যুক্তরাজ্যের ইস্ট অ্যাংলিয়ার কয়েকটি খামারে হলুদ মুথা ঘাসের (ইয়েলো নাটসেজ) নতুন আক্রমণ ধরা পড়েছে। গবেষক, কৃষিবিদ ও ফসল সংগঠনগুলোর এক বৈঠকে উপসংহার টানা হয়, দেশটিতে আগ্রাসী কৃষি আগাছা শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলার কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা নেই।
ইউরোপের অভিজ্ঞতা বলছে, স্থানীয় সমস্যা দ্রুত ব্যয়বহুল ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সুইজারল্যান্ডের মাঠ গবেষণায় ৬৮ শতাংশ জমি এই ঘাসে ঢাকা থাকলে চিনিবিটে গড়ে ৬৭ শতাংশ এবং ৪৪ শতাংশ ঢাকা থাকলে আলুতে ৩৪ শতাংশ ফলন কমেছে। এর শিকড়ের মতো কাণ্ড (রাইজোম) আলুর ভেতর দিয়ে ঢুকে আলু নষ্ট করে।
এটি ছড়ায় মূলত মাটির নিচের ২-১৮ মিলিমিটারের কন্দ দিয়ে, বীজ থেকেও কিছুটা। বেলজিয়ামের গবেষণা বলছে, একটি কন্দ এক মৌসুমে ৭৫০টি নতুন কন্দ তৈরি করতে পারে। প্রতি বর্গমিটারে ১,১০০ থেকে ৫,০০০টি কন্দ পাওয়া গেছে, যার প্রায় ৮৫ শতাংশ মাটির ওপরের ১৫ সেন্টিমিটারে। গরমের উদ্ভিদ বলে উষ্ণতায় দ্রুত বাড়ে এবং অনেক ফসলের পরে গজায়।
যেভাবে চিনবেন: হলদে-সবুজ, কিছুটা চকচকে পাতা কাণ্ড ঘিরে তিন সারিতে সাজানো; কাণ্ড তিনকোনা; মাটির নিচে রাইজোম, গোড়ার কন্দ ও গোলাকার বাদামি কন্দ; ফসলের মধ্যে হলদে-সবুজ ছোপ, আর ফুল এলে হলদে-বাদামি শিষ। অন্য কয়েক জাতের মুথা ও নলখাগড়াজাতীয় ঘাসের সঙ্গে গুলিয়ে যেতে পারে।
জমির প্রবেশপথ, আইল, স্থানান্তর করা মাটি, কন্দজাতীয় ফসল ও ভুট্টার জমি, নালার পাড়, ভাড়া জমি এবং ভাড়াটে যন্ত্রে চাষ হওয়া জমি পরীক্ষা করুন। শুধু পাতা তুলে ফেলবেন না; সন্দেহজনক গাছ সাবধানে খুঁড়ে তুলে বিশেষজ্ঞকে দেখান। কৃষি পরামর্শ সংস্থা অ্যাডাসের আগাছা বিজ্ঞানী জন কাসান্স বলেন, এমন আগাছা খামারে স্থায়ী হয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত। তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার সচেতনতা এবং এটি কতটা ছড়িয়েছে তা জানা।
ছবি: SB Johnny / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)