সারি সারি জমা করা প্রায় ৪ হাজার আম, পেয়ারা, কাঁঠাল ও মালটা গাছের চারা। এই চারা নেওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দিতে হবে প্লাস্টিকের বোতল। নিজের রুমে বা ব্যাগে থাকা অব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল দিলেই গাছ পাবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনেকে আশপাশের বোতল কুড়িয়ে এনেও নিচ্ছেন গাছ। বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
পরিবেশ রক্ষার্থে এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ। এ সময় উদ্দীপ্ত বাংলাদেশের সভাপতি হাসিবুল খান ও সাধারণ সম্পাদক শান্ত রেজা সাব্বিরসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এই আয়োজন ভিন্ন রকম সাড়া ফেলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। অনেক শিক্ষার্থী নিজের হলরুমে জমে থাকা প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে এসেছেন গাছ নেওয়ার জন্য। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষকেও এসে প্লাস্টিক দিয়ে গাছ নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
অনেকগুলো বোতল জমা দিয়ে চারটি গাছের চারা নিয়েছেন দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল রায়হান। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, এক বন্ধু কল দিয়ে জানায় স্টেশনে প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছ দিচ্ছে। রুমে পড়ে থাকা বোতল নিয়ে আসি গাছ নেওয়ার জন্য। গাছগুলো কটেজের পাশে রোপণ করার পরিকল্পনা আছে। এরকম কর্মসূচি প্লাস্টিক নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, প্রতিদিন ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সাগরে পড়ে। তাছাড়া খাল বিল নালা সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে প্লাস্টিকের কারণে। তাই প্লাস্টিকের ব্যাপারে সচেতনতা খুবই জরুরি। নইলে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে না। আর পরিবেশ না বাঁচলে আমরা বাঁচবো না। প্লাস্টিকের বিষয়ে সতর্কতা বৃদ্ধিতে এমন আয়োজন প্রশংসনীয়।
প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছ কর্মসূচির উদ্যোক্তা এবং উদ্দীপ্ত বাংলাদেশের সভাপতি হাসিবুল খান জাগো নিউজকে বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত সবুজ শ্যামল বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আমাদের এই কর্মসূচি। যেহেতু প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এতো সহজ নয় তাই প্রয়োজন সচেতনতা। যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা। আজ ৪ হাজার গাছ আমরা বিতরণ করেছি। মাসব্যাপী আমাদের এই আয়োজন চলবে যেখানে পরিবেশ রক্ষার্থে মোট ১০ হাজার বৃক্ষ রোপণ ও বিতরণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রমে সহায়তা, বই বিনিময় উৎসব, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, মানবতার দেওয়াল, রক্তদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।
আহমেদ জুনাইদ/এফএ/জেআইএম





মন্তব্য
(০)