে পড়ে, যাঁদের আয়ের প্রধান উৎস এই ফসল।
বিশ্বের শীর্ষ তিন কোকো উৎপাদক দেশ ঘানা, ইন্দোনেশিয়া ও ইকুয়েডরের বৃষ্টির ধরন বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। ভারী বর্ষণ কোকোর ফুল ও কচি ফল সরাসরি নষ্ট করে, পরাগায়ন করা ক্ষুদ্র পোকাদের কাজ ব্যাহত করে, আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ছত্রাকজনিত রোগ ছড়ায়, বিশেষ করে কালো পচন (ব্ল্যাক পড), যার জীবাণু বৃষ্টির ছিটায় এক ফল থেকে আরেক ফলে যায়। গবেষণার সহলেখক পিটার হাইবার্স (Peter Huybers) জানান, বৃষ্টির প্রায় এক সপ্তাহ পর সংক্রমণ দেখা দেয়।
লেখকদের মতে, অতিবৃষ্টির অনেকটাই আগে থেকে আঁচ করা যায়, কারণ তা এল নিনোর মতো বড় জলবায়ু ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। এল নিনোর সময় পশ্চিম আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টি সাধারণত কমে, আর উপকূলীয় ইকুয়েডর ও পূর্ব আফ্রিকায় প্রবল বর্ষণ হয়। গবেষণার প্রধান লেখক অ্যানা লিয়া অলব্রাইট (Anna Lea Albright) বলেন, এল নিনোর বাইরের বছরগুলোতেও পশ্চিম আফ্রিকায় বর্ষার সবচেয়ে ভারী বৃষ্টি আরও তীব্র হচ্ছে, যেখানে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ কোকো জন্মে। বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ কোকো আসে ইকুয়েডর থেকে; সেখানে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের ভারী উপকূলীয় বৃষ্টির প্রভাব পড়ে ছয় থেকে আট মাস পরের ফলনে।
এখন একটি শক্তিশালী এল নিনো জোরদার হচ্ছে এবং ডিসেম্বরে তা চূড়ায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাই এই ফলাফল এখনই গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সাবধান করেছেন। বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিয়াট জোটের গবেষক উইলিয়াম মেলো সিপাকন (William Melo Zipacón) বলেন, রোগপ্রবণ জাত, কম ছায়া আর অপর্যাপ্ত ছাঁটাইয়ের খামারে ক্ষতি বেশি হয়; গবেষণাটি আবহাওয়ার সঙ্গে ফলন কমার যোগসূত্র দেখালেও ক্ষতির কতটা ফুল নষ্ট, পরাগায়ন বা রোগের কারণে, তা নির্ণয় করেনি। ইকুয়েডরের জাতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কোকো কর্মসূচির প্রধান রে গাস্তন লোর (Rey Gastón Loor) বলেন, দীর্ঘ বৃষ্টি ফলন না কমিয়ে ফুল আসা পিছিয়ে দিতে পারে; তবে তিন-চার দিন পানি জমে থাকলে নিচু জমির খামারে নিষ্কাশন দরকার, তাতে তিনিও একমত।
হাইবার্সের মতে, কোকোর জন্য আলাদা ঝুঁকি-সতর্কবার্তা থাকলে কৃষক সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারবেন, যেখানে বৃষ্টির পূর্বাভাসের সঙ্গে ছাঁটাই, বাগান পরিষ্কার, ছত্রাকনাশক প্রয়োগ ও নিষ্কাশনের উপযুক্ত সময় জুড়ে দেওয়া হবে। গবেষক দলটি ইকুয়েডর ও পশ্চিম আফ্রিকার অংশীদারদের সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসকে কৃষকের কাজে লাগার মতো পরামর্শে রূপ দেওয়ার কাজ করছে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাইডেভ.নেটের লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় সংস্করণের সাংবাদিক সোরাইদা পোর্তিইয়ো (Zoraida Portillo)।
ছবি: Scot Nelson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: SciDev.Net





মন্তব্য
(০)