কাশ্মীরের ধানচাষিরা বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফসল ঘরে তুলছেন। কয়েক মৌসুমের বন্যা, খরা আর অনিয়মিত আবহাওয়ার পর এ বছর ধানের প্রয়োজনমতো তাপমাত্রা, রোদ ও বৃষ্টি মিলেছে, শ্রীনগর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে পুলওয়ামার কাকাপোরা এলাকা থেকে জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। কুলগাম, অনন্তনাগ, পুলওয়ামা ও গান্দেরবালে ধান কাটা চলছে।
ওয়ান্দাখপোরা গ্রামের ৪৭ বছরের কৃষক মোহাম্মদ মকবুল গানাই বলেন, ১৫ বছরে এমন ফলন দেখেননি। গত বছর বন্যার পানিতে ধানখেত ডুবে ছিল, ধান কাটার মৌসুম পর্যন্ত পানি নামেনি। অবন্তিপোরার ৭০ বছরের আবদুল রশিদ জানান, নদী দূরে আর পানির স্তর প্রায়ই সেচ পাম্পের নাগালের নিচে থাকায় তাঁর জমি ভুগত; এবার টানা বৃষ্টিতে সেই সমস্যা মিটেছে।
পুলওয়ামার প্রধান কৃষি কর্মকর্তা ওয়াহিদ উর রেহমান বলেন, তাপমাত্রা ছিল ফসলের প্রয়োজনমতো; সঙ্গে শালিমার রাইস সিরিজের উচ্চঘনত্বের নতুন জাতও ভালো ফলনে ভূমিকা রেখেছে। পুলওয়ামায় এসআর ৪, এসআর ২ ও শালিমার সুগন্ধ-১ জাত ব্যাপকভাবে চাষ হয়, সঙ্গে ১৯৮২ সালে ছাড়া উঁচু এলাকার জাত কে ৩৩২; এগুলো ব্লাস্টের মতো রোগ ভালোভাবে ঠেকায় বলে তাঁর দাবি। মাটির দস্তার ঘাটতি নিয়েও কৃষকেরা সচেতন হচ্ছেন। ফসল কাটার নমুনা পরীক্ষা চলছে, সঠিক হিসাব আসবে মৌসুম শেষে; আপাতত আগের বছরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।
আবহাওয়ার তথ্যও কৃষকদের কথার সঙ্গে মেলে। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে জুলাইয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে ২৫৯.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, স্বাভাবিক ১৯২.৬ মিলিমিটার; অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ বেশি, দীর্ঘ খরার পর। সবচেয়ে বেশি বাড়তি বৃষ্টি বারামুলায়, ১৬৫ শতাংশ; গান্দেরবালে ১১০ ও পুলওয়ামায় ১০৮ শতাংশ; উপত্যকায় একমাত্র শোপিয়ানে ঘাটতি ছিল ৪০ শতাংশ। কাশ্মীরের পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ আনিস বলেন, বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে মাটিতে আর্দ্রতা ছিল আর বৃষ্টি গত বছরের চেয়ে ভালোভাবে ছড়ানো ছিল, তবে জলবায়ুর অনিশ্চয়তা দুশ্চিন্তার বিষয়।
গত সেপ্টেম্বরে ভারী বৃষ্টিতে জম্মু ও কাশ্মীরের হাজার হাজার হেক্টর ধানখেত ও আপেলবাগান ডুবে যায়; পানির নিচে থাকা ধান কাটতে না পেরে কোনো কোনো কৃষক দাঁড়িয়ে থাকা ফসল পুড়িয়ে দিতে বাধ্য হন।
দীর্ঘমেয়াদি চিত্র অবশ্য উদ্বেগের। শের-ই-কাশ্মীর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (স্কুয়াস্ট) ২০২০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী উপত্যকায় প্রায় দেড় লাখ হেক্টরে ধান হয়, এর মধ্যে পুলওয়ামায় ১৬,৫০০ হেক্টর। কিন্তু কাশ্মীর বিভাগে ধানের জমি ১৯৮০ সালের প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার হেক্টর থেকে ২০২৪ সালে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার হেক্টরে নেমেছে, অর্থাৎ প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর বা ২৪ শতাংশ কম। ফলন বাড়ায় ক্ষতির কিছুটা পূরণ হয়েছে, তবে জমি কমতে থাকলে এক বছরের ভালো ফলন ধান চাষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবে না।
প্রতিবেদন: আরজুমান্দ ওয়ানি (Arjumand Wani), ডাউন টু আর্থ।
ছবি: Akshey25 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)