পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভেড়া প্রস্তুত করেনে ফিলিস্তিনি এক নারী খামারি। কিন্তু তার আগেই পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ভোররাতে হামলা চালিয়ে তাদের ভেড়াগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ফলে ঈদের আনন্দ তো নষ্ট হয়েছেই, পাশাপাশি ভেড়া বিক্রি করে যে আয় হওয়ার কথা ছিল, সেটিও হারিয়েছেন তিনি।
খামারি সামিহা রশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেবরনের কাছে মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার বাড়ি থেকে প্রায় ৪৫টি ভেড়া চুরি করা হয়েছে। এর আগে দুর্বৃত্তরা পরিবারের পাহারাদার কুকুরগুলোও চুরি করে নেয়।
তিনি বলেন, এটাই আমাদের জীবিকা। আমি আর আমার স্বামী এই ভেড়ার আয়েই চলি। এখন স্বামীর চিকিৎসা কিংবা নিজের খরচ চালানোর মতোও কিছু নেই। তার স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত বলেও জানান তিনি।
ইসলামের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা হজের মূল সময়কে ঘিরে পালিত হয়। হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে তার সন্তানকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হওয়ার স্মরণে মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন এবং এর মাংস দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করেন।
রশীদের অভিযোগ, এলাকাটিতে বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় প্রতিদিনই খামারি পরিবারগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। তারা বাড়িঘর ও শিশুদের দিকে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রয়টার্সের যাচাই করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে মুখোশধারীরা খামার থেকে ভেড়াগুলো বের করে নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওর অবস্থান মাসাফের ইয়াত্তার কাছাকাছি বলে নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই সহিংসতাকে ইহুদি সন্ত্রাস এবং জাতীয় লজ্জা বলে অভিহিত করেছেন।
ভেড়া চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ঘটনাস্থলে সেনা মোতায়েন করেছিল, তবে সেখানে কোনো বসতি স্থাপনকারীকে দেখতে পায়নি। পরে বিষয়টি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার গবাদিপশু বসতি স্থাপনকারীদের হাতে চুরি হয়েছে। তার দাবি, এসব হামলায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
বর্তমান ইসরাইলি কট্টর ডানপন্থি জোট সরকারের সময় পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বেড়েছে। সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী প্রকাশ্যেই পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা ভূমিতে গড়ে ওঠা এসব বসতিকে অবৈধ মনে করে। যদিও ইসরাইল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের যুক্তি দেখিয়ে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে বর্তমানে সাত লাখের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী এবং ৩০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।
সূত্র: রয়টার্স





মন্তব্য
(০)